ADS

ব্রেকিং নিউজ: সৌদি আরবকে ঘিরে বাড়ছে সামরিক চাপ, ইরান–সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলায় নতুন উদ্বেগ আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৯ আগস্ট ২০২৬ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব নতুন করে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আলোচনায় এনেছে। ইরান ও দেশটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ঘিরে সৌদি আরবের ওপর সামরিক চাপ বাড়ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনাও বেড়েছে। সৌদি সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে হুথিদের হামলায় বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন। একই সময়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ উত্তর ও দক্ষিণ—দুই দিক থেকেই সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জানিয়েছে। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী নিয়ে উদ্বেগ সৌদি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ইরান-সমর্থিত কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, জ্বালানি স্থাপনা, বন্দর ও অন্যান্য কৌশলগত স্থাপনায় হামলার চেষ্টা করতে পারে। এ ধরনের আশঙ্কার কারণে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে সৌদি আরবের সামরিক বাহিনী ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলার জবাবে ইরাকে কিছু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছিল। রিয়াদের বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি ভূখণ্ডের জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলার চেষ্টার পর ওই অভিযান চালানো হয়। লোহিত সাগরেও বাড়ছে উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে লোহিত সাগর। হুথিদের সামরিক তৎপরতা শুধু স্থলভাগে সীমাবদ্ধ নেই; সমুদ্রপথেও হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ১৭ আগস্ট সৌদি সামরিক নৌযানকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে হুথিরা। এই দাবির ফলে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্কের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত নিরাপত্তা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সমীকরণ আরও পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে লোহিত সাগর, ইয়েমেন ও উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে এর প্রভাব জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও পড়তে পারে। পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে? সৌদি আরব ও ইরান সরাসরি বড় ধরনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে কি না, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা, ইয়েমেনে নতুন সংঘাত এবং লোহিত সাগরে সামুদ্রিক হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। ১৮ আগস্ট ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯১ ডলারের ওপরে উঠে তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় বলে রয়টার্স জানিয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে শুধু সৌদি আরব বা ইরান নয়, পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সর্বশেষ ঘটনাগুলো নিয়ে আমাদের নিয়মিত আপডেট পেতে চোখ রাখুন www.abnviews.com
Results for 🟦 রাজনীতি

বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ খবর: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নজরকাড়া নানা ঘটনা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৮ আগস্ট ২০২৬



বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি, কূটনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রতিদিনই নানা পরিবর্তন ঘটছে। বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক তৎপরতা এবং আঞ্চলিক ঘটনাবলি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।

আজকের আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে বিশেষভাবে নজর রয়েছে বিভিন্ন দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের দিকে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের এসব ঘটনাপ্রবাহের প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট দেশেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি বাজার ও কূটনৈতিক সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়ছে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বর্তমানে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন ইস্যুতে দেশগুলোর অবস্থান, আলোচনা ও পাল্টা বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলের নজর কাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দেশগুলো নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে নতুন কৌশল গ্রহণ করছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।

নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আন্তর্জাতিক সংবাদে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে আছে। সংঘাত, সামরিক প্রস্তুতি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার, বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

অর্থনীতি ও বৈশ্বিক বাজার

রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিও রয়েছে আলোচনায়। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি, পণ্য পরিবহন এবং বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারকদের নজর রয়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতির বড় দেশগুলোর সিদ্ধান্ত এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন সামনে বাজারে নতুন প্রভাব তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির যেকোনো বড় পরিবর্তন বাংলাদেশের ওপরও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বৈদেশিক বাণিজ্য, জ্বালানি, রেমিট্যান্স, আমদানি-রপ্তানি এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক ঘটনাগুলো গুরুত্বপূর্ণ।

তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের দিকে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারক ও সাধারণ মানুষের নজর রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সর্বশেষ ঘটনাগুলো নিয়ে আমাদের নিয়মিত আপডেট পেতে চোখ রাখুন  www.abnviews.comএ।

সরাসরি ভোটে হেরেও কি সংসদে যাচ্ছেন নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী ও সারজিস আলমরা? জেনে নিন নতুন সমীকরণ

February 13, 2026

ঢাকা, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬



কল্পনা করুন, নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে আপনি বিপুল ভোটে হেরে গেলেন, কিন্তু কয়েকদিন পরেই খবর এলো আপনি হতে যাচ্ছেন দেশের অন্যতম নীতিনির্ধারক বা সংসদ সদস্য! শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, বাংলাদেশের প্রস্তাবিত নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এটিই হতে যাচ্ছে বাস্তবতা।

​বর্তমানে সারাদেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে—ব্যালট যুদ্ধে হেরে গিয়েও কীভাবে অনেক আলোচিত নেতা সংসদে পা রাখতে পারেন? এটি কোনো ম্যাজিক নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সংসদীয় কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

কী এই দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা?

​এই বিস্ময়কর প্রক্রিয়ার মূলে রয়েছে প্রস্তাবিত দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থা। বর্তমানে আমাদের দেশে শুধুমাত্র ৩০০ আসনের সরাসরি নির্বাচন হয়। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী:

  • নিম্নকক্ষ: যেখানে প্রার্থীরা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন।
  • উচ্চকক্ষ (সিনেট): এর সদস্যরা সরাসরি ভোটে নয়, বরং পিআর পদ্ধতি (Proportional Representation) বা আনুপাতিক হারে মনোনীত হবেন।

সহজ ব্যাখ্যা: একটি রাজনৈতিক দল সারাদেশে মোট কত শতাংশ ভোট পেল, তার ওপর ভিত্তি করে উচ্চকক্ষে তাদের আসন সংখ্যা নির্ধারিত হবে। অর্থাৎ, দলের কোনো হেভিওয়েট নেতা নিজ আসনে পরাজিত হলেও, দলের প্রাপ্ত ভোটের জনপ্রিয়তায় ভর করে 'সিনেট সদস্য' হিসেবে তিনি ঠিকই জাতীয় সংসদে জায়গা করে নিতে পারবেন।

সংসদে যাওয়ার দৌড়ে আলোচনায় যারা

​নতুন এই নিয়মে উচ্চকক্ষে বসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ও তরুণ নেতার:

  1. জাতীয় নাগরিক কমিটি: নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম।
  2. বিএনপি ও অন্যান্য জোট: ঢাকা-১৬ আসনের আমিনুল হকসহ অভিজ্ঞ নেতারা।
  3. জামায়াতে ইসলামী: সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ডক্টর হামিদুর রহমান আজাদ এবং অ্যাডভোকেট শিশির মনির।
  4. ইসলামী ঘরানার দল: ইসলামী আন্দোলনের মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা মামুনুল হক।

রাজনীতিতে এর প্রভাব কী?

​এই পদ্ধতি কার্যকর হলে বড় দলগুলো তাদের যোগ্য ও বিশেষজ্ঞ নেতৃত্বকে নির্বাচনের হারের পরেও সংসদে কাজে লাগাতে পারবে। তারা সংসদ সদস্য (MP) হিসেবে পরিচিত না হলেও, তাদের মূল পরিচয় হবে 'সিনেট সদস্য'

​বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ব্যবস্থা দেশের আইন প্রণয়নে অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে, যা গতানুগতিক 'বিজয়ী-বিজিত' ব্যবধানকে কমিয়ে আনবে। মাঠের লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে এই প্রভাবশালী নেতাদের উপস্থিতি বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।


পঞ্চগড়ে সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার চেষ্টা: উত্তপ্ত নির্বাচনী মাঠ

February 11, 2026


নিজস্ব প্রতিবেদক | পঞ্চগড় 

Ai image 

নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পঞ্চগড়। আটোয়ারী উপজেলায় নির্বাচনী জনসভা শেষে ফেরার পথে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলমের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং তার নিজের গাড়িবহর আটকে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি (২০২৬) সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সূত্রপাত সারজিস আলমের দাবি অনুযায়ী, আটোয়ারী উপজেলায় একটি বিশাল জনসভা শেষে ফেরার পথে ধামর ও মির্জাপুর ইউনিয়নে এই হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির কিছু নেতাকর্মী ও সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা গুরুতর এবং তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এমনকি ৫৮-৬০ বছর বয়সী এক নারী কর্মীকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে।

ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ হামলার খবর পেয়ে সারজিস আলম যখন ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন বিভিন্ন পয়েন্টে লাঠিসোঁটা নিয়ে তার গাড়িও আটকানোর চেষ্টা করা হয়। তিনি বলেন:

"ভোটারদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্যই এই হামলা। তারা চায় সাধারণ মানুষ যেন ভোটকেন্দ্রে না যায়। এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক নোংরামি ছাড়া আর কিছুই নয়।"


​সারজিস আলম আরও দাবি করেন, হামলাকারীরা নিজেরা কোনো আঘাত না পেয়েও হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ‘অভিনয়’ করছে এবং মিথ্যা দায় চাপানোর চেষ্টা করছে।

প্রশাসনের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি ঘটনার পর জেলা প্রশাসন ও রিটার্নিং অফিসারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, প্রশাসন কেবল ‘হাত মিলিয়ে’ মীমাংসা করে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা অপরাধীদের আরও সাহসী করে তুলছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন:

"প্রশাসন যদি কঠোর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তবে আমরা রাজনৈতিকভাবে সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করতে বাধ্য হবো। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।"


প্রমাণ হিসেবে ভিডিও ফুটেজ হামলার চেষ্টার সময় সারজিস আলমের গাড়িতে থাকা ক্যামেরায় পুরো ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রেকর্ড হয়েছে বলে তিনি জানান। এই ভিডিওটি প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর এবং জনসম্মুখে প্রকাশ করার কথা জানানো হয়েছে।

​ডা. শফিকুর রহমান: বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের নাম

February 10, 2026
Ai image 

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন পরিবর্তনের হাওয়া। দীর্ঘদিনের চেনা ছক ভেঙে নতুন কিছু মুখ এবং নেতৃত্ব আলোচনায় উঠে আসছে। এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর মধ্যে অন্যতম হলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ডামাডোলে তিনি কেবল একটি দলের প্রধান নন, বরং ক্ষমতার ভারসাম্যের এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে পরিণত হয়েছেন।

১. অস্পৃশ্যতা থেকে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু

​কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক এলিট বা বিদেশি কূটনীতিকরা জামায়াত নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে কুণ্ঠাবোধ করতেন। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে সেই চিত্র এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। পশ্চিমা শক্তি থেকে শুরু করে প্রতিবেশী ভারতের কূটনীতিকরাও এখন ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে টেবিলে বসছেন। এটি কেবল তার ব্যক্তিগত ক্যারিশমা নয়, বরং দেশের ভেঙে পড়া রাজনৈতিক কাঠামোতে জামায়াতের শক্তিশালী প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত।

২. ২০৪০ সালের ভিশন ও অর্থনৈতিক রোডম্যাপ

​ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াত এখন কেবল আদর্শিক আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চাইছে না। তাদের সাম্প্রতিক ইশতেহারে ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি ২ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তি-নির্ভর কৃষি, স্বাস্থ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা রাষ্ট্র পরিচালনার প্রস্তুতি জানান দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা একে দেখছেন জামায়াতের "মডার্ন স্টেট" বা আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার একটি মহড়া হিসেবে।

৩. তরুণ প্রজন্মের 'দাদু'

​সাধারণত ধর্মীয় দলগুলোর প্রতি তরুণদের এক ধরনের দূরত্ব থাকলেও ডা. শফিকুর রহমান সেটি ঘোচাতে সক্ষম হয়েছেন। তরুণদের সাথে তার সম্মানজনক ও মার্জিত আলাপচারিতা তাকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক তরুণ তাকে ভালোবেসে 'দাদু' বলে সম্বোধন করেন, যা বাংলাদেশের রক্ষণশীল রাজনীতিতে এক বিরল দৃশ্য।

৪. চ্যালেঞ্জ যেখানে: অতীত ও বর্তমানের টানাপোড়েন

​এত ইতিবাচক আলোচনার মাঝেও ডা. শফিকুর রহমানের সামনে কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে:

  • অতীতের বোঝা: ১৯৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে আজও জামায়াতকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। যদিও ডা. শফিকুর রহমান সূক্ষ্মভাবে অতীতের ভুল স্বীকারের ইঙ্গিত দিয়েছেন, তবে তা কতটুকু কার্যকর হবে তা সময় বলে দেবে।
  • নারী নেতৃত্ব: আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নারী নেতৃত্ব নিয়ে তার রক্ষণশীল অবস্থান আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার সাথে কিছুটা সাংঘর্ষিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৫. ব্যক্তিগত ত্যাগ ও নেতৃত্বের ধরন

​একজন সাবেক সরকারি চিকিৎসক হিসেবে তার শান্ত ও ধীরস্থির স্বভাব তাকে অন্যান্য মারমুখী নেতাদের থেকে আলাদা করেছে। ২০২২ সালে কারাবরণ এবং পরবর্তীতে মুক্তি পাওয়ার পর তার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আরও পোক্ত হয়েছে। সমাবেশে অসুস্থ শরীরেও চিকিৎসকের নিষেধ অমান্য করে বক্তব্য চালিয়ে যাওয়ার ঘটনা তাকে সমর্থকদের কাছে 'ত্যাগী নেতা' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

পরিশেষে:

নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ডা. শফিকুর রহমান এখন এক অনিবার্য শক্তি। তিনি কি পারবেন অতীতের বোঝা ঝেড়ে ফেলে জামায়াতকে একটি আধুনিক ও গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে? উত্তর পেতে আমাদের আগামী নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

​বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে জামায়াতের জয়জয়কার: কেন বাড়ছে দলটির জনপ্রিয়তা?

February 09, 2026
Ai image 
২৪শে জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে দেশীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক—সবার মতেই, ভোটের মাঠে জামায়াতে ইসলামী এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। কেন বিএনপিকে ছাপিয়ে জামায়াতের জনপ্রিয়তা ‘রকেট গতিতে’ বাড়ছে, তার পেছনে কয়েকটি মৌলিক কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশ্লেষকরা।

১. দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি মুক্ত ভাবমূর্তি

​বিশ্লেষক ডেভিড বার্গম্যানের মতে, আওয়ামী লীগের পতনের পর দেশের অনেক স্থানেই দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। কিন্তু জামায়াতের ক্ষেত্রে এই চিত্র ভিন্ন। তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোনো চাঁদাবাজি বা বিশৃঙ্খলার অভিযোগ না থাকা সাধারণ মানুষের মধ্যে দলটির প্রতি আস্থার সৃষ্টি করেছে।

২. পরিকল্পিত সমাজসেবা ও মানবিক সহায়তা

​জুলাই বিপ্লবে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পাশে জামায়াতে ইসলামী যেভাবে সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিতভাবে দাঁড়িয়েছে, তা সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছে। আর্থিক সহায়তা থেকে শুরু করে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা—তাদের এই ‘কল্যাণমুখী রাজনীতি’ দলটিকে অন্য সব দলের চেয়ে আলাদা করেছে।

৩. পরিবারতন্ত্রের অনুপস্থিতি ও আধুনিক নেতৃত্ব

​দেশের বড় দুটি দলে যেখানে পরিবারতন্ত্রের প্রভাব স্পষ্ট, সেখানে জামায়াত একটি আধুনিক ও মেধাভিত্তিক ইসলামী দল হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করছে। দলটির বর্তমান নেতৃত্বের সাথে ১৯৭১-এর সরাসরি সম্পৃক্ততা না থাকায় তরুণ প্রজন্মের কাছে তারা নতুনভাবে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে।

৪. ভারতবিরোধী অবস্থান ও সার্বভৌমত্বের রক্ষা

​বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে যে তীব্র ভারতবিরোধী মনোভাব তৈরি হয়েছে, জামায়াতকে তার কড়া প্রবক্তা মনে করা হয়। ভোটারদের একটি বড় অংশ মনে করে, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের প্রভাব মোকাবেলায় জামায়াত অন্য দলগুলোর চেয়ে বেশি আপসহীন থাকবে।

৫. সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও সংহতি

​জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। যেখানে বড় দলগুলোতে বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি, সেখানে জামায়াতের মধ্যে কোনো কোন্দল নেই। ম্যান-টু-ম্যান ক্যাম্পেইন এবং ডোর-টু-ডোর প্রচারণায় তারা অনেক বেশি সুশৃঙ্খল। এছাড়া দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রশিবিরের জয় তাদের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার নতুন প্রমাণ দিচ্ছে।

৬. আওয়ামী ভোটারদের সমীকরণ ও তরুণদের অনীহা

​বিএনপি অনেক ক্ষেত্রে আওয়ামী ভোটারদের টানার কৌশল নিলেও ‘অ্যান্টি-আওয়ামী’ ভোটাররা মনে করছেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে পুরনো বৃত্তেই দেশ আটকে থাকবে। নতুন প্রজন্ম পরিবর্তন চায়, আর সেই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা থেকেই তারা জামায়াতের দিকে ঝুঁকছে।

পরিশেষে: > বাংলাদেশে দীর্ঘদিন কোণঠাসা থাকার পর জামায়াতে ইসলামী এখন মূলধারার রাজনীতিতে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। যদি একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, তবে জামায়াত চমকপ্রদ ফলাফল করবে বলে ধারণা করছেন দেশি-বিদেশি বিশ্লেষকরা।

জামায়াতে ইসলামীর নতুন ইশতেহার: বৈষম্যহীন ও ইনসাফ ভিত্তিক বাংলাদেশের রূপরেখা

February 05, 2026
Ai image 
জুলাই বিপ্লবের রক্তঝরা দিনগুলো পেরিয়ে বাংলাদেশ এখন এক নতুন সন্ধিক্ষণে। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে "চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ" স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের ৮৬ পৃষ্ঠার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। এটি কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ।

​ইশতেহারের মূল দর্শন: ৫টি 'হ্যাঁ' এবং ৫টি 'না'

​ইশতেহারে ১০টি মৌলিক প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা দুটি ভাগে বিভক্ত:

  • হ্যাঁ (৫টি): সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান।
  • না (৫টি): দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজি।

​ইশতেহারের প্রধান দিকসমূহ:

১. দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন:

দুর্নীতির বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রশাসনের সব স্তরে সেবাকে ডিজিটালাইজড করা হবে। মন্ত্রী, এমপি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের বার্ষিক সম্পদের হিসাব জনগণের সামনে পেশ করা বাধ্যতামূলক করা হবে।

২. যুব উন্নয়ন ও বেকারত্ব নিরসন:

  • ​বেকারত্ব দূর করতে দেশে ও বিদেশে প্রায় সাত কোটি কর্মক্ষম যুবকের জন্য বিশাল কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা রয়েছে।
  • ​সরকারি চাকরিতে আবেদনের জন্য কোনো আবেদন ফি নেওয়া হবে না।
  • ​দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে জেলাভিত্তিক 'হিউম্যান স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার' স্থাপন করা হবে।

৩. নারী অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা:

  • ​কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার্থে সম্মতির ভিত্তিতে কর্মঘণ্টা ৫ ঘণ্টায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
  • ​নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস এবং গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করতে 'আমার আয়ে সংসার' প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
  • ​সম্পত্তি সুরক্ষা কমিটি ও নির্যাতনের দ্রুত বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে।

৪. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আমূল পরিবর্তন:

  • ​শিক্ষা বাজেট বাড়িয়ে জিডিপির ৬ শতাংশ করার অঙ্গীকার করা হয়েছে এবং স্নাতক পর্যন্ত নারীদের বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ থাকবে।
  • ​স্বাস্থ্য খাতে ৫ বছরের কম এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।

৫. কৃষি, পরিবেশ ও অবকাঠামো:

  • ​২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির বিপ্লব ঘটানো হবে।
  • ​ঢাকার সাথে বিভাগীয় শহরগুলোর দূরত্ব ২-৩ ঘণ্টায় নামিয়ে আনতে রেল ও সড়কপথের আধুনিকায়ন করা হবে।

​ঐক্যের রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ ভাবনা

​জামায়াতের আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, তার দল কোনো একক দলের বিজয় নয়, বরং ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চায়। প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে ক্ষমা ও ঐক্যের মাধ্যমে একটি ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

উপসংহার:

এই ইশতেহারটি তৈরিতে জনতার ইশতেহার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রায় ৪০০০ মানুষের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। এটি একটি আধুনিক প্রযুক্তি ও নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে তৈরি বাস্তবসম্মত রূপরেখা, যা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

সীমান্তের ওপার থেকে অস্থিরতার ব্লু-প্রিন্ট: ‘র’-এর ১০৩ সদস্য নিয়ে বাংলাদেশে উচ্চ সতর্কতা

February 05, 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

Ai image 
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্বকে লক্ষ্য করে সীমান্তের ওপার থেকে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের ছক আঁকা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (RAW)-এর প্রত্যক্ষ মদদে ১০৩ সদস্যের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে, যাদের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশে বড় ধরনের অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সারা দেশে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ‘রিমোট কন্ট্রোল’ ষড়যন্ত্র

​প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এই ষড়যন্ত্রের একটি বড় অংশ পরিচালিত হচ্ছে ডিজিটাল মাধ্যমে। সাইবার স্পেস ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে বিশেষ ‘ব্রেইনওয়াশ’ প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।

  • গুজব ছড়ানো: ইউটিউব ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় উসকানিমূলক কন্টেন্ট তৈরি করা হচ্ছে।
  • টার্গেট কিলিং ও অস্থিরতা: দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং স্পর্শকাতর বিষয়গুলোকে টার্গেট করে অস্থিরতা সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে এই চক্রের।
  • প্রযুক্তিগত প্রোপাগান্ডা: আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সীমান্ত এলাকা থেকে ‘রিমোট কন্ট্রোল’ পদ্ধতিতে বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা উসকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর অভেদ্য দেয়াল: প্রযুক্তিগত নজরদারি

​ষড়যন্ত্রের এই ব্লু-প্রিন্ট নস্যাৎ করতে বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

  1. স্মার্ট মনিটরিং: সীমান্তে বিজিবি (BGB) এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ড্রোন ও থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।
  2. সাইবার ওয়াচ: এনটিএমসি (NTMC) এবং পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটগুলো প্রতিটি ডিজিটাল মুভমেন্ট ট্র্যাক করছে।
  3. সমন্বিত পদক্ষেপ: ডিএমপি কমিশনারসহ সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা একটি ‘আনহোলি অ্যালায়েন্স’ বা অশুভ আঁতাত রুখতে কাজ করছেন।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও সতর্কতা

​নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং অপরাধ বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করতেই বাইরের শক্তিগুলো এমন নীল নকশা তৈরি করেছে। ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ‘ডিজিটাল যুদ্ধ’ মোকাবিলায় কেবল নিরাপত্তা বাহিনী নয়, সাধারণ জনগণের সচেতনতাও অপরিহার্য।

উপসংহার:

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো প্রকার আপস না করার ঘোষণা দিয়েছে। যেকোনো প্রকার উসকানি বা সন্দেহজনক কার্যক্রম নজরে এলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: ডেইলি আমার দেশ। 

তারিখ: ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬


৭১-এর চেতনা ও ২৪-এর বিপ্লব: বিভাজন নাকি নতুন বাংলাদেশের সেতুবন্ধন?

February 03, 2026
Ai image 
বাংলাদেশ বর্তমানে এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে যে গণঅভ্যুত্থান দেশ দেখেছে, তাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। সম্প্রতি 'BD Views'-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের মধ্যকার আদর্শিক সম্পর্ক এবং বর্তমান রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে।

মূল প্রেক্ষাপট: দুই বিপ্লবের মেলবন্ধন

​জুলাই বিপ্লব কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের একটি আধুনিক সংস্করণ। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের কাছে জুলাই ২৪ হলো 'দ্বিতীয় স্বাধীনতা', যা মূলত একাত্তরের অপূর্ণ স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নের একটি নতুন সংগ্রাম।

প্রতিবেদনের মূল পয়েন্টসমূহ:

  • বিভাজনের রাজনীতি বনাম ঐক্য: প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাজনৈতিক ময়দানে আবারও ১৯৭১ বনাম ২০২৪-এর একটি কৃত্রিম লড়াই তৈরির চেষ্টা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, একাত্তরের ইতিহাসকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বর্তমানের বড় রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিপক্ষকে দমনের পুরনো কৌশল বেছে নিচ্ছে, যা জুলাই বিপ্লবের অন্তর্ভুক্তিমূলক স্পিরিটের সাথে সাংঘর্ষিক।
  • রাজনৈতিক নেতৃত্বের অবস্থান: * বিএনপি: প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিএনপি তাদের সাম্প্রতিক জনসভাগুলোতে ১৯৭১-এর চেতনাকে প্রধান্য দিচ্ছে, তবে জুলাই বিপ্লবের অবদানকে যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে বরং একে একটি সাইড-ইস্যু হিসেবে রাখার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
    • জামায়াত ও এনসিপি জোট: অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি জোট জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্বপ্ন এবং সংস্কারের দাবিগুলোকে কেন্দ্র করে তাদের রাজনৈতিক প্রচারণা চালাচ্ছে।
  • বিভেদের ঝুঁকি: ৫৩ বছর আগের লেবেল ব্যবহার করে বর্তমানের গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে বিভক্ত করা দেশের ভবিষ্যতের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। এটি কেবল পতিত স্বৈরাচারের অবশিষ্টাংশদেরই সুবিধা করে দেবে।

ভবিষ্যৎ ভাবনা: আমাদের করণীয় কী?

​একটি স্থিতিশীল এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য ১৯৭১ এবং ২০২৪-এর মধ্যে কোনো দেয়াল তোলা উচিত নয়। বরং একাত্তরের বীরত্ব এবং চব্বিশের তারুণ্যের তেজ—এই দুইয়ের সমন্বয়েই গড়ে উঠবে আগামীর বাংলাদেশ। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত ইতিহাসের ব্যবচ্ছেদ না করে, দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়া।

উপসংহার: "জুলাই বিপ্লব আমাদের ঐক্যের প্ল্যাটফর্ম দিয়েছে। এই ঐক্যকে নষ্ট করা শহীদদের আত্মত্যাগের অবমাননা। সময় এসেছে ইতিহাসকে অস্ত্র হিসেবে নয়, বরং আগামীর ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করার।"

নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে অস্থিরতা: আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে খুন ও সহিংসতা

February 03, 2026


নিজস্ব প্রতিবেদক | ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

Ai image 
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তবে প্রচার-প্রচারণার ডামাডোলের আড়ালে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে খুন, চাঁদাবাজি এবং রাজনৈতিক সহিংসতা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই নিম্নমুখী গ্রাফ ভাবিয়ে তুলছে সাধারণ নাগরিক ও বিশ্লেষকদের।

১. অপরাধের ভয়ংকর পরিসংখ্যান

​পুলিশের সাম্প্রতিক তথ্যমতে, গত দুই বছরের তুলনায় অপরাধের মাত্রা এখন অনেক বেশি।

  • খুনের হার: ২০২৪ সালের তুলনায় খুন বেড়েছে ১৮% এবং ২০২৩ সালের তুলনায় এই হার প্রায় ৪০% বেশি।
  • মামলার চিত্র: ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসেই খুন ও দস্যুতার অভিযোগে ৪,৩১৬টি মামলা দায়ের হয়েছে।
  • গড় অপরাধ: গত বছরের শেষ পাঁচ মাসে প্রতি মাসে গড়ে ৩১৩ জন মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।

২. চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

​নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দখল আর চাঁদাবাজির মহোৎসব চলছে।

  • কারওয়ান বাজার ইস্যু: এই এলাকায় অন্তত ৮ থেকে ৯টি চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট সক্রিয়। সম্প্রতি স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বির হত্যাকাণ্ড এই বিশৃঙ্খলারই প্রমাণ।
  • তৃণমূলের চিত্র: পাবনার ভাঙ্গুড়াসহ বিভিন্ন মফস্বল এলাকায় শ্রমিক নেতাদের চাঁদাবাজির অভিযোগে আটকের ঘটনা ঘটছে।

৩. নির্বাচনী সহিংসতা ও ভীতি প্রদর্শন

​তফসিল ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক সংঘাত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

  • সংঘর্ষ: গত ৪৫ দিনে দেশের ২৫টি জেলা ও ৩টি মহানগরে ১৪৪টি নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
  • হুমকি: নেত্রকোনায় 'ইলেকশন নির্মূল কমিটি' লিখে চিরকুট এবং কক্সবাজারে প্রার্থীদের বাড়িতে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে।

৪. বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও সরকারি আশ্বাস

​সরকারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, আইন অমান্যকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা:

"শুধুমাত্র নোটিশ বা বিবৃতিতে সহিংসতা থামানো সম্ভব নয়। সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।"


উপসংহার:

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ভোটের মাঠ যত গরম হচ্ছে, সাধারণ মানুষের শঙ্কাও ততই বাড়ছে।

২০২৬ নির্বাচন: বিদ্রোহী প্রার্থীদের চাপে বিএনপি, বিপাকে জোট শরিকরা

February 02, 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

Ai image 

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঘরোয়া চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বিএনপি। দলের নীতিগত সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে অন্তত ৭৯টি আসনে ৯২ জন নেতা স্বতন্ত্র বা 'বিদ্রোহী' প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন। এর মধ্যে ৪৬টি আসনে এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বেশ শক্তিশালী অবস্থানে থাকায় ধানের শীষের মূল প্রার্থীদের জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন তারা।

এক নজরে নির্বাচনী সমীকরণ

​বিএনপি এবারের নির্বাচনে ২৯১টি আসনে দলীয় প্রার্থী দিয়েছে এবং যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের জন্য ছেড়ে দিয়েছে ৮টি আসন। তবে দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙে অনেক আসনেই স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে রয়েছেন।

তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে থাকা উল্লেখযোগ্য আসনসমূহ

​বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে যেসব এলাকায় বিএনপি ও তার জোট শরিকরা সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • ঢাকা বিভাগ: ঢাকা-১২, ঢাকা-১৪, নারায়ণগঞ্জ-২, ৩ ও ৪, মানিকগঞ্জ-১, টাঙ্গাইল-৩ ও ৫, মুন্সিগঞ্জ-১ এবং রাজবাড়ী-২।
  • চট্টগ্রাম ও সিলেট: চট্টগ্রাম-১৬, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৫, হবিগঞ্জ-১, সিলেট-৫ এবং পার্বত্য খাগড়াছড়ি।
  • রাজশাহী ও রংপুর: দিনাজপুর-২ ও ৫, নওগাঁ-১, ৩ ও ৬, পাবনা-৩, রংপুর-৩ এবং পঞ্চগড়-২।
  • অন্যান্য: পটুয়াখালী-৩, বরিশাল-১, ঝিনাইদহ-৪, যশোর-৫ এবং ময়মনসিংহ-১, ২, ৬, ৭ ও ৯।

জোট শরিকদের ওপর প্রভাব

​বিদ্রোহী প্রার্থীদের এই আধিক্যের কারণে শুধু বিএনপি নয়, বিপাকে পড়েছেন জোটের শীর্ষ নেতারাও। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

  • নুরুল হক নূর (গণঅধিকার পরিষদ)
  • সাইফুল হক (বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি)
  • জুরাইদ আল হাবিব (জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম)

দলীয় অবস্থান ও সাংগঠনিক ব্যাখ্যা

​বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র এবং দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, দীর্ঘদিন আন্দোলনে থাকা অনেক ত্যাগী নেতা মনোনয়ন না পেয়ে আবেগের বশবর্তী হয়ে প্রার্থী হয়েছেন। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, শেষ মুহূর্তে দলের স্বার্থে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন এবং ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত হবে।

​অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহিদুর রহমান মনে করেন, এই বিপুল সংখ্যক বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোর দুর্বলতা প্রকাশ করে। তবে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে জয়ী দলের সঙ্গে থাকার যে প্রবণতা কাজ করে, তার ফলে নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে এলে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রভাব কিছুটা কমতে পারে।


রাজার ছেলে রাজা হওয়ার সংস্কৃতি আমরা বদলে দিতে চাই: ফেনীতে ডা. শফিকুর রহমান

January 30, 2026


নিজস্ব প্রতিবেদক | ফেনী

Ai image 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে বংশানুক্রমিক বা পারিবারিক রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার সংস্কৃতি চালু করতে হবে। ফেনীতে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

যোগ্যতার ভিত্তিতে দেশ গড়ার অঙ্গীকার

​বক্তব্যের শুরুতেই ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “রাজার ছেলে রাজা হবে কিংবা মন্ত্রীর ছেলে মন্ত্রী—এই প্রথা আমরা ভেঙে দিতে চাই। আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই যেখানে একজন সাধারণ রিকশাচালকের মেধাবী সন্তানও তার যোগ্যতাবলে একদিন এই দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেবল জন্মপরিচয় নয়, বরং ব্যক্তিগত যোগ্যতাই হবে নেতৃত্বের একমাত্র মাপকাঠি।

ফ্যাসিবাদ ও দুর্নীতির অবসান

​বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, গত কয়েক বছরে দেশে একনায়কতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদ কায়েম করা হয়েছিল। দুর্নীতিতে দেশকে বারবার চ্যাম্পিয়ন বানানো হয়েছে। তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, “এই পচা রাজনীতিকে আমরা লাল কার্ড দেখাতে চাই।” জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি সবাইকে প্রতিহিংসা পরিহার করে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।

ফেনীবাসীর দুঃখের সঙ্গী

​গত আগস্টের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি চারণ করে তিনি বলেন, “সীমান্তের ওপার থেকে আসা পানির ঢলে যখন ফেনী সমুদ্রে পরিণত হয়েছিল, তখন আমি আপনাদের পাশে আসার চেষ্টা করেছি। আমি আপনাদের সব কষ্ট দূর করতে পারিনি, তবে আপনাদের দুঃখের সঙ্গী ও সাক্ষী হতে এসেছিলাম।” ফেনীবাসীর সাহস ও প্রতিবাদের ভূয়সী প্রশংসাও করেন তিনি।

উন্নয়ন ও আগামীর পরিকল্পনা

​ফেনীর প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে ফেনীর বিশাল অবদান রয়েছে। ক্ষমতায় গেলে ফেনীর ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান:

  • আন্তর্জাতিক ভেন্যু: ফেনী স্টেডিয়ামকে একটি মানসম্মত আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ভেন্যু হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
  • নিরাপত্তা: চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য এবং মা-বোনদের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
  • নতুন বাংলাদেশ: যুব সমাজের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।

ভোটের গুরুত্ব ও আহ্বান

​আসন্ন নির্বাচনকে ‘আজাদী বনাম গোলামীর’ লড়াই হিসেবে অভিহিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের ৩০০ আসনেই সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদের হাতে মার্কা তুলে দেওয়া হয়েছে। আধিপত্যবাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে নতুন বাংলাদেশের পক্ষে রায় দেওয়ার জন্য তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

নির্বাচনী মাঠে ‘মুক্তিযুদ্ধ কার্ড’ বনাম ‘জুলাই বিপ্লব’: বিএনপি ও জামায়াতের রাজনৈতিক লড়াই

January 29, 2026
Ai image 

আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে নতুন করে বাদানুবাদ শুরু হয়েছে। দুই দলই ভোটারদের টানতে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক বয়ান সামনে নিয়ে আসছে। বিএনপি যেখানে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে তাদের প্রধান হাতিয়ার করছে, জামায়াতে ইসলামী সেখানে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব ও শহীদদের স্বপ্নকে প্রাধান্য দিচ্ছে।

​বিএনপির কৌশলে মুক্তিযুদ্ধ ও জামায়াতকে আক্রমণ

​বিএনপির বর্তমান নির্বাচনী প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার বিভিন্ন জনসভায় জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গটি জোরালোভাবে তুলে ধরছেন।

  • তারেক রহমানের বক্তব্য: গত ২২ জানুয়ারি সিলেটের জনসভায় তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যারা মা-বোনদের ওপর নির্যাতন ও লাখ লাখ মানুষ হত্যার কারণ ছিল, জনগণ তাদের চেনে। চট্টগ্রাম ও মৌলভীবাজারের সভায় তিনি জামায়াতের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে মুক্তিযুদ্ধকে একটি 'জাতীয় শিক্ষা' হিসেবে অভিহিত করেন।
  • মির্জা ফখরুলের অবস্থান: দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ের সমাবেশে সতর্ক করে বলেন, স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীরা আবারও রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে। দেশ তাদের হাতে গেলে বাংলাদেশ টিকবে না।

​বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেয়ে মুক্তিযুদ্ধকেই তাদের প্রচারণার প্রধান রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে।

​জামায়াতের অগ্রাধিকার: জুলাই বিপ্লব ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ

​অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রচারণায় ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধিতাকে মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করছে।

  • শহীদদের স্বপ্ন: জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদরা যে দুর্নীতিহীন ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই লক্ষ্য পূরণই জামায়াতের একমাত্র কাজ।
  • বিএনপির সমালোচনার জবাব: জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার বিএনপির এই অবস্থানের সমালোচনা করে বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কয়েক দশক আগের ইস্যু টেনে আনা হচ্ছে। দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এহসানুল মাহবুব জুবায়ের একে আওয়ামী লীগের 'মুক্তিযুদ্ধ কার্ড' ব্যবহারের সাথে তুলনা করেছেন।

​জুলাই বিপ্লব বনাম মুক্তিযুদ্ধ: রাজনৈতিক বাস্তবতা

​ বিশ্লেষণে দেখা যায়, যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, বিএনপির বক্তব্যে সেই ইস্যুটি কিছুটা গৌণ হয়ে পড়েছে। বিএনপি ২০২৪-এর আন্দোলনকে ১৯৭১-এর আদর্শের অনুসরণ হিসেবে দেখলেও, সরাসরি 'জুলাই বিপ্লব'কে রাজনৈতিক ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে কিছুটা অনীহা দেখাচ্ছে।

​নির্বাচনী প্রচারণার এই ভিন্নতা ভোটারদের মনে কী প্রভাব ফেলে, তা সময়ই বলে দেবে।

শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ: চিকিৎসাধীন অবস্থায় জামায়াত নেতার মৃত্যু

January 29, 2026


নিজস্ব প্রতিবেদক | শেরপুর ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬



​শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে আসন গ্রহণকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে গুরুতর আহত শ্রীবর্দী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম (৪৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

ঘটনার সূত্রপাত

​গত ২৮ জানুয়ারি বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসন শেরপুর-৩ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে একটি 'নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ' অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠান শুরুর আগে সামনের সারিতে বসা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তা সহিংস সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সহিংসতা ও ক্ষয়ক্ষতি

​প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে সভাস্থলে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। এতে অনুষ্ঠানস্থলের কয়েকশ চেয়ার এবং বাইরে থাকা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত ৩০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

নিহতের পরিচয় ও মৃত্যু

​নিহত মাওলানা রেজাউল করিম শ্রীবর্দী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এবং ফাতেপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। সংঘর্ষে মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় তাকে দ্রুত ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে শেরপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বর্তমান পরিস্থিতি

​এই ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

গণভোট ও বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান: কৌশল নাকি দ্বিচারিতা?

January 27, 2026
Ai image 
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আসন্ন গণভোট কেবল একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী জনমানসের এক চূড়ান্ত পরীক্ষা বা রেফারেন্ডাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির অবস্থান এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।

নেতৃত্ব ও তৃণমূলের বিপরীতমুখী অবস্থান

​বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একটি অংশ প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে একটি অনিবার্য বাস্তবতা হিসেবে মেনে নেওয়ার কথা বললেও, দলের ভেতরে এবং তৃণমূল পর্যায়ে এর তীব্র বিরোধিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দলের সিনিয়র নেতা মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এক বক্তব্যে স্বীকার করেছেন যে, তারা মূলত রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির চাপে পড়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, কিন্তু আদর্শিকভাবে এই গণভোটের আইনি ভিত্তি নিয়ে তাদের মনে সংশয় রয়েছে।

​অন্যদিকে, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশ্যেই ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাদের ধারণা, এই নতুন সংস্কার প্রক্রিয়া সফল হলে প্রচলিত ক্ষমতার সমীকরণে তাদের গুরুত্ব কমে যেতে পারে। ফলে ‘না’ ভোটকে তারা এক ধরণের আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে দেখছেন।

তারেক রহমানের কৌশলগত অস্পষ্টতা

​রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অত্যন্ত সচেতনভাবে একটি 'স্ট্র্যাটেজিক অ্যাম্বিগুটি' বা কৌশলগত অস্পষ্টতা বজায় রাখছেন। তিনি সরাসরি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কোনো প্রচারণা চালাননি, আবার সরাসরি ‘না’ ভোটের পক্ষে গিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে কোনো সংঘাতেও জড়াতে চাইছেন না। এই অবস্থানটি মূলত দলের ভেতরের অসন্তোষ সামাল দেওয়া এবং সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার একটি দ্বৈত কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বনাম পুরনো রাজনীতি

​ভিডিওটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে যে নতুন রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, বিএনপি তা পুরোপুরি ধারণ করতে পারছে কি না তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিকে ‘গণতান্ত্রিক অসুবিধা’ হিসেবে চিহ্নিত করা এবং মামলা প্রত্যাহারের ঘোষণা বিপ্লবের মূল দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে হতে পারে।

উপসংহার: অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই

​বিএনপি বর্তমানে এক বড় ধরণের পরিচয় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তারা কি সংস্কারপন্থী আধুনিক দল হিসেবে নিজেদের গড়বে, নাকি পুরনো রাজনৈতিক কাঠামোর আশ্রয় নেবে—এটিই এখন বড় প্রশ্ন। গণভোটের এই ‘হ্যাঁ-না’ লড়াই মূলত বাংলাদেশের রাজনৈতিক আত্মপরিচয় নির্ধারণের লড়াই। বিএনপি যদি সময়োপযোগী এবং সাহসী অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়, তবে নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলো ভবিষ্যতের নেতৃত্ব দখল করে নিতে পারে।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে হাইভোল্টেজ লড়াই: ফখরুল বনাম দেলাওয়ার, মুখোমুখি বিএনপি-জামায়াত

January 26, 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঠাকুরগাঁও

Ai image 

​আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই সরগরম হয়ে উঠেছে উত্তরের এই জনপদ। তবে এবারের নির্বাচনে এই আসনে লড়াইটা বেশ ভিন্ন। একদিকে রয়েছেন অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অন্যদিকে তাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর তরুণ প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন

​প্রার্থীদের ব্যস্ততা ও প্রতিশ্রুতি

​ভোটের মাঠে দিনরাত এক করে প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। গ্রামে গ্রামে গিয়ে অংশ নিচ্ছেন পথসভা ও জনসংযোগে।

  • মির্জা ফখরুলের উন্নয়ন রূপরেখা: বিএনপির এই হেভিওয়েট প্রার্থী গুরুত্ব দিচ্ছেন শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নতুন স্কুল, রাস্তাঘাট এবং হাসপাতাল নির্মাণের। বিশেষ করে মেয়েদের উচ্চশিক্ষা ও গ্রাজুয়েশন পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ এবং বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার কথা তুলে ধরছেন তিনি।
  • পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে দেলাওয়ার: জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন তরুণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। তার দাবি, সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন পর পরিবর্তন চায়। তিনি নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁওকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত একটি আধুনিক 'শিক্ষার শহর' হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

​লড়াইয়ের ময়দানে আরও যারা

​এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর পাশাপাশি ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ খাদেমুল ইসলাম। তিনিও হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।

​কী ভাবছেন ভোটাররা?

​ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রায় ৫ লাখ ৭ হাজার ভোটার এখন হিসেব মেলাচ্ছেন। সাধারণ ভোটারদের প্রধান চাওয়া—একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ। তারা চান এমন একজন প্রতিনিধি, যিনি খাদ্য, বাসস্থান ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখবেন।

​"আমরা চাই নির্ভয়ে ভোট দিতে। যে প্রার্থী আমাদের নূন্যতম মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করবে এবং এলাকার উন্নয়ন করবে, তাকেই আমরা বেছে নেব।" — একজন স্থানীয় ভোটার।


​এক নজরে ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচনী তথ্য

বিষয়

তথ্য

মোট ভোটার

------------৫ লাখ ৭ হাজার

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী-----

বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন

মূল লড়াই-------------

ধানের শীষ বনাম জামায়াত প্রার্থী


নির্বাচনী এই আমেজ এখন চা-দোকান থেকে শুরু করে সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। শেষ পর্যন্ত ঠাকুরগাঁওয়ের এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে কার গলায় বিজয়ের মালা ওঠে, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।


জাতীয় নির্বাচনে শহীদ হাদীর প্রভাব: একটি বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন

January 26, 2026

অনলাইন ডেস্ক | ঢাকা

Ai image 


​বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে শরীফ ওসমান হাদী (শহীদ হাদী) একটি অনন্য নাম। তিনি কেবল একজন ব্যক্তি ছিলেন না, বরং একটি ক্রমবর্ধমান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। আলজাজিরার সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ এবং দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তার প্রভাব নিয়ে একটি গভীর পর্যালোচনা এখানে তুলে ধরা হলো।

​১. ইতিহাসের প্রচলিত ছক ভেঙে হাদীর উত্থান

​সাধারণত শহীদদের গল্প সময়ের সাথে সাথে ফিকে হয়ে যায় কিংবা পাঠ্যবইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু শরীফ ওসমান হাদীর ক্ষেত্রে এটি ব্যতিক্রম। তার মৃত্যু এমন এক অসমাপ্ত প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, যার উত্তর আজও বাংলাদেশের সমাজ খুঁজছে। কোনো বড় দলের ক্যাডার না হয়েও, সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে তার এই উত্থান বিদ্যমান ক্ষমতা কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করেছে।

​২. অবহেলিত শ্রেণীর কণ্ঠস্বর

​হাদী ছিলেন বাংলাদেশের সেই বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, যারা দীর্ঘদিন ধরে নগরকেন্দ্রিক শিক্ষিত অভিজাত শ্রেণীর নিয়ন্ত্রিত সাংস্কৃতিক বয়ানে উপেক্ষিত ছিল।

  • সরাসরি যোগাযোগ: তথাকথিত 'ভদ্র' সমাজের মার্জিত ভাষার পরিবর্তে তার সরাসরি ও বাস্তবসম্মত কথা বলার ভঙ্গি সাধারণ মানুষের কাছে তাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছিল।
  • সাংস্কৃতিক বিপ্লব: ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছিলেন যে, ইসলামিক মূল্যবোধের সাথে আধুনিক নাগরিক জীবনের মেলবন্ধন সম্ভব।

​৩. ধর্ম, নৈতিকতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার

​শহীদ হাদী ইসলামকে কেবল ধর্মীয় আচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একে সামাজিক ন্যায়বিচার ও নৈতিকতার ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দ্বিচারিতার কারণে ধর্মপ্রাণ মানুষ যে সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতায় ভুগছিল, হাদী তাদের সেই বিচ্ছিন্নতাকে এক শক্তিশালী রাজনৈতিক ভাষায় রূপান্তর করতে পেরেছিলেন।

​৪. নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন ধারা

​তার নির্বাচনী প্রচারণার ধরণ ছিল প্রচলিত রাজনীতির একদম বিপরীত। কোনো বিশাল শো-ডাউন বা পোস্টার-ব্যানারের পরিবর্তে তিনি জোর দিয়েছিলেন ব্যক্তিগত যোগাযোগের ওপর। মসজিদে নামাজ পড়া কিংবা পাড়া-মহল্লায় সাধারণ মানুষের সাথে মেশার মাধ্যমে তিনি এক ধরণের 'সরলতার রাজনীতি' প্রবর্তন করেছিলেন, যা তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ছিল।

​৫. মৃত্যুর পরবর্তী প্রভাব: একটি প্রশ্নচিহ্ন

​হাদীর হত্যাকাণ্ড তার রাজনৈতিক যাত্রাকে থামিয়ে দিলেও, তার আদর্শকে আরও শক্তিশালী করেছে।

  • অসমাপ্ত প্রকল্প: তিনি ক্ষমতায় যাননি, তার পরিকল্পনাগুলো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি—এই 'অপূর্ণতার বেদনা' তার সমর্থকদের মধ্যে এক গভীর আবেগ তৈরি করেছে।
  • রাজনৈতিক পুঁজি: বর্তমানে অনেক রাজনৈতিক দল তার নাম এবং আদর্শকে নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার জন্য পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করছে।

​উপসংহার

​শহীদ হাদীর প্রভাব কেবল একটি সাময়িক আবেগ নয়, এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গভীর পরিবর্তনের ইঙ্গিত। সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিত্ব এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে নৈতিক অবস্থানের যে প্রশ্ন তিনি তুলেছিলেন, তা আসন্ন ভোটে বড় ধরণের প্রভাব ফেলবে। হাদী প্রভাব আসলে সেই ছায়ার নাম, যা সহজে মিলিয়ে যাবে না; কারণ এটি কোনো ব্যক্তির নয় বরং একটি গভীর সামাজিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।


নারায়ণগঞ্জ-২: স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান আঙ্গুরের গণসংযোগে জনস্রোত; উন্নয়নের অঙ্গীকার

January 25, 2026


নিজস্ব প্রতিবেদক | নারায়ণগঞ্জ 

Ai image 


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে নির্বাচনী প্রচারণা তুঙ্গে। রবিবার বিকেলে এই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান আঙ্গুর তার নির্বাচনী এলাকায় এক বিশাল গণসংযোগ ও পথসভা কর্মসূচি পালন করেছেন.

ব্যস্ততম এলাকায় প্রচারণা রবিবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই প্রচারণায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান আঙ্গুর তার সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করেন. তিনি বিশেষ করে আড়াইহাজার পৌরসভা বাজার, কলেজ রোড এবং ইলুমদি সহ বেশ কিছু এলাকায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যান এবং তাদের সাথে কুশল বিনিময় করেন. সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগের কথা শোনেন এবং এলাকার টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

উন্নয়নের রোডম্যাপ ও কলস মার্কায় ভোট আহ্বান পথসভাগুলোতে ভোটারদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে আতাউর রহমান আঙ্গুর বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে অবহেলিত জনপদগুলোর আমূল পরিবর্তন আনবেন এবং বেকারত্ব দূরীকরণে কাজ করবেন. বক্তৃতার একপর্যায়ে তিনি তার নির্বাচনী প্রতীক 'কলস' মার্কার কথা উল্লেখ করে বলেন, "এলাকার শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য কলস মার্কায় ভোট দেওয়া প্রয়োজন". তিনি ভোটারদের প্রতিশ্রুতি দেন যে, জনগণের আস্থার মর্যাদা তিনি সব সময় রক্ষা করবেন।

ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ গণসংযোগের সময় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যায়। সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ তাকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। অনেকে তাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন। তার এই প্রচারণায় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক অংশগ্রহণ করেন, যা এলাকাটিতে একটি উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করেছে.

​নির্বাচনী মাঠে এই হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থীর সক্রিয় উপস্থিতি নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের ভোটের সমীকরণকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলবে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

​রাজনীতির নির্মম বলি: একটি পরিবারের করুণ আর্তনাদ ও আমাদের বিবেক

January 24, 2026

Ai image 

​সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রনেতা সাদ্দামের জীবনের ট্র্যাজেডি আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক অন্ধকার দিককে উন্মোচিত করেছে। গত এক বছর ধরে তিনি কারাগারে। কিন্তু এই এক বছরে শুধু সাদ্দামের কারাবাসই হয়নি, ধবংস হয়ে গেছে একটি সাজানো পরিবার। অভাব, অনাহার আর চরম মানসিক যন্ত্রণায় পিষ্ট হয়ে তার স্ত্রী নিজের সন্তানকে হত্যা করে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন।

​এটি কেবল একটি মৃত্যু নয়, বরং আমাদের মানবিকতা ও রাজনৈতিক কাঠামোর চরম ব্যর্থতার দলিল।

​নির্মমতার শেষ কোথায়?

​একটি রাষ্ট্রের মৌলিক ভিত্তি হওয়া উচিত মানবিকতা। কিন্তু সাদ্দামের ক্ষেত্রে যা ঘটেছে, তা যেকোনো বিবেকবান মানুষকে স্তম্ভিত করে দেয়। নিজের স্ত্রী ও সন্তানের নিথর দেহগুলো শেষবারের মতো দেখার সুযোগটুকুও তাকে দেওয়া হয়নি। প্যারোলে মুক্তির আবেদন প্রত্যাখ্যান করা কি একটি গণতান্ত্রিক বা মানবিক রাষ্ট্রের পরিচয়? দাফনে অংশ নিতে না পারা সেই বাবার আর্তনাদ কি আমাদের বিচারব্যবস্থা বা প্রশাসনের কানে পৌঁছায় না?

​মাঠের কর্মী বনাম নিরাপদ নেতৃত্ব

​আমাদের দেশের রাজনীতির এক অদ্ভুত ও নিষ্ঠুর বাস্তবতা হলো— যারা মাঠ পর্যায়ে রাজনীতি করে, জীবন দেয় কিংবা জেল খাটে, তারা দিনশেষে 'দাবার ঘুঁটি' ছাড়া আর কিছুই নয়।

  • নেতৃত্ব যখন নিরাপদ: রাজনীতির নামে যারা ক্ষমতার ছক কষেন, যারা কর্মীদের মাঠ গরম করার নির্দেশ দেন, তাদের বড় অংশই আজ বিদেশে বা নিরাপদ আশ্রয়ে আয়েশ করছেন।
  • কর্মী যখন নিঃস্ব: অন্যদিকে, সাধারণ কর্মীরা মামলার বোঝা কাঁধে নিয়ে পরিবারসহ নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছেন। সাদ্দামের পরিবারের এই পরিণতি প্রমাণ করে যে, রাজনীতির এই নোংরা খেলায় সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় সাধারণ পরিবারগুলোকে।

​এই কি সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ?

​আমরা কি এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম যেখানে রাজনীতির কারণে একটি শিশুকে তার মায়ের হাতেই প্রাণ দিতে হবে? যেখানে অভাব আর একাকীত্ব একটি পরিবারকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেবে?

​যে রাজনীতি মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারে না, যে রাজনীতি পরিবার ভেঙে দেয় এবং সন্তানদের এতিম (বা প্রাণ কেড়ে নেয়) করে— সেই রাজনীতিকে আজ কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর সময় এসেছে। সাধারণ কর্মীদের অন্ধ আনুগত্যের আগে ভাবা উচিত, বিপদের দিনে তাদের পাশে দল বা নেতা থাকে কি না।

​আমাদের দাবি ও প্রশ্ন

​সাদ্দামের পরিবারের এই করুণ পরিণতি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, বিচারহীনতা এবং অমানবিকতা কত গভীরে শিকড় গেড়েছে। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের জীবনের মূল্য দেওয়া শিখতে হবে।

আসুন আমরা প্রশ্ন তুলি:

১. কেন একজন বন্দিকে মানবিক কারণে শেষ বিদায় জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে না?

২. রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি কেন হবে সাধারণ পরিবারের নারী ও শিশুরা?

৩. নেপথ্যের কারিগররা কেন নিরাপদ, আর কর্মীরা কেন ধ্বংসের মুখে?

​এই শোক কেবল সাদ্দামের পরিবারের নয়, এই শোক গোটা জাতির বিবেকের। রাজনীতির এই বিষচক্র বন্ধ হোক, আর কোনো পরিবার যেন এভাবে ধবংস না হয়।

​#Humanity #PoliticalReality #JusticeForFamilies #Bangladesh #মানবিকতা #রাজনীতি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভা: নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ

January 24, 2026
Ai image 


​নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। আগামী ২৫শে জানুয়ারি রাতে কাঁচপুর বালুর মাঠে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং ব্যস্ততা লক্ষ্য করা গেছে।

​সমাবেশের বিশেষ দিকসমূহ:

  • ব্যাপক প্রস্তুতি: জনসভা সফল করতে কাঁচপুর বালুর মাঠে বিশাল প্যান্ডেল ও মঞ্চ তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে চলছে।
  • আলোকসজ্জা: পুরো মাঠটি আলোকিত রাখতে উন্নত মানের এলইডি (LED) লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
  • প্রচারণা: সমাবেশের বার্তা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে উপজেলার প্রতিটি পাড়া-মহল্লা ও ওয়ার্ডে প্রস্তুতি সভা করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
  • জনগণের আবেগ: দীর্ঘ ১৭ বছর পর দলীয় চেয়ারম্যানকে সরাসরি দেখার সুযোগ পেয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও কর্মীদের মাঝে বিশেষ আবেগ কাজ করছে।

​নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান জানান, এই জনসভাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। দীর্ঘ সময় পর তারেক রহমানের এই আগমনকে ঐতিহাসিক করে তুলতে সব ধরণের সাংগঠনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।

৪০ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী: নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া কি কঠিন হবে?

January 20, 2026


অনলাইন ডেস্ক | ঢাকা



​আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ক্ষমতার লড়াইয়ে অন্যতম শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে নামছে বিএনপি। তবে প্রচারণার এই ডামাডোলে দলটির জন্য নতুন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে 'বিদ্রোহী প্রার্থী' ইস্যু।

বিদ্রোহীদের দাপট ও বর্তমান চিত্র

​দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় শুরুতে বিএনপির মধ্যে অস্থিরতা দেখা দেয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী:

  • ​প্রাথমিকভাবে ৫২টি আসনে ৯১ জন নেতা মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন।
  • ​দলের হাই কমান্ডের চাপে এবং তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপে অনেকেই সরে দাঁড়িয়েছেন।
  • ​তবে এখনও ৪০টি আসনে অর্ধশতাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী ভোটের মাঠে অনড় রয়েছেন, যার মধ্যে রুমিন ফারহানা ও হাসান মামুনের মতো পরিচিত মুখও রয়েছেন।

কঠোর অবস্থানে বিএনপি হাই কমান্ড

​বিদ্রোহী দমনে বিএনপি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। গত ৩০ ডিসেম্বর দলের সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীর দিনই ১০ জন প্রভাবশালী নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরে দাঁড়াবেন না, তাদের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রার্থিতা বাতিল ও আইনি লড়াই

​বিদ্রোহী প্রার্থীদের পাশাপাশি আইনি জটিলতায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসন (কুমিল্লা-৪, কুমিল্লা-১০ এবং চট্টগ্রাম-২) নিয়ে বিপাকে রয়েছে দলটি। ঋণ খেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এসব আসনের প্রার্থীদের অযোগ্য ঘোষণা করেছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন, উচ্চ আদালতে রিটের মাধ্যমে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

শেষ মুহূর্তের চ্যালেঞ্জ

​২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। ফলে বিদ্রোহীদের মানিয়ে ভোটের মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য দলটির হাতে সময় মাত্র কয়েক ঘণ্টা। একাধিকবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা এই দলটি শেষ পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ এই কোন্দল মিটিয়ে কতটা সংহত হয়ে নির্বাচনে লড়তে পারে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

Advertisement

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে প্রদর্শন করুন (৭২৮x৯০)

Powered by Blogger.