নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট ও ধনকুবের ইলন মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা 'স্টারলিংক' সফলভাবে অচল করে দিয়েছে ইরান। উন্নত সামরিক জ্যামিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটিয়েছে তেহরান। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রযুক্তি যে অপরাজেয় নয়, ইরান তা হাতে-কলমে প্রমাণ করে দিল।
সংযোগ বিপর্যয়ের চিত্র
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে বর্তমানে কয়েক হাজার স্টারলিংক রিসিভার ইউনিট সক্রিয় থাকলেও সেগুলোর সংযোগ এখন প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। শুরুতে ইন্টারনেট ট্রাফিকের ৩০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বর্তমানে ৮০ শতাংশেরও বেশি সংযোগ অচল হয়ে পড়েছে। স্টারলিংক কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
যেভাবে অচল করা হলো স্টারলিংক
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্টারলিংক রিসিভারগুলো মূলত গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম বা জিপিএস (GPS) সিগন্যালের ওপর নির্ভর করে কাজ করে। ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর থেকেই ইরান কৌশলগতভাবে জিপিএস সিগন্যাল জ্যাম করা শুরু করে। শক্তিশালী এই জ্যামিং সিগন্যালের কারণেই স্টারলিংকের স্যাটেলাইট সংযোগ পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক প্রভাব
ইরানে স্টারলিংক ব্যবহারের কোনো সরকারি অনুমোদন নেই। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন উপায়ে দেশটিতে রিসিভারগুলো পাঠানো হয়েছিল। মূলত:
- বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ: দেশটিতে চলমান বিক্ষোভের সময় বিক্ষোভকারীরা যোগাযোগের জন্য স্টারলিংককে 'লাইফলাইন' হিসেবে ব্যবহার করছিল।
- মার্কিন তৎপরতা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে ইন্টারনেট সচল রাখতে ইলন মাস্কের সঙ্গে বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
- বৈশ্বিক গুরুত্ব: ইউক্রেন যুদ্ধ বা মিয়ানমারের সংঘাত—সবখানেই স্টারলিংক মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় বড় হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু ইরানের এই প্রযুক্তিগত সাফল্য যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।
সরকারের বক্তব্য
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ইন্টারনেট সংযোগ পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। তবে বিদেশি দূতাবাস এবং সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংযোগ দেওয়া হবে।

No comments: