ADS

ব্রেকিং নিউজ: সৌদি আরবকে ঘিরে বাড়ছে সামরিক চাপ, ইরান–সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলায় নতুন উদ্বেগ আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৯ আগস্ট ২০২৬ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব নতুন করে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আলোচনায় এনেছে। ইরান ও দেশটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ঘিরে সৌদি আরবের ওপর সামরিক চাপ বাড়ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনাও বেড়েছে। সৌদি সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে হুথিদের হামলায় বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন। একই সময়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ উত্তর ও দক্ষিণ—দুই দিক থেকেই সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জানিয়েছে। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী নিয়ে উদ্বেগ সৌদি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ইরান-সমর্থিত কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, জ্বালানি স্থাপনা, বন্দর ও অন্যান্য কৌশলগত স্থাপনায় হামলার চেষ্টা করতে পারে। এ ধরনের আশঙ্কার কারণে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে সৌদি আরবের সামরিক বাহিনী ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলার জবাবে ইরাকে কিছু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছিল। রিয়াদের বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি ভূখণ্ডের জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলার চেষ্টার পর ওই অভিযান চালানো হয়। লোহিত সাগরেও বাড়ছে উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে লোহিত সাগর। হুথিদের সামরিক তৎপরতা শুধু স্থলভাগে সীমাবদ্ধ নেই; সমুদ্রপথেও হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ১৭ আগস্ট সৌদি সামরিক নৌযানকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে হুথিরা। এই দাবির ফলে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্কের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত নিরাপত্তা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সমীকরণ আরও পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে লোহিত সাগর, ইয়েমেন ও উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে এর প্রভাব জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও পড়তে পারে। পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে? সৌদি আরব ও ইরান সরাসরি বড় ধরনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে কি না, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা, ইয়েমেনে নতুন সংঘাত এবং লোহিত সাগরে সামুদ্রিক হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। ১৮ আগস্ট ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯১ ডলারের ওপরে উঠে তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় বলে রয়টার্স জানিয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে শুধু সৌদি আরব বা ইরান নয়, পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সর্বশেষ ঘটনাগুলো নিয়ে আমাদের নিয়মিত আপডেট পেতে চোখ রাখুন www.abnviews.com
Results for 📰 সর্বশেষ সংবাদ

সৌদি আরবকে ঘিরে বাড়ছে সামরিক চাপ, ইরান–সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলায় নতুন উদ্বেগ

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৯ আগস্ট ২০২৬



মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব নতুন করে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আলোচনায় এনেছে। ইরান ও দেশটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ঘিরে সৌদি আরবের ওপর সামরিক চাপ বাড়ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনাও বেড়েছে। সৌদি সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে হুথিদের হামলায় বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন। একই সময়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ উত্তর ও দক্ষিণ—দুই দিক থেকেই সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জানিয়েছে।

ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী নিয়ে উদ্বেগ

সৌদি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ইরান-সমর্থিত কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, জ্বালানি স্থাপনা, বন্দর ও অন্যান্য কৌশলগত স্থাপনায় হামলার চেষ্টা করতে পারে। এ ধরনের আশঙ্কার কারণে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে সৌদি আরবের সামরিক বাহিনী ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলার জবাবে ইরাকে কিছু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছিল। রিয়াদের বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি ভূখণ্ডের জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলার চেষ্টার পর ওই অভিযান চালানো হয়।

লোহিত সাগরেও বাড়ছে উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে লোহিত সাগর। হুথিদের সামরিক তৎপরতা শুধু স্থলভাগে সীমাবদ্ধ নেই; সমুদ্রপথেও হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

১৭ আগস্ট সৌদি সামরিক নৌযানকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে হুথিরা। এই দাবির ফলে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্কের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত নিরাপত্তা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সমীকরণ আরও পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে লোহিত সাগর, ইয়েমেন ও উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে এর প্রভাব জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও পড়তে পারে।

পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে?

সৌদি আরব ও ইরান সরাসরি বড় ধরনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে কি না, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা, ইয়েমেনে নতুন সংঘাত এবং লোহিত সাগরে সামুদ্রিক হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। ১৮ আগস্ট ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯১ ডলারের ওপরে উঠে তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে শুধু সৌদি আরব বা ইরান নয়, পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।


শরীয়তপুরে ৭ লাখ টাকাসহ পোলিং এজেন্ট আটক: যৌথ বাহিনীর বড় অভিযান

February 11, 2026

    শরীয়তপুর প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

    Ai image 


    নির্বাচন ২০২৬-কে কেন্দ্র করে শরীয়তপুরে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। আজ জেলাটিতে যৌথ বাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থসহ একজন পোলিং এজেন্টকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অর্থের পরিমাণ সাত লক্ষাধিক টাকা

    ■ অভিযানের বিস্তারিত

    ​গোপন তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে আটককৃত ব্যক্তির তল্লাশি চালিয়ে ৫০০ টাকার নোটের একাধিক বড় বান্ডিল উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, নির্বাচনের মাঠে ভোটারদের প্রভাবিত করতে বা অবৈধ লেনদেনের উদ্দেশ্যে এই অর্থ আনা হয়েছিল।

    ■ মূল তথ্যসমূহ একনজরে:

    • জব্দকৃত অর্থ: প্রায় ৭,০০,০০০+ নগদ টাকা।
    • আটক ব্যক্তি: একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রের দায়িত্বরত পোলিং এজেন্ট।
    • যৌথ বাহিনী: অভিযানে অংশ নেয় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাবের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ টিম।
    • বর্তমান অবস্থা: আটক ব্যক্তিকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং জব্দকৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করার প্রক্রিয়া চলছে।
    • ​"নির্বাচনকালীন সময়ে অবৈধ অর্থের প্রভাব রোধে আমরা 'জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণ করেছি। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।"

      দায়িত্বরত কর্মকর্তা


      ■ প্রশাসনের কড়া বার্তা

      ​নির্বাচনী সহিংসতা ও টাকার খেলা বন্ধে মাঠ পর্যায়ে কড়া নজরদারি অব্যাহত রেখেছে প্রশাসন। এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো প্রভাবশালী মহলের ইন্ধন আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

যাত্রাবাড়ীতে সেনাবাহিনীর ঝটিকা অভিযান: আমেরিকান পিস্তল ও বিপুল মাদক উদ্ধার

February 06, 2026

ঢাকা | শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Ai image 

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, নগদ অর্থ ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে। শুক্রবার একাত্তর টিভির এক প্রতিবেদনে এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের চিত্র উঠে আসে।

​অভিযানের মূল ঘটনা

​গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি বহুতল ভবনে এই অভিযান চালানো হয়। সেনাবাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত সুকৌশলে পুরো বাড়িটি ঘিরে ফেলেন এবং সন্দেহভাজন কক্ষে তল্লাশি চালান। অভিযানে আসবাবপত্রের আড়ালে এবং সিলিংয়ের ভেতর থেকে লুকানো অবস্থায় অবৈধ মালামাল জব্দ করা হয়।

​উদ্ধারকৃত অবৈধ সরঞ্জামসমূহ:

​তল্লাশি শেষে সেনাবাহিনী নিম্নলিখিত মালামালগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম হয়:

  • অত্যাধুনিক অস্ত্র: একটি ইউএসএ (USA) তৈরি ৯ এমএম পিস্তল।
  • মাদকদ্রব্য: অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক (প্রাথমিকভাবে হিরোইন হিসেবে চিহ্নিত) উদ্ধার করা হয়।
  • নগদ অর্থ: ব্যাগভর্তি বিপুল পরিমাণ দেশি মুদ্রা জব্দ করা হয়েছে।
  • ইলেকট্রনিক ডিভাইস: বেশ কিছু মোবাইল ফোন এবং সিম কার্ড সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।

​যেভাবে উদ্ধার হলো অস্ত্র

​ বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি করার এক পর্যায়ে একটি ব্যাগের ভেতরে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় অস্ত্রটি পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে, আলামিন নামক এক ব্যক্তির বাসায় এই অস্ত্রটি রাখা হয়েছিল। এছাড়া ঘরের ফলস সিলিং খুলে এবং টিভির পেছনেও তল্লাশি চালানো হয়।

​বর্তমান পরিস্থিতি

​আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অবৈধ অস্ত্র ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সেনাবাহিনীর এই বিশেষ অভিযান সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। জব্দকৃত মালামাল এবং আটককৃতদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সীমান্তের ওপার থেকে অস্থিরতার ব্লু-প্রিন্ট: ‘র’-এর ১০৩ সদস্য নিয়ে বাংলাদেশে উচ্চ সতর্কতা

February 05, 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

Ai image 
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্বকে লক্ষ্য করে সীমান্তের ওপার থেকে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের ছক আঁকা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (RAW)-এর প্রত্যক্ষ মদদে ১০৩ সদস্যের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে, যাদের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশে বড় ধরনের অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সারা দেশে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ‘রিমোট কন্ট্রোল’ ষড়যন্ত্র

​প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এই ষড়যন্ত্রের একটি বড় অংশ পরিচালিত হচ্ছে ডিজিটাল মাধ্যমে। সাইবার স্পেস ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে বিশেষ ‘ব্রেইনওয়াশ’ প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।

  • গুজব ছড়ানো: ইউটিউব ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় উসকানিমূলক কন্টেন্ট তৈরি করা হচ্ছে।
  • টার্গেট কিলিং ও অস্থিরতা: দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং স্পর্শকাতর বিষয়গুলোকে টার্গেট করে অস্থিরতা সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে এই চক্রের।
  • প্রযুক্তিগত প্রোপাগান্ডা: আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সীমান্ত এলাকা থেকে ‘রিমোট কন্ট্রোল’ পদ্ধতিতে বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা উসকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর অভেদ্য দেয়াল: প্রযুক্তিগত নজরদারি

​ষড়যন্ত্রের এই ব্লু-প্রিন্ট নস্যাৎ করতে বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

  1. স্মার্ট মনিটরিং: সীমান্তে বিজিবি (BGB) এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ড্রোন ও থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।
  2. সাইবার ওয়াচ: এনটিএমসি (NTMC) এবং পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটগুলো প্রতিটি ডিজিটাল মুভমেন্ট ট্র্যাক করছে।
  3. সমন্বিত পদক্ষেপ: ডিএমপি কমিশনারসহ সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা একটি ‘আনহোলি অ্যালায়েন্স’ বা অশুভ আঁতাত রুখতে কাজ করছেন।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও সতর্কতা

​নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং অপরাধ বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করতেই বাইরের শক্তিগুলো এমন নীল নকশা তৈরি করেছে। ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ‘ডিজিটাল যুদ্ধ’ মোকাবিলায় কেবল নিরাপত্তা বাহিনী নয়, সাধারণ জনগণের সচেতনতাও অপরিহার্য।

উপসংহার:

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো প্রকার আপস না করার ঘোষণা দিয়েছে। যেকোনো প্রকার উসকানি বা সন্দেহজনক কার্যক্রম নজরে এলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: ডেইলি আমার দেশ। 

তারিখ: ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬


ভিডিও কলে স্বামীকে রেখে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা: এক নীরব আর্তনাদের গল্প

February 02, 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক | শরীয়তপুর

Ai image 
প্রবাস মানেই কেবল সচ্ছলতা নয়, প্রবাস মানে অনেক ক্ষেত্রে একরাশ শূন্যতা আর দীর্ঘ অপেক্ষার নাম। শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় ঘটে যাওয়া এক হৃদয়বিদারক ঘটনা আবারও সেই রূঢ় বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এলো। পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপের জেরে মালয়েশিয়া প্রবাসী স্বামীকে ভিডিও কলে রেখে নাদিয়া আক্তার (১৮) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

​বৃহস্পতিবার দুপুরে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভুমখাড়া ইউনিয়নে এই ঘটনাটি ঘটে। প্রবাসী স্বামী সালাম ফকিরের সাথে ভিডিও কলে কথা বলছিলেন নাদিয়া। প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভিডিও কলে কথা বলার সময় নাদিয়া তার একাকিত্ব, শাশুড়ির অবহেলা এবং সংসার সামলানোর যাতনা নিয়ে স্বামীর কাছে অভিযোগ করছিলেন।

যেভাবে ঘটল সেই ট্র্যাজেডি

​কথোপকথনের এক পর্যায়ে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে নাদিয়া চরম সিদ্ধান্ত নেন। স্বামী ওপাশ থেকে বারবার চিৎকার করে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও নাদিয়া কারো কথা শুনতে রাজি ছিলেন না। স্বামীকে লাইভ ভিডিওতে রেখেই তিনি বাথরুমের গ্রিলের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মঘাতী হন। ওপাশে থাকা অসহায় স্বামীর পক্ষে চোখের সামনে স্ত্রীর মৃত্যু দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না।

আইনি পদক্ষেপ ও উদ্ধার

​পরিবারের লোকজন তাৎক্ষণিক টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা মনে হলেও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে। বর্তমানে একটি অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সামাজিক বার্তা

​এই ট্র্যাজেডিটি প্রবাসী পরিবারগুলোর মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ করে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল টাকা পাঠানোই প্রবাসীর দায়িত্ব নয়, দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের মানসিক অবস্থা এবং একাকিত্বের খবর রাখাও সমান জরুরি।

শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ: চিকিৎসাধীন অবস্থায় জামায়াত নেতার মৃত্যু

January 29, 2026


নিজস্ব প্রতিবেদক | শেরপুর ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬



​শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে আসন গ্রহণকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে গুরুতর আহত শ্রীবর্দী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম (৪৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

ঘটনার সূত্রপাত

​গত ২৮ জানুয়ারি বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসন শেরপুর-৩ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে একটি 'নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ' অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠান শুরুর আগে সামনের সারিতে বসা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তা সহিংস সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সহিংসতা ও ক্ষয়ক্ষতি

​প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে সভাস্থলে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। এতে অনুষ্ঠানস্থলের কয়েকশ চেয়ার এবং বাইরে থাকা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত ৩০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

নিহতের পরিচয় ও মৃত্যু

​নিহত মাওলানা রেজাউল করিম শ্রীবর্দী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এবং ফাতেপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। সংঘর্ষে মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় তাকে দ্রুত ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে শেরপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বর্তমান পরিস্থিতি

​এই ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

সাভারে ভবঘুরের ছদ্মবেশে ৭ মাসে ৬ খুন: আস্তানা ছিল থানার পাশেই!

January 19, 2026


সাভার প্রতিনিধি | ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬



​সাভার মডেল থানার ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে একটি পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারে গত সাত মাস ধরে চলছিল এক নারকীয় উৎসব। ভবঘুরের ছদ্মবেশ ধারণ করে পুলিশের নাকের ডগায় বসেই একে একে ৬টি খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে এক দুর্ধর্ষ সিরিয়াল কিলার।

যেভাবে সামনে এলো সত্য

​গত ১৮ জানুয়ারি (রবিবার) ওই পরিত্যক্ত ভবন থেকে আগুনে পোড়া দুটি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপরই বেরিয়ে আসে গা শিউরে ওঠা সব তথ্য। স্থানীয়দের কাছে 'ভবঘুরে' হিসেবে পরিচিত মশিউর রহমান খান সম্রাট (ওরফে সাইকো সম্রাট) দিনের বেলা ব্যাংক কলোনি বা লালটেক এলাকায় বিড়বিড় করে কথা বলে ঘুরে বেড়াত। কিন্তু রাতের আঁধারে সে হয়ে উঠত এক খুনি।

সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল খুনি

​লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। সেখানে দেখা যায়, সম্রাট কাঁধে করে ভারী কিছু (মরদেহ) বহন করে নিয়ে যাচ্ছে। এই শক্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে আটক করে সাভার মডেল থানা পুলিশ।

জনমনে আতঙ্ক ও প্রশ্ন

​সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, যেখানে অপরাধগুলো ঘটেছে তার পাশেই রয়েছে:

  • সাভার মডেল থানা (কয়েক কদম দূরত্বে)
  • সেনাবাহিনীর টহল জোন
  • সাভার প্রেস ক্লাব

​এত প্রশাসনিক নজরদারির মধ্যেও কীভাবে সাত মাসে ছয়টি খুনের ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

পুলিশের পদক্ষেপ

​সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরমান আলী জানিয়েছেন, আটককৃত সম্রাট প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং মৃতদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি বর্তমানে অধিকতর তদন্তাধীন রয়েছে।

সংক্ষেপে মূল তথ্য:

  • আটককৃত ব্যক্তি: মশিউর রহমান খান সম্রাট (সাইকো সম্রাট)।
  • স্থান: পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টার, সাভার।
  • অপরাধ: গত ৭ মাসে ৬টি হত্যাকাণ্ড।
  • চিহ্নিতকরণ: সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে।

​শোক সংবাদ: খাগকান্দার কৃতি সন্তান, প্রখ্যাত মুফাসসিরে কুরআন মাওলানা আব্দুস সালাম জিহাদী আর নেই

January 19, 2026


[নিজস্ব প্রতিবেদক/খাগকান্দা]



​এক নক্ষত্রের পতন! লক্ষ কোটি তৌহিদী জনতাকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে মহান রব্বুল আলামিনের সান্নিধ্যে চলে গেলেন বাংলার প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন, বিশিষ্ট ইসলামিক আলোচক ও মুফাসসিরে কুরআন আলহাজ্ব হযরত মাওলানা আব্দুস সালাম জিহাদী সাহেব (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

​দ্বীনের পথে এক নিবেদিত প্রাণ

​খাগকান্দার কৃতি সন্তান মাওলানা আব্দুস সালাম জিহাদী সাহেব আজীবন পবিত্র কুরআনের খেদমতে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর যুক্তিপূর্ণ আলোচনা এবং সুমধুর কণ্ঠে কুরআনের তাফসীর শোনার জন্য হাজার হাজার মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসতেন। তিনি শুধু একজন বক্তা ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক ও এক যোগ্য দ্বীনি রাহবার।

​জানাজায় মানুষের ঢল

​মরহুমের জানাজায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের বিশাল উপস্থিতি প্রমাণ করেছে তিনি মানুষের কতটা ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা অর্জন করেছিলেন। জানাজার ময়দান জনসমুদ্রে পরিণত হয়, যেখানে প্রিয় এই আলেমকে শেষ বিদায় জানাতে আলেম-ওলামা, ছাত্র এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।

​অপূরণীয় শূন্যতা

​মাওলানা আব্দুস সালাম জিহাদী সাহেবের প্রয়াণে খাগকান্দাসহ পুরো দেশ একজন যোগ্য অভিভাবককে হারালো। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর পরিবার ও ভক্তকূলের দাবি, ইসলামের প্রচার ও প্রসারে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

​দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা

​মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও দেশবাসীর কাছে খাস দোয়ার দরখাস্ত করা হয়েছে। তারা বলেন, "আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের এই দ্বীনি রাহবারের আজীবনের খেদমত কবুল করেন এবং তাঁর কবরকে নূরে নুরান্বিত করে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করেন। আমিন।"

​আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন মরহুমকে ক্ষমা ও রহমতের চাদরে আবৃত করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ধারণ করার শক্তি দান করেন।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: এলাকায় আতঙ্ক

January 17, 2026


নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ | ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬



​নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে গভীর রাতে একটি বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাত দলটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এবং পরিবারের সদস্যদের পিস্তল ঠেকিয়ে মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।

​সিসি ক্যামেরায় দেখা গেল ডাকাতদের উপস্থিতি

​ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, গত রাত আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে ১০-১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল বাড়িতে হানা দেয়। বাড়ির বড় ছেলে সিসিটিভি ফুটেজে বাইরে ডাকাতদের ঘোরাফেরা করতে দেখে সতর্ক হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই ডাকাতরা দরজার লক ভেঙে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে।

​পিস্তল ঠেকিয়ে লুটপাট

​ডাকাতরা ঘরে প্রবেশ করেই পরিবারের সদস্যদের ওপর চড়াও হয়। বাধা দিতে গেলে তারা আগ্নেয়াস্ত্র (পিস্তল) উঁচিয়ে গুলি করার হুমকি দেয় এবং সবাইকে জিম্মি করে ফেলে। ভুক্তভোগী গৃহকর্তা বলেন, "ওরা দরজার লক ভেঙে সরাসরি ভেতরে ঢুকে পড়ে। আমার সামনে পিস্তল ধরে রাখে এবং পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আলমারি ও ড্রয়ার থেকে সর্বস্ব লুটে নেয়।"

​ককটেল ফাটিয়ে পলায়ন

​ডাকাতি শেষে পালানোর সময় ডাকাত দলটি বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে বিকট শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় লোকজন ভয়ে কাছে আসার সাহস পায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ডাকাতদের হাতে পিস্তল ছাড়াও বড় বড় দেশীয় ধারালো অস্ত্র ছিল।

​পুলিশি তদন্ত ও আলামত জব্দ

​খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ডাকাতরা ফেলে যাওয়া একটি বড় ‘দা’ আলামত হিসেবে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।


​মেধা না কি ধর্ম? কাশ্মীরে মুসলিম শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় মেডিকেল কলেজ বন্ধের বিতর্ক

January 17, 2026


​ভারতের কাশ্মীরে শিক্ষা, ধর্ম এবং রাজনীতির এক নজিরবিহীন সংঘাতের খবর সামনে এসেছে। রিয়াসি (Reasi) জেলার পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত শ্রী মাতা বৈষ্ণুদেবী মেডিকেল ইনস্টিটিউট (SMVDMI) হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তে ৫০ জন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

বিতর্কের মূলে কী?

​প্রতিষ্ঠানটি একটি হিন্দু ধর্মীয় ট্রাস্টের অধীনে এবং বৈষ্ণুদেবী মন্দিরের ভক্তদের দানে পরিচালিত। তবে ভারতের নিয়ম অনুযায়ী, এখানে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ নিট (NEET) পরীক্ষার মাধ্যমে। প্রথম ব্যাচে ৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪২ জনই মুসলিম, ৭ জন হিন্দু এবং ১ জন শিখ শিক্ষার্থী ভর্তি হন।

​এই তালিকায় মুসলিম শিক্ষার্থীদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখে স্থানীয় কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ক্ষুব্ধ হন। তাদের দাবি ছিল, হিন্দু ট্রাস্টের টাকায় চলা এই প্রতিষ্ঠানে মুসলিমদের পড়ার অধিকার নেই।

প্রশাসনের যুক্তি বনাম শিক্ষার্থীদের দাবি

​জাতীয় চিকিৎসা কমিশন (NMC) গত ৬ জানুয়ারি কলেজটির স্বীকৃতি বাতিল করে। তাদের পক্ষ থেকে দেওয়া কারণগুলো হলো:

  • ​শিক্ষক এবং কর্মচারীর অভাব।
  • ​পর্যাপ্ত শয্যা ও রোগীর অনুপস্থিতি।
  • ​লাইব্রেরি ও অপারেশন থিয়েটারের মানদণ্ড পূরণ না হওয়া।

শিক্ষার্থীদের পাল্টা অভিযোগ: ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, কলেজের মান অনেক সরকারি কলেজের চেয়েও ভালো ছিল। যেখানে অন্যান্য কলেজে একটি ব্যাচের জন্য মাত্র একটি মৃতদেহ (Cadaver) থাকে, সেখানে এই কলেজে ছিল চারটি। শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, তাদের 'যোগ্যতাকে ধর্মের রঙ' দিয়ে বিচার করে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ

​কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ এবং স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে দেওয়া হবে না। তাদেরকে অন্যান্য সরকারি মেডিকেল কলেজে সমন্বয় (Shift) করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

​তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ভারতের শিক্ষাক্ষেত্রে একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করল। যদি যোগ্যতার চেয়ে ধর্মীয় পরিচয় বড় হয়ে দাঁড়ায়, তবে তা জাতীয় সংহতি এবং মেধার অবমূল্যায়ন ঘটাবে।

অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে গাইবান্ধার এমপি প্রার্থী আজিজার রহমান

January 16, 2026


নিজস্ব প্রতিবেদক | গাইবান্ধা



​গাইবান্ধা-৩ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী আজিজার রহমান অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েছেন। প্রতারক চক্রের দেয়া ডিম খেয়ে জ্ঞান হারানোর পর তিনি তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকা হারিয়েছেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট:

শুক্রবার বিকেলে ঢাকা থেকে গাইবান্ধার উদ্দেশ্যে একটি বাসে রওনা হন আজিজার রহমান। বাসে ভ্রমণকালীন অবস্থায় অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা কৌশলে তাকে ডিম খাওয়ায়। এর কিছুক্ষণ পরেই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। সুযোগ বুঝে প্রতারক চক্রটি তার সর্বস্ব লুটে নিয়ে রংপুরের মডার্ন মোড় এলাকায় তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

উদ্ধার ও পুলিশি তৎপরতা:

সন্ধ্যায় স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে তাজহাট থানা পুলিশ মডার্ন মোড় থেকে তাকে উদ্ধার করে। তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, আজিজার রহমান সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে আপিল করে তার প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছিলেন এবং সেই কাজ শেষ করেই তিনি বাড়ি ফিরছিলেন।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য:

উদ্ধারের পর আজিজার রহমান জানান, "মডার্ন মোড় এলাকা থেকে পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। বাসের ভেতরে তারা আমাকে কিছু খাইয়ে অজ্ঞান করে দিয়েছিল।" তিনি আরও জানান, তার কাছে খুব বেশি টাকা না থাকলেও প্রয়োজনীয় মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়েছে চক্রটি।

​এই ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশ জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

​ঘোষণার আগেই অবরোধ: নিউমার্কেটে স্থবির জনজীবন, ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ

January 15, 2026


নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 

 


রাজধানীর নিউমার্কেট ও নীলক্ষেত এলাকায় আন্দোলনকারীদের আকস্মিক অবরোধে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পূর্বঘোষিত সময়ের অন্তত আধা ঘণ্টা আগেই রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় কয়েকশ যানবাহন আটকা পড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট।

সময়ের আগেই বন্ধ রাস্তা

​আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দুপুর ১টায় অবরোধের কথা জানানো হলেও, বাস্তবে দুপুর ১২:৩০টার পর থেকেই যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী এক বাস চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ওনারা বলেছিলেন ১টা থেকে রাস্তা বন্ধ করবেন, কিন্তু ১২:৩০ বাজতেই আমাদের আটকে দিয়েছেন। এই আধা ঘণ্টা সময় পেলে আমরা অন্তত গাবতলী পার হয়ে যেতে পারতাম।"

বিকল্প পথের অভাব ও বৈষম্যের অভিযোগ

​অবরোধে আটকে পড়া সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গাড়িগুলো পার করে দেওয়ার পরপরই সাধারণ মানুষের জন্য রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। নীলক্ষেত বা ঢাকা কলেজের সামনের ইউটার্নগুলো ব্যবহারের সুযোগ না দিয়েই মাঝপথে গাড়ি আটকে দেওয়ায় কোনো বিকল্প পথে যাওয়ার উপায় ছিল না।

​আটকে পড়া এক অভিভাবক জানান, স্কুলে বাচ্চা আনতে যাওয়ার পথে তিনি আটকা পড়েছেন। দীর্ঘক্ষণ অনুরোধ করলেও আন্দোলনকারীরা তাকে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি।

আন্দোলনকারীদের অবস্থান

​রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হলে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে সোজাসাপ্টা জানানো হয়— কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। দায়িত্বরত এক আন্দোলনকারী বলেন, "সবাইকে যদি ছেড়ে দিই, তাহলে আমাদের কর্মসূচির গুরুত্ব থাকল কই? ছাড়ার কোনো অপশন নেই, প্রশাসনের সাথে কথা বলেন।"

জনসাধারণের ক্ষোভ

​সাধারণ মানুষ এই অব্যবস্থাপনাকে 'সুস্থ আন্দোলন' হিসেবে দেখছেন না। তাদের মতে, আন্দোলনের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হওয়াটা দুঃখজনক। বিশেষ করে বৃহস্পতিবারের মতো ব্যস্ত দিনে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না রেখে এভাবে জনজীবন স্থবির করে দেওয়া সাধারণ মানুষের মাঝে হতাশা তৈরি করছে।

একনজরে মূল পয়েন্টগুলো:

  • ​১টার বদলে ১২:৩০টা থেকে অবরোধ শুরু।
  • ​বিকল্প রাস্তা না থাকায় কয়েকশ যাত্রীবাহী বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি আটকা।
  • ​স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তি।
  • ​ঘোষিত সময়ের আগে রাস্তা বন্ধ করা নিয়ে চালকদের তীব্র অসন্তোষ।

১১ দলীয় জোটে আসন জট: ইসলামী আন্দোলনকে ছাড়াই ১০ দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

January 15, 2026


নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 

তারিখ: ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬



​আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১ দলীয় জোটের ভেতরে আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আজ দুপুরে মগবাজারে জামায়াত কার্যালয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ব্যতিরেকে জোটের বাকি ১০টি দলের শীর্ষ নেতারা এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হন।

​আসন বণ্টন নিয়ে ধোঁয়াশা

​দীর্ঘদিন ধরে ১১ দলীয় জোটের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি শরিক দলগুলো। গত বুধবার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আনুষ্ঠানিকভাবে আসন বণ্টনের ঘোষণা দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়। মূলত ইসলামী আন্দোলনের সাথে আসন সংখ্যা নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

​জোটের বর্তমান সমীকরণ

​বৈঠক সূত্রে জানা যায়, জোটের অন্যতম শরিক দল এনসিপি (NCP) ৩০টি আসন পাওয়ার বিষয়ে অনেকটা নিশ্চিত হলেও ইসলামী আন্দোলনের দাবি এবং প্রস্তাবিত আসনের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়ে গেছে। আজকের বৈঠকে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল:

  • ​ইসলামী আন্দোলন শেষ পর্যন্ত জোটে থাকবে কি না?
  • ​থাকলে তাদের জন্য কতটি আসন বরাদ্দ রাখা হবে?
  • ​অন্য ১০টি দলের মধ্যে আসন বণ্টনের চূড়ান্ত রূপরেখা।

​নেতাদের বক্তব্য

​ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান জানিয়েছেন, তারা জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী এবং এ বিষয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি ইসলামী আন্দোলন জোটের সাথেই থাকবে এবং খুব দ্রুতই আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ ঘোষণা দিতে পারব।"

​পরবর্তী পদক্ষেপ

​আজকের এই বৈঠক শেষে জোটের নেতারা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে। সেখান থেকেই হয়তো পরিষ্কার হবে ১১ দলীয় জোট কি পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামছে, নাকি ইসলামী আন্দোলনকে ছাড়াই তাদের এগোতে হবে।

আরও পড়ুন: [রাজনীতি ও নির্বাচন বিষয়ক সর্বশেষ আপডেট পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।]

সিলেটে শীতের প্রকোপ: শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন, হাসপাতালে উপচে পড়া ভিড়

January 13, 2026


নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট



সারাদেশের মতো সিলেটেও জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে ঠান্ডাজনিত নানা রোগ। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, জ্বর ও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

শিশুর ও বৃদ্ধরাই বেশি ঝুঁকিতে

​চিকিৎসকদের মতে, বর্তমান আবহাওয়া শিশু এবং বয়স্কদের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইএমসি কর্নারে আসা রোগীদের বড় একটি অংশই শিশু। মূলত শ্বাসকষ্ট, তীব্র কাশি এবং ভেরি সিভিয়ার নিউমোনিয়া নিয়ে তারা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।

বিভাগীয় পরিসংখ্যান

​স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী:

  • আক্রান্তের সময়কাল: ৫ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ১০ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত।
  • মোট আক্রান্ত: সিলেট বিভাগে প্রায় ৩,৮৮৫ জন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
  • শীর্ষ জেলা: সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলায় রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি

​হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শীতকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন।

  • আইএমসি কর্নার (IMCI Corner): নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুদের বিশেষ সেবা নিশ্চিত করতে এই কর্নারকে সার্বক্ষণিক সতর্ক রাখা হয়েছে।
  • ওষুধের সরবরাহ: জরুরি সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টের ওষুধের পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে।
  • ভর্তি প্রক্রিয়া: গুরুতর রোগীদের বিলম্ব না করে দ্রুত ভর্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
  • ​"শিশুরা সাধারণত শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া নিয়ে বেশি আসছে। আমরা আইএমসি কর্নারকে এলার্ট রেখেছি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করেছি।"

    ডিউটি ডাক্তার, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।


    সতর্কতা ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

    ​তীব্র এই শীতে সুস্থ থাকতে চিকিৎসকরা কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন:

    1. কুয়াশা থেকে দূরে থাকুন: বিশেষ করে সকালে ও রাতে শিশু ও বৃদ্ধরা যেন সরাসরি কুয়াশা বা ঠান্ডা বাতাসের সংস্পর্শে না আসে।
    2. গরম পোশাক: বাইরে বের হওয়ার সময় কানটুপি, মাফলার এবং পর্যাপ্ত গরম কাপড় ব্যবহার করুন।
    3. দ্রুত চিকিৎসা: শ্বাসকষ্ট বা তীব্র জ্বর দেখা দিলে ঘরে বসে না থেকে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।

    ​সিলেটের কুয়াশাচ্ছন্ন এই পরিস্থিতি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই সাধারণ মানুষকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

ইরানের পাল্টা আঘাত: অচল করে দিল ইলন মাস্কের স্টারলিংক, হতভম্ব যুক্তরাষ্ট্র

January 13, 2026


নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬



​মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট ও ধনকুবের ইলন মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা 'স্টারলিংক' সফলভাবে অচল করে দিয়েছে ইরান। উন্নত সামরিক জ্যামিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটিয়েছে তেহরান। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রযুক্তি যে অপরাজেয় নয়, ইরান তা হাতে-কলমে প্রমাণ করে দিল।

​সংযোগ বিপর্যয়ের চিত্র

​আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে বর্তমানে কয়েক হাজার স্টারলিংক রিসিভার ইউনিট সক্রিয় থাকলেও সেগুলোর সংযোগ এখন প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। শুরুতে ইন্টারনেট ট্রাফিকের ৩০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বর্তমানে ৮০ শতাংশেরও বেশি সংযোগ অচল হয়ে পড়েছে। স্টারলিংক কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

​যেভাবে অচল করা হলো স্টারলিংক

​প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্টারলিংক রিসিভারগুলো মূলত গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম বা জিপিএস (GPS) সিগন্যালের ওপর নির্ভর করে কাজ করে। ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর থেকেই ইরান কৌশলগতভাবে জিপিএস সিগন্যাল জ্যাম করা শুরু করে। শক্তিশালী এই জ্যামিং সিগন্যালের কারণেই স্টারলিংকের স্যাটেলাইট সংযোগ পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

​প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক প্রভাব

​ইরানে স্টারলিংক ব্যবহারের কোনো সরকারি অনুমোদন নেই। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন উপায়ে দেশটিতে রিসিভারগুলো পাঠানো হয়েছিল। মূলত:

  • বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ: দেশটিতে চলমান বিক্ষোভের সময় বিক্ষোভকারীরা যোগাযোগের জন্য স্টারলিংককে 'লাইফলাইন' হিসেবে ব্যবহার করছিল।
  • মার্কিন তৎপরতা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে ইন্টারনেট সচল রাখতে ইলন মাস্কের সঙ্গে বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
  • বৈশ্বিক গুরুত্ব: ইউক্রেন যুদ্ধ বা মিয়ানমারের সংঘাত—সবখানেই স্টারলিংক মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় বড় হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু ইরানের এই প্রযুক্তিগত সাফল্য যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।

​সরকারের বক্তব্য

​ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ইন্টারনেট সংযোগ পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। তবে বিদেশি দূতাবাস এবং সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংযোগ দেওয়া হবে।

আড়াইহাজারে যৌথ বাহিনীর বড় অভিযান: অস্ত্র-মাদকসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী নাইম ও তার স্ত্রী গ্রেপ্তার

January 12, 2026


আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে যৌথ বাহিনীর এক সফল অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র, মাদক এবং নগদ টাকাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে উপজেলার ধন্দি কামালদি এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।

​রোববার বিকেলে আড়াইহাজার থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সোনারগাঁও আর্মি ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন তৌফিক আহমেদ অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:

​যৌথ বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— ওই এলাকার চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী নাইম, তার স্ত্রী রুনা আক্তার, সহযোগী সুমন এবং রুবেল ভুইয়া

উদ্ধারকৃত মালামাল:

​অভিযানকালে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে যৌথ বাহিনী উদ্ধার করে:

  • অস্ত্র: ২টি দেশীয় পিস্তল, কার্তুজ ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় ধারালো অস্ত্র।
  • মাদক: উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইয়াবা ও মদ।
  • নগদ টাকা: মাদক বিক্রির ১৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা
  • অন্যান্য: ৫টি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন।

বর্তমান অবস্থা:

​পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আড়াইহাজার থানায় অস্ত্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যৌথ বাহিনীর এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।

তারেক রহমানকে মাহমুদুর রহমানের সতর্কবার্তা: গণমাধ্যমের ভোল পাল্টানো ও আগামীর রাজনীতি

January 12, 2026



বাংলাদেশে দেড় দশকের দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর রাজনৈতিক দৃশ্যপটে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। তবে এই পরিবর্তনের মাঝে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে গণমাধ্যম ও একশ্রেণীর অলিগার্ক ব্যবসায়ীদের 'ভোল পাল্টানো' ভূমিকা। সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভার পরিপ্রেক্ষিতে 'আমার দেশ' সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের দেওয়া বিশেষ সতর্কবার্তা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

চাটুকারিতার পুরনো সংস্কৃতি ও নতুন মুখ

 হাসিনা সরকারের আমলে যে গণমাধ্যমগুলো গুম, খুন এবং বিরোধী দমনের পক্ষে কাজ করেছিল, তাদের অনেকেই এখন ভোল পাল্টে বিএনপির নব্য সমর্থক হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। মতবিনিময় সভায় দেখা গেছে, অনেক সাংবাদিক ও সম্পাদক তারেক রহমানের প্রশংসা ও তোষামোদে লিপ্ত হয়েছেন। যদিও তারেক রহমান নিজেকে 'মাননীয়' সম্বোধন করতে নিষেধ করেছেন এবং চাটুকারিতা নিরুৎসাহিত করছেন, তবুও এই সুবিধাভোগী গোষ্ঠী তাদের পুরনো অভ্যাস বদলাতে পারছে না।

তারেক রহমানের প্রতি মাহমুদুর রহমানের বিশেষ বার্তা

​সম্পাদক মাহমুদুর রহমান তারেক রহমানকে একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত দিয়ে সতর্ক করেছেন:

  • ইতিহাসের শিক্ষা: তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশে ছিলেন না এবং ফিরে এসে প্রকৃত সত্য জানার চেয়ে চাটুকার ও নির্দিষ্ট পক্ষের দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করেছিলেন, যা তার রাজনৈতিক ব্যর্থতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
  • বর্তমান ঝুঁকি: মাহমুদুর রহমান সতর্ক করে বলেন, "আপনি ১৭ বছর দেশে ছিলেন না। এখন গণমাধ্যমের যেসব 'নতুন বন্ধু' আপনার প্রশংসা করছে, তারা আপনাকে সঠিক ইতিহাস বলছে না।" তিনি মনে করেন, এই তোষামোদকারীরা তারেক রহমানকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

বিবেকের আদালত: গণমাধ্যমের অতীত ভূমিকা

​বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, আজকের এই 'বন্ধু' সাংবাদিকরাই একসময় বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের চরিত্র হননে লিপ্ত ছিলেন।

  • ২০০৭-এর ভূমিকা: ওয়ান-ইলেভেনের সময় বিএনপিকে 'দুর্বৃত্ত চক্র' আখ্যা দেওয়া পত্রিকাগুলো এখন ভোল বদলেছে।
  • ফ্যাসিবাদ উসকে দেওয়া: শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ থেকে শুরু করে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের 'সন্ত্রাসী' হিসেবে তুলে ধরার পেছনে এই মিডিয়াগুলোর সক্রিয় ভূমিকা ছিল।

উপসংহার: বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ

​প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তারেক রহমান যদি এই সুবিধাভোগী ও অলিগার্ক ব্যবসায়ীদের পরামর্শে চলেন, তবে বিএনপি বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয়ে পড়তে পারে। কারণ, এই গোষ্ঠীটি কেবল ক্ষমতার অনুসারী; যখনই দল দুর্বল হবে, তারা পুনরায় রূপ পরিবর্তন করবে। এখন প্রশ্ন হলো, তারেক রহমান এই তোষামোদকারীদের বলয় ভেঙে প্রকৃত জনমতের সাথে যুক্ত থাকতে পারবেন কি না।




বাংলাদেশ-পাকিস্তান বিমান বাহিনী প্রধানের বৈঠক: কৌশলগত সমীকরণে নতুন মোড়

January 10, 2026

 

ঢাকা: দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক সফরে পাকিস্তান সফর করেছেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। ইসলামাবাদে পাকিস্তান বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধুর সাথে তাঁর এই বৈঠকটি কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এতে উঠে এসেছে দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, আধুনিক যুদ্ধবিমান ক্রয় এবং প্রযুক্তি বিনিময়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো।

​১. আলোচনার কেন্দ্রে জেএফ-১৭ (JF-17) থান্ডার

​এই বৈঠকের সবচেয়ে আলোচিত দিক ছিল চীন ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত জেএফ-১৭ (JF-17) থান্ডার যুদ্ধবিমান। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ফোর্সেস গোল-২০৩০ এবং আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে এই সাশ্রয়ী ও বহুমুখী যুদ্ধবিমানটি সংগ্রহের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়েছে। পশ্চিমা যুদ্ধবিমানের তুলনায় এর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কম এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ বেশি থাকায় এটি বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে।

​২. প্রশিক্ষণ ও অপারেশনাল সহযোগিতা

​বৈঠকে দুই দেশের বিমান বাহিনীর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে:

  • যৌথ প্রশিক্ষণ: আধুনিক যুদ্ধ কৌশল ও অপারেশনাল পরিকল্পনা বিনিময়ে যৌথ প্রশিক্ষণের সম্ভাবনা।
  • বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতা: পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ও সীমান্ত সুরক্ষার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া।
  • কারিগরি সহায়তা: গ্রাউন্ড ক্রু এবং ইঞ্জিনিয়ারদের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রদান।

​৩. মহাকাশ প্রযুক্তি ও সাইবার প্রতিরক্ষা

​আধুনিক যুদ্ধের অপরিহার্য অংশ হলো মহাকাশ ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তি। বৈঠকে মহাকাশ প্রযুক্তিতে সহযোগিতা এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট এবং পাকিস্তানের মহাকাশ গবেষণার অভিজ্ঞতা দুই দেশের সামরিক সক্ষমতাকে আরও সংহত করতে পারে।

​৪. ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি ও সামরিক কূটনীতি

​বাংলাদেশ সবসময় একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি মেনে চলে। কোনো নির্দিষ্ট শক্তির ওপর নির্ভরশীল না থেকে চীন, রাশিয়া, তুরস্ক এবং পশ্চিমা দেশগুলোর পাশাপাশি পাকিস্তানের সাথে এই সামরিক যোগাযোগকে বাংলাদেশের বহুমুখী কৌশলগত সম্পর্কের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে পুরনো বিমান বহরের রক্ষণাবেক্ষণ এবং আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

​৫. ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

​প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতির সমীকরণে অস্ত্র কেনাবেচা কেবল একটি বাণিজ্যিক বিষয় নয়, এটি কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলে। তাই কৌশলগত এই সিদ্ধান্তগুলো বাংলাদেশকে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে নিতে হবে।

সারসংক্ষেপ: বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধানের এই পাকিস্তান সফর দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের বরফ গলানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী ও স্বনির্ভর বিমান বাহিনী গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জে যৌথবাহিনীর বড় অভিযান: লুট হওয়া অস্ত্র ও নগদ টাকাসহ আটক ৫

January 09, 2026

 নিজস্ব প্রতিবেদক | আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ



​নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে যৌথবাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে থানা থেকে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

​অভিযানের বিস্তারিত

​শুক্রবার (৯ জানুয়ারি, ২০২৬) ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নে এই অভিযান শুরু হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীনস্থ ৪৫ এমএলআরএস রেজিমেন্ট আর্টিলারি এবং পুলিশের সমন্বয়ে মোট ১৫০ জন সদস্য (১৪০ জন সেনা ও ১০ জন পুলিশ) এই অভিযানে অংশ নেন। অপরাধীদের পালানোর পথ বন্ধ করতে নদীপথ ও স্থলপথ ঘিরে ফেলে এই 'কর্ডন অ্যান্ড সার্চ' অপারেশন চালানো হয়।

​উদ্ধারকৃত মালামাল

​অভিযান শেষে যৌথবাহিনী নিম্নলিখিত সরঞ্জাম উদ্ধারের তালিকা নিশ্চিত করেছে:

  • অস্ত্র ও গুলি: আড়াইহাজার থানা থেকে লুট হওয়া একটি ৯ মিমি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, ১০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি এবং ৫ রাউন্ড শর্টগানের গুলি।
  • দেশীয় ও অন্যান্য অস্ত্র: ৮টি ককটেল, বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, চাইনিজ কুড়াল এবং ইলেকট্রিক শটগান।
  • অর্থ ও মাদক: নগদ ১০ লক্ষাধিক টাকা, একটি মোবাইল ফোন এবং বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য।

​প্রেক্ষাপট ও লক্ষ্য

​সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কালাপাহাড়িয়া এলাকাটি নদীবেষ্টিত ও ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এখানে অপরাধী চক্র সক্রিয় ছিল। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

​সেনা কর্মকর্তারা জানান, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ভবিষ্যতে এই ধরণের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। আটককৃতদের এবং উদ্ধারকৃত মালামাল পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে যৌথবাহিনীর বড় অভিযান: বিদেশি পিস্তল, বিপুল অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার

January 09, 2026
অনলাইন ডেস্ক | নারায়ণগঞ্জ



নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার মেঘনা নদীবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চলে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে যৌথবাহিনী। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি, ২০২৬) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র, ককটেল এবং মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।

​অভিযানের বিস্তারিত

​স্থানীয় সূত্র ও প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের খালিয়ারচর, মধ্যারচর ও কুড়িপাড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম ঘিরে এই চিরুনি অভিযান চালানো হয়। মূলত এলাকাটিকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে এবং নিয়মিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বন্ধের উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনীর বিশেষ টিমের নেতৃত্বে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

​উদ্ধারকৃত অস্ত্রের তালিকা

​অভিযান চলাকালীন যৌথবাহিনী এখন পর্যন্ত যা যা উদ্ধার করেছে:

  • আগ্নেয়াস্ত্র: ২টি বিদেশি পিস্তল এবং কয়েক রাউন্ড তাজা গুলি।
  • দেশীয় অস্ত্র: টেঁটা, বল্লম, রামদা, চাপাতি ও ছুরিসহ প্রায় ৪০০-এর বেশি দেশীয় অস্ত্র।
  • বিস্ফোরক ও মাদক: বিপুল পরিমাণ ককটেল এবং মাদকদ্রব্য।
  • নগদ অর্থ: তল্লাশিকালে উদ্ধার করা হয়েছে মোটা অঙ্কের নগদ টাকা।

​কেন এই অভিযান?

​কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নটি দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। চরাঞ্চলের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এখানে প্রায়ই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসীদের দমনে এবং জনমনে স্বস্তি ফেরাতে যৌথবাহিনী সকাল ৭টা থেকেই এলাকাটি ঘিরে ফেলে অভিযান শুরু করে।

​বর্তমান পরিস্থিতি

​শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, দুর্গম চরাঞ্চলের বিভিন্ন বাড়িতে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযান পুরোপুরি শেষ হওয়ার পর প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে উদ্ধারকৃত মালামালের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এবং আটকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে যৌথবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

Advertisement

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে প্রদর্শন করুন (৭২৮x৯০)

Powered by Blogger.