ADS

ব্রেকিং নিউজ: ​১. ইরানের কূটনীতি ও সামরিক শক্তি ‘একই মুদ্রার দুই পিঠ’ ​ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান আলোচনা নিয়ে তেহরানে এক গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আব্দুর রাহিম মুসাফি সংসদ সদস্যদের ব্রিফ করেন। ​কঠোর অবস্থান: ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার থেকে তারা এক চুলও সরবে না। ​ওমান সংলাপ: ওমানের মাসকাটে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে তিনি শর্ত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের গ্যারান্টি দিতে হবে। ​২. মহাকাশ প্রযুক্তিতে ইরানের নতুন দিগন্ত: রাডার স্যাটেলাইট 'রাদ' ​ইরান স্পেস এজেন্সি তাদের প্রথম অত্যাধুনিক রাডার স্যাটেলাইট ‘রাদ-১’ এবং ‘রাদ-২’ উন্মোচন করতে যাচ্ছে। ​বিশেষত্ব: এই স্যাটেলাইটগুলো মেঘ, কুয়াশা বা ধুলোবালির মধ্যেও নিখুঁত ছবি তুলতে সক্ষম (SAR প্রযুক্তি)। ​সাফল্য: বছরের শুরুতেই কক্ষপথে পাঠানো জাফার, পায়া এবং কাউসার স্যাটেলাইটগুলো সফলভাবে কাজ শুরু করেছে বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি। ​৩. কানাডায় স্কুলে ভয়াবহ বন্দুক হামলা: ৯ জন নিহত ​কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার টাম্বলডার রিজ শহরের একটি স্কুলে মর্মান্তিক বন্দুক হামলায় অন্তত ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২৭ জন। ​হামলাকারী: পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী একজন নারী ছিলেন, যিনি হামলার পর নিজেই প্রাণ হারিয়েছেন। ​শোক: শান্ত এই পাহাড়ি শহরে এমন ঘটনায় পুরো দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ​৪. ফিলিস্তিন ইস্যুতে জাতিসংঘে সরব আরব ও মুসলিম দেশগুলো ​ইসরাইল কর্তৃক পশ্চিম তীর দখলের চেষ্টার বিরুদ্ধে জাতিসংঘে সোচ্চার হয়েছে আরব লীগ ও ওআইসি (OIC)। দুই ডজনেরও বেশি দেশের রাষ্ট্রদূত এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন: ​ইসরাইলের বসতি সম্প্রসারণ আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। ​একতরফা ভূমি দখল বন্ধ না করলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা অসম্ভব। ​বিবৃতিতে অবিলম্বে ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

সরাসরি ভোটে হেরেও কি সংসদে যাচ্ছেন নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী ও সারজিস আলমরা? জেনে নিন নতুন সমীকরণ

February 13, 2026

ঢাকা, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬



কল্পনা করুন, নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে আপনি বিপুল ভোটে হেরে গেলেন, কিন্তু কয়েকদিন পরেই খবর এলো আপনি হতে যাচ্ছেন দেশের অন্যতম নীতিনির্ধারক বা সংসদ সদস্য! শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, বাংলাদেশের প্রস্তাবিত নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এটিই হতে যাচ্ছে বাস্তবতা।

​বর্তমানে সারাদেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে—ব্যালট যুদ্ধে হেরে গিয়েও কীভাবে অনেক আলোচিত নেতা সংসদে পা রাখতে পারেন? এটি কোনো ম্যাজিক নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সংসদীয় কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

কী এই দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা?

​এই বিস্ময়কর প্রক্রিয়ার মূলে রয়েছে প্রস্তাবিত দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থা। বর্তমানে আমাদের দেশে শুধুমাত্র ৩০০ আসনের সরাসরি নির্বাচন হয়। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী:

  • নিম্নকক্ষ: যেখানে প্রার্থীরা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন।
  • উচ্চকক্ষ (সিনেট): এর সদস্যরা সরাসরি ভোটে নয়, বরং পিআর পদ্ধতি (Proportional Representation) বা আনুপাতিক হারে মনোনীত হবেন।

সহজ ব্যাখ্যা: একটি রাজনৈতিক দল সারাদেশে মোট কত শতাংশ ভোট পেল, তার ওপর ভিত্তি করে উচ্চকক্ষে তাদের আসন সংখ্যা নির্ধারিত হবে। অর্থাৎ, দলের কোনো হেভিওয়েট নেতা নিজ আসনে পরাজিত হলেও, দলের প্রাপ্ত ভোটের জনপ্রিয়তায় ভর করে 'সিনেট সদস্য' হিসেবে তিনি ঠিকই জাতীয় সংসদে জায়গা করে নিতে পারবেন।

সংসদে যাওয়ার দৌড়ে আলোচনায় যারা

​নতুন এই নিয়মে উচ্চকক্ষে বসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ও তরুণ নেতার:

  1. জাতীয় নাগরিক কমিটি: নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম।
  2. বিএনপি ও অন্যান্য জোট: ঢাকা-১৬ আসনের আমিনুল হকসহ অভিজ্ঞ নেতারা।
  3. জামায়াতে ইসলামী: সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ডক্টর হামিদুর রহমান আজাদ এবং অ্যাডভোকেট শিশির মনির।
  4. ইসলামী ঘরানার দল: ইসলামী আন্দোলনের মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা মামুনুল হক।

রাজনীতিতে এর প্রভাব কী?

​এই পদ্ধতি কার্যকর হলে বড় দলগুলো তাদের যোগ্য ও বিশেষজ্ঞ নেতৃত্বকে নির্বাচনের হারের পরেও সংসদে কাজে লাগাতে পারবে। তারা সংসদ সদস্য (MP) হিসেবে পরিচিত না হলেও, তাদের মূল পরিচয় হবে 'সিনেট সদস্য'

​বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ব্যবস্থা দেশের আইন প্রণয়নে অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে, যা গতানুগতিক 'বিজয়ী-বিজিত' ব্যবধানকে কমিয়ে আনবে। মাঠের লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে এই প্রভাবশালী নেতাদের উপস্থিতি বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।


পঞ্চগড়ে সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার চেষ্টা: উত্তপ্ত নির্বাচনী মাঠ

February 11, 2026


নিজস্ব প্রতিবেদক | পঞ্চগড় 

Ai image 

নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পঞ্চগড়। আটোয়ারী উপজেলায় নির্বাচনী জনসভা শেষে ফেরার পথে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলমের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং তার নিজের গাড়িবহর আটকে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি (২০২৬) সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সূত্রপাত সারজিস আলমের দাবি অনুযায়ী, আটোয়ারী উপজেলায় একটি বিশাল জনসভা শেষে ফেরার পথে ধামর ও মির্জাপুর ইউনিয়নে এই হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির কিছু নেতাকর্মী ও সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা গুরুতর এবং তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এমনকি ৫৮-৬০ বছর বয়সী এক নারী কর্মীকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে।

ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ হামলার খবর পেয়ে সারজিস আলম যখন ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন বিভিন্ন পয়েন্টে লাঠিসোঁটা নিয়ে তার গাড়িও আটকানোর চেষ্টা করা হয়। তিনি বলেন:

"ভোটারদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্যই এই হামলা। তারা চায় সাধারণ মানুষ যেন ভোটকেন্দ্রে না যায়। এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক নোংরামি ছাড়া আর কিছুই নয়।"


​সারজিস আলম আরও দাবি করেন, হামলাকারীরা নিজেরা কোনো আঘাত না পেয়েও হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ‘অভিনয়’ করছে এবং মিথ্যা দায় চাপানোর চেষ্টা করছে।

প্রশাসনের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি ঘটনার পর জেলা প্রশাসন ও রিটার্নিং অফিসারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, প্রশাসন কেবল ‘হাত মিলিয়ে’ মীমাংসা করে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা অপরাধীদের আরও সাহসী করে তুলছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন:

"প্রশাসন যদি কঠোর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তবে আমরা রাজনৈতিকভাবে সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করতে বাধ্য হবো। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।"


প্রমাণ হিসেবে ভিডিও ফুটেজ হামলার চেষ্টার সময় সারজিস আলমের গাড়িতে থাকা ক্যামেরায় পুরো ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রেকর্ড হয়েছে বলে তিনি জানান। এই ভিডিওটি প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর এবং জনসম্মুখে প্রকাশ করার কথা জানানো হয়েছে।

শরীয়তপুরে ৭ লাখ টাকাসহ পোলিং এজেন্ট আটক: যৌথ বাহিনীর বড় অভিযান

February 11, 2026

    শরীয়তপুর প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

    Ai image 


    নির্বাচন ২০২৬-কে কেন্দ্র করে শরীয়তপুরে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। আজ জেলাটিতে যৌথ বাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থসহ একজন পোলিং এজেন্টকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অর্থের পরিমাণ সাত লক্ষাধিক টাকা

    ■ অভিযানের বিস্তারিত

    ​গোপন তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে আটককৃত ব্যক্তির তল্লাশি চালিয়ে ৫০০ টাকার নোটের একাধিক বড় বান্ডিল উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, নির্বাচনের মাঠে ভোটারদের প্রভাবিত করতে বা অবৈধ লেনদেনের উদ্দেশ্যে এই অর্থ আনা হয়েছিল।

    ■ মূল তথ্যসমূহ একনজরে:

    • জব্দকৃত অর্থ: প্রায় ৭,০০,০০০+ নগদ টাকা।
    • আটক ব্যক্তি: একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রের দায়িত্বরত পোলিং এজেন্ট।
    • যৌথ বাহিনী: অভিযানে অংশ নেয় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাবের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ টিম।
    • বর্তমান অবস্থা: আটক ব্যক্তিকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং জব্দকৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করার প্রক্রিয়া চলছে।
    • ​"নির্বাচনকালীন সময়ে অবৈধ অর্থের প্রভাব রোধে আমরা 'জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণ করেছি। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।"

      দায়িত্বরত কর্মকর্তা


      ■ প্রশাসনের কড়া বার্তা

      ​নির্বাচনী সহিংসতা ও টাকার খেলা বন্ধে মাঠ পর্যায়ে কড়া নজরদারি অব্যাহত রেখেছে প্রশাসন। এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো প্রভাবশালী মহলের ইন্ধন আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

আন্তর্জাতিক সংবাদ পর্যালোচনা: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

February 11, 2026
Ai image 
বিশ্ব রাজনীতিতে আজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কূটনৈতিক মেরুকরণ এবং কানাডায় মর্মান্তিক প্রাণহানির খবর ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এক নজরে দেখে নিন আজকের শীর্ষ সংবাদগুলো:

১. ইরানের কূটনীতি ও সামরিক শক্তি ‘একই মুদ্রার দুই পিঠ’

​ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান আলোচনা নিয়ে তেহরানে এক গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আব্দুর রাহিম মুসাফি সংসদ সদস্যদের ব্রিফ করেন।

  • কঠোর অবস্থান: ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার থেকে তারা এক চুলও সরবে না।
  • ওমান সংলাপ: ওমানের মাসকাটে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে তিনি শর্ত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের গ্যারান্টি দিতে হবে।

২. মহাকাশ প্রযুক্তিতে ইরানের নতুন দিগন্ত: রাডার স্যাটেলাইট 'রাদ'

​ইরান স্পেস এজেন্সি তাদের প্রথম অত্যাধুনিক রাডার স্যাটেলাইট ‘রাদ-১’ এবং ‘রাদ-২’ উন্মোচন করতে যাচ্ছে।

  • বিশেষত্ব: এই স্যাটেলাইটগুলো মেঘ, কুয়াশা বা ধুলোবালির মধ্যেও নিখুঁত ছবি তুলতে সক্ষম (SAR প্রযুক্তি)।
  • সাফল্য: বছরের শুরুতেই কক্ষপথে পাঠানো জাফার, পায়া এবং কাউসার স্যাটেলাইটগুলো সফলভাবে কাজ শুরু করেছে বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।

৩. কানাডায় স্কুলে ভয়াবহ বন্দুক হামলা: ৯ জন নিহত

​কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার টাম্বলডার রিজ শহরের একটি স্কুলে মর্মান্তিক বন্দুক হামলায় অন্তত ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২৭ জন।

  • হামলাকারী: পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী একজন নারী ছিলেন, যিনি হামলার পর নিজেই প্রাণ হারিয়েছেন।
  • শোক: শান্ত এই পাহাড়ি শহরে এমন ঘটনায় পুরো দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

৪. ফিলিস্তিন ইস্যুতে জাতিসংঘে সরব আরব ও মুসলিম দেশগুলো

​ইসরাইল কর্তৃক পশ্চিম তীর দখলের চেষ্টার বিরুদ্ধে জাতিসংঘে সোচ্চার হয়েছে আরব লীগ ও ওআইসি (OIC)। দুই ডজনেরও বেশি দেশের রাষ্ট্রদূত এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন:

  • ​ইসরাইলের বসতি সম্প্রসারণ আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
  • ​একতরফা ভূমি দখল বন্ধ না করলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা অসম্ভব।
  • ​বিবৃতিতে অবিলম্বে ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
  • ​বিশ্ব সংবাদ ও সমসাময়িক বিশ্লেষণের নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের সঙ্গেই থাকুন।

দুর্নীতি সূচক ২০২৫: স্কোরে উন্নতি হলেও অবস্থানে পিছিয়েছে বাংলাদেশ

February 10, 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 

Ai image 
বিশ্বজুড়ে দুর্নীতির লাগাম কারা টেনে ধরতে পারছে আর কারা তলিয়ে যাচ্ছে দুর্নীতির অতল গহ্বরে, তার বার্ষিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (TI)। গত মঙ্গলবার সকালে ধানমন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ১৮২টি দেশের তথ্য নিয়ে ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক ২০২৫’ এর বৈশ্বিক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

​স্কোর ও অবস্থানের চিত্র

​২০২৫ সালের এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানে মিশ্র ফলাফল দেখা গেছে। ১০০-এর স্কেলে বাংলাদেশের প্রাপ্ত স্কোর এবার ২৪, যা গত বছরের তুলনায় ১ পয়েন্ট বেড়েছে। তবে স্কোরে সামান্য উন্নতি হলেও বৈশ্বিক তালিকায় সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থানের অবনতি হয়েছে।

  • ২০২৪ সাল: দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ছিল ১৪তম
  • ২০২৫ সাল: এক ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ এখন ১৩তম অবস্থানে।

​জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিবাচক প্রভাব

​টিআইবি-র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের এই ১ পয়েন্ট স্কোর বৃদ্ধির পেছনে বিশেষ কারণ হিসেবে কাজ করেছে জুলাই অভ্যুত্থান। আন্দোলনের ফলে দেশে সুশাসন ও জবাবদিহিতার যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তার একটি ইতিবাচক মূল্যায়ন এই সূচকে উঠে এসেছে। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়ার পূর্ণ প্রতিফলন এখনো সূচকে আসেনি, কারণ প্রতিবেদনের সিংহভাগ তথ্যই ছিল পূর্ববর্তী সময়ের।

​বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট

  • শীর্ষে ডেনমার্ক: ৮৯ স্কোর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে টানা শীর্ষে রয়েছে ডেনমার্ক।
  • সর্বনিম্ন অবস্থানে: মাত্র ৯ স্কোর নিয়ে তালিকার তলানিতে বা সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তকমা পেয়েছে দক্ষিণ সুদান ও সোমালিয়া।

​বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

​টিআইবি-র নির্বাহী পরিচালক ডক্টর ইফতেখারুজ্জামান বিষয়টিকে দেশের সুশাসনের জন্য একটি বড় সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, দুর্নীতির ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। কার্যকর রাষ্ট্র সংস্কার এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে কেবল এই সামান্য স্কোরের উন্নতি দীর্ঘমেয়াদী কোনো ফল বয়ে আনবে না।

​প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ উচ্চমাত্রার দুর্নীতিগ্রস্ত দেশে বসবাস করছে, এমনকি উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতেও দুর্নীতির গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী।

​ডা. শফিকুর রহমান: বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের নাম

February 10, 2026
Ai image 

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন পরিবর্তনের হাওয়া। দীর্ঘদিনের চেনা ছক ভেঙে নতুন কিছু মুখ এবং নেতৃত্ব আলোচনায় উঠে আসছে। এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর মধ্যে অন্যতম হলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ডামাডোলে তিনি কেবল একটি দলের প্রধান নন, বরং ক্ষমতার ভারসাম্যের এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে পরিণত হয়েছেন।

১. অস্পৃশ্যতা থেকে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু

​কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক এলিট বা বিদেশি কূটনীতিকরা জামায়াত নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে কুণ্ঠাবোধ করতেন। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে সেই চিত্র এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। পশ্চিমা শক্তি থেকে শুরু করে প্রতিবেশী ভারতের কূটনীতিকরাও এখন ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে টেবিলে বসছেন। এটি কেবল তার ব্যক্তিগত ক্যারিশমা নয়, বরং দেশের ভেঙে পড়া রাজনৈতিক কাঠামোতে জামায়াতের শক্তিশালী প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত।

২. ২০৪০ সালের ভিশন ও অর্থনৈতিক রোডম্যাপ

​ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াত এখন কেবল আদর্শিক আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চাইছে না। তাদের সাম্প্রতিক ইশতেহারে ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি ২ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তি-নির্ভর কৃষি, স্বাস্থ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা রাষ্ট্র পরিচালনার প্রস্তুতি জানান দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা একে দেখছেন জামায়াতের "মডার্ন স্টেট" বা আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার একটি মহড়া হিসেবে।

৩. তরুণ প্রজন্মের 'দাদু'

​সাধারণত ধর্মীয় দলগুলোর প্রতি তরুণদের এক ধরনের দূরত্ব থাকলেও ডা. শফিকুর রহমান সেটি ঘোচাতে সক্ষম হয়েছেন। তরুণদের সাথে তার সম্মানজনক ও মার্জিত আলাপচারিতা তাকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক তরুণ তাকে ভালোবেসে 'দাদু' বলে সম্বোধন করেন, যা বাংলাদেশের রক্ষণশীল রাজনীতিতে এক বিরল দৃশ্য।

৪. চ্যালেঞ্জ যেখানে: অতীত ও বর্তমানের টানাপোড়েন

​এত ইতিবাচক আলোচনার মাঝেও ডা. শফিকুর রহমানের সামনে কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে:

  • অতীতের বোঝা: ১৯৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে আজও জামায়াতকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। যদিও ডা. শফিকুর রহমান সূক্ষ্মভাবে অতীতের ভুল স্বীকারের ইঙ্গিত দিয়েছেন, তবে তা কতটুকু কার্যকর হবে তা সময় বলে দেবে।
  • নারী নেতৃত্ব: আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নারী নেতৃত্ব নিয়ে তার রক্ষণশীল অবস্থান আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার সাথে কিছুটা সাংঘর্ষিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৫. ব্যক্তিগত ত্যাগ ও নেতৃত্বের ধরন

​একজন সাবেক সরকারি চিকিৎসক হিসেবে তার শান্ত ও ধীরস্থির স্বভাব তাকে অন্যান্য মারমুখী নেতাদের থেকে আলাদা করেছে। ২০২২ সালে কারাবরণ এবং পরবর্তীতে মুক্তি পাওয়ার পর তার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আরও পোক্ত হয়েছে। সমাবেশে অসুস্থ শরীরেও চিকিৎসকের নিষেধ অমান্য করে বক্তব্য চালিয়ে যাওয়ার ঘটনা তাকে সমর্থকদের কাছে 'ত্যাগী নেতা' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

পরিশেষে:

নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ডা. শফিকুর রহমান এখন এক অনিবার্য শক্তি। তিনি কি পারবেন অতীতের বোঝা ঝেড়ে ফেলে জামায়াতকে একটি আধুনিক ও গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে? উত্তর পেতে আমাদের আগামী নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

​বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে জামায়াতের জয়জয়কার: কেন বাড়ছে দলটির জনপ্রিয়তা?

February 09, 2026
Ai image 
২৪শে জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে দেশীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক—সবার মতেই, ভোটের মাঠে জামায়াতে ইসলামী এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। কেন বিএনপিকে ছাপিয়ে জামায়াতের জনপ্রিয়তা ‘রকেট গতিতে’ বাড়ছে, তার পেছনে কয়েকটি মৌলিক কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশ্লেষকরা।

১. দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি মুক্ত ভাবমূর্তি

​বিশ্লেষক ডেভিড বার্গম্যানের মতে, আওয়ামী লীগের পতনের পর দেশের অনেক স্থানেই দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। কিন্তু জামায়াতের ক্ষেত্রে এই চিত্র ভিন্ন। তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোনো চাঁদাবাজি বা বিশৃঙ্খলার অভিযোগ না থাকা সাধারণ মানুষের মধ্যে দলটির প্রতি আস্থার সৃষ্টি করেছে।

২. পরিকল্পিত সমাজসেবা ও মানবিক সহায়তা

​জুলাই বিপ্লবে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পাশে জামায়াতে ইসলামী যেভাবে সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিতভাবে দাঁড়িয়েছে, তা সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছে। আর্থিক সহায়তা থেকে শুরু করে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা—তাদের এই ‘কল্যাণমুখী রাজনীতি’ দলটিকে অন্য সব দলের চেয়ে আলাদা করেছে।

৩. পরিবারতন্ত্রের অনুপস্থিতি ও আধুনিক নেতৃত্ব

​দেশের বড় দুটি দলে যেখানে পরিবারতন্ত্রের প্রভাব স্পষ্ট, সেখানে জামায়াত একটি আধুনিক ও মেধাভিত্তিক ইসলামী দল হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করছে। দলটির বর্তমান নেতৃত্বের সাথে ১৯৭১-এর সরাসরি সম্পৃক্ততা না থাকায় তরুণ প্রজন্মের কাছে তারা নতুনভাবে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে।

৪. ভারতবিরোধী অবস্থান ও সার্বভৌমত্বের রক্ষা

​বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে যে তীব্র ভারতবিরোধী মনোভাব তৈরি হয়েছে, জামায়াতকে তার কড়া প্রবক্তা মনে করা হয়। ভোটারদের একটি বড় অংশ মনে করে, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের প্রভাব মোকাবেলায় জামায়াত অন্য দলগুলোর চেয়ে বেশি আপসহীন থাকবে।

৫. সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও সংহতি

​জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। যেখানে বড় দলগুলোতে বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি, সেখানে জামায়াতের মধ্যে কোনো কোন্দল নেই। ম্যান-টু-ম্যান ক্যাম্পেইন এবং ডোর-টু-ডোর প্রচারণায় তারা অনেক বেশি সুশৃঙ্খল। এছাড়া দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রশিবিরের জয় তাদের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার নতুন প্রমাণ দিচ্ছে।

৬. আওয়ামী ভোটারদের সমীকরণ ও তরুণদের অনীহা

​বিএনপি অনেক ক্ষেত্রে আওয়ামী ভোটারদের টানার কৌশল নিলেও ‘অ্যান্টি-আওয়ামী’ ভোটাররা মনে করছেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে পুরনো বৃত্তেই দেশ আটকে থাকবে। নতুন প্রজন্ম পরিবর্তন চায়, আর সেই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা থেকেই তারা জামায়াতের দিকে ঝুঁকছে।

পরিশেষে: > বাংলাদেশে দীর্ঘদিন কোণঠাসা থাকার পর জামায়াতে ইসলামী এখন মূলধারার রাজনীতিতে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। যদি একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, তবে জামায়াত চমকপ্রদ ফলাফল করবে বলে ধারণা করছেন দেশি-বিদেশি বিশ্লেষকরা।

যাত্রাবাড়ীতে সেনাবাহিনীর ঝটিকা অভিযান: আমেরিকান পিস্তল ও বিপুল মাদক উদ্ধার

February 06, 2026

ঢাকা | শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Ai image 

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, নগদ অর্থ ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে। শুক্রবার একাত্তর টিভির এক প্রতিবেদনে এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের চিত্র উঠে আসে।

​অভিযানের মূল ঘটনা

​গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি বহুতল ভবনে এই অভিযান চালানো হয়। সেনাবাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত সুকৌশলে পুরো বাড়িটি ঘিরে ফেলেন এবং সন্দেহভাজন কক্ষে তল্লাশি চালান। অভিযানে আসবাবপত্রের আড়ালে এবং সিলিংয়ের ভেতর থেকে লুকানো অবস্থায় অবৈধ মালামাল জব্দ করা হয়।

​উদ্ধারকৃত অবৈধ সরঞ্জামসমূহ:

​তল্লাশি শেষে সেনাবাহিনী নিম্নলিখিত মালামালগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম হয়:

  • অত্যাধুনিক অস্ত্র: একটি ইউএসএ (USA) তৈরি ৯ এমএম পিস্তল।
  • মাদকদ্রব্য: অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক (প্রাথমিকভাবে হিরোইন হিসেবে চিহ্নিত) উদ্ধার করা হয়।
  • নগদ অর্থ: ব্যাগভর্তি বিপুল পরিমাণ দেশি মুদ্রা জব্দ করা হয়েছে।
  • ইলেকট্রনিক ডিভাইস: বেশ কিছু মোবাইল ফোন এবং সিম কার্ড সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।

​যেভাবে উদ্ধার হলো অস্ত্র

​ বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি করার এক পর্যায়ে একটি ব্যাগের ভেতরে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় অস্ত্রটি পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে, আলামিন নামক এক ব্যক্তির বাসায় এই অস্ত্রটি রাখা হয়েছিল। এছাড়া ঘরের ফলস সিলিং খুলে এবং টিভির পেছনেও তল্লাশি চালানো হয়।

​বর্তমান পরিস্থিতি

​আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অবৈধ অস্ত্র ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সেনাবাহিনীর এই বিশেষ অভিযান সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। জব্দকৃত মালামাল এবং আটককৃতদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর নতুন ইশতেহার: বৈষম্যহীন ও ইনসাফ ভিত্তিক বাংলাদেশের রূপরেখা

February 05, 2026
Ai image 
জুলাই বিপ্লবের রক্তঝরা দিনগুলো পেরিয়ে বাংলাদেশ এখন এক নতুন সন্ধিক্ষণে। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে "চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ" স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের ৮৬ পৃষ্ঠার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। এটি কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ।

​ইশতেহারের মূল দর্শন: ৫টি 'হ্যাঁ' এবং ৫টি 'না'

​ইশতেহারে ১০টি মৌলিক প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা দুটি ভাগে বিভক্ত:

  • হ্যাঁ (৫টি): সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান।
  • না (৫টি): দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজি।

​ইশতেহারের প্রধান দিকসমূহ:

১. দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন:

দুর্নীতির বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রশাসনের সব স্তরে সেবাকে ডিজিটালাইজড করা হবে। মন্ত্রী, এমপি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের বার্ষিক সম্পদের হিসাব জনগণের সামনে পেশ করা বাধ্যতামূলক করা হবে।

২. যুব উন্নয়ন ও বেকারত্ব নিরসন:

  • ​বেকারত্ব দূর করতে দেশে ও বিদেশে প্রায় সাত কোটি কর্মক্ষম যুবকের জন্য বিশাল কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা রয়েছে।
  • ​সরকারি চাকরিতে আবেদনের জন্য কোনো আবেদন ফি নেওয়া হবে না।
  • ​দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে জেলাভিত্তিক 'হিউম্যান স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার' স্থাপন করা হবে।

৩. নারী অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা:

  • ​কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার্থে সম্মতির ভিত্তিতে কর্মঘণ্টা ৫ ঘণ্টায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
  • ​নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস এবং গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করতে 'আমার আয়ে সংসার' প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
  • ​সম্পত্তি সুরক্ষা কমিটি ও নির্যাতনের দ্রুত বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে।

৪. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আমূল পরিবর্তন:

  • ​শিক্ষা বাজেট বাড়িয়ে জিডিপির ৬ শতাংশ করার অঙ্গীকার করা হয়েছে এবং স্নাতক পর্যন্ত নারীদের বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ থাকবে।
  • ​স্বাস্থ্য খাতে ৫ বছরের কম এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।

৫. কৃষি, পরিবেশ ও অবকাঠামো:

  • ​২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির বিপ্লব ঘটানো হবে।
  • ​ঢাকার সাথে বিভাগীয় শহরগুলোর দূরত্ব ২-৩ ঘণ্টায় নামিয়ে আনতে রেল ও সড়কপথের আধুনিকায়ন করা হবে।

​ঐক্যের রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ ভাবনা

​জামায়াতের আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, তার দল কোনো একক দলের বিজয় নয়, বরং ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চায়। প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে ক্ষমা ও ঐক্যের মাধ্যমে একটি ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

উপসংহার:

এই ইশতেহারটি তৈরিতে জনতার ইশতেহার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রায় ৪০০০ মানুষের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। এটি একটি আধুনিক প্রযুক্তি ও নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে তৈরি বাস্তবসম্মত রূপরেখা, যা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

সীমান্তের ওপার থেকে অস্থিরতার ব্লু-প্রিন্ট: ‘র’-এর ১০৩ সদস্য নিয়ে বাংলাদেশে উচ্চ সতর্কতা

February 05, 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

Ai image 
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্বকে লক্ষ্য করে সীমান্তের ওপার থেকে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের ছক আঁকা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (RAW)-এর প্রত্যক্ষ মদদে ১০৩ সদস্যের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে, যাদের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশে বড় ধরনের অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সারা দেশে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ‘রিমোট কন্ট্রোল’ ষড়যন্ত্র

​প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এই ষড়যন্ত্রের একটি বড় অংশ পরিচালিত হচ্ছে ডিজিটাল মাধ্যমে। সাইবার স্পেস ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে বিশেষ ‘ব্রেইনওয়াশ’ প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।

  • গুজব ছড়ানো: ইউটিউব ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় উসকানিমূলক কন্টেন্ট তৈরি করা হচ্ছে।
  • টার্গেট কিলিং ও অস্থিরতা: দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং স্পর্শকাতর বিষয়গুলোকে টার্গেট করে অস্থিরতা সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে এই চক্রের।
  • প্রযুক্তিগত প্রোপাগান্ডা: আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সীমান্ত এলাকা থেকে ‘রিমোট কন্ট্রোল’ পদ্ধতিতে বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা উসকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর অভেদ্য দেয়াল: প্রযুক্তিগত নজরদারি

​ষড়যন্ত্রের এই ব্লু-প্রিন্ট নস্যাৎ করতে বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

  1. স্মার্ট মনিটরিং: সীমান্তে বিজিবি (BGB) এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ড্রোন ও থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।
  2. সাইবার ওয়াচ: এনটিএমসি (NTMC) এবং পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটগুলো প্রতিটি ডিজিটাল মুভমেন্ট ট্র্যাক করছে।
  3. সমন্বিত পদক্ষেপ: ডিএমপি কমিশনারসহ সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা একটি ‘আনহোলি অ্যালায়েন্স’ বা অশুভ আঁতাত রুখতে কাজ করছেন।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও সতর্কতা

​নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং অপরাধ বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করতেই বাইরের শক্তিগুলো এমন নীল নকশা তৈরি করেছে। ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ‘ডিজিটাল যুদ্ধ’ মোকাবিলায় কেবল নিরাপত্তা বাহিনী নয়, সাধারণ জনগণের সচেতনতাও অপরিহার্য।

উপসংহার:

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো প্রকার আপস না করার ঘোষণা দিয়েছে। যেকোনো প্রকার উসকানি বা সন্দেহজনক কার্যক্রম নজরে এলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: ডেইলি আমার দেশ। 

তারিখ: ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬


অনলাইন গেমের মরণনেশা: গাজিয়াবাদে ৯ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে তিন বোনের করুণ মৃত্যু

February 04, 2026
Ai image 

গাজিয়াবাদ: প্রযুক্তির আসক্তি যখন প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে, তখন তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তারই এক নৃশংস প্রমাণ মিলল উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে। অনলাইন গেমিং অ্যাপের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা তিন বোন বহুতল ভবনের ৯ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে। বুধবার গভীর রাতে গাজিয়াবাদের 'ভারত সিটি' সোসাইটিতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

​ঘটনার প্রেক্ষাপট

​মৃত তিন বোন হলো—নিশিকা (১৬), প্রাচী (১৪) এবং পাখি (১২)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, করোনাকালের পর থেকেই মেয়ে তিনটি ঘরকুনো হয়ে পড়েছিল। তারা নিয়মিত স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল এবং দিনের অধিকাংশ সময় কাটাত স্মার্টফোনের স্ক্রিনে। তাদের বাবা চেতন কুমার পেশায় একজন শেয়ার বাজার বিশেষজ্ঞ। তিনি জানান, মেয়েরা পড়াশোনায় চরম অমনোযোগী হয়ে পড়েছিল এবং কোরিয়ান অনলাইন গেম ও সংস্কৃতির প্রতি অদ্ভুতভাবে আসক্ত হয়ে উঠেছিল।

​যেভাবে ঘটল ট্র্যাজেডি

​ঘটনার দিন তাদের বাবা মোবাইল ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি করেন এবং গেম খেলতে বাধা দেন। এরপরই অভিমানে তিন বোন নিজেদের ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। রাত প্রায় ২টো নাগাদ তারা ফ্ল্যাটের বারান্দা থেকে নিচে ঝাঁপ দেয়। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়।

​তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, এটি স্রেফ অভিমান নাকি কোনো অনলাইন গেমের ভয়ংকর 'টাস্ক' (Task) পূরণ করার চেষ্টা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোরিয়ান কিছু গেমে এমন কিছু চ্যালেঞ্জ থাকে যা কিশোর-কিশোরীদের আত্মহননের দিকে ঠেলে দেয় বলে প্রাথমিক সন্দেহ করা হচ্ছে।

​উদ্ধারকৃত সুসাইড নোট

​ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি ডায়েরি ও সুসাইড নোট উদ্ধার করেছে। সেখানে একটি স্কেচ আঁকা ছিল, যাতে দেখা যায় চোখ দিয়ে জল পড়ছে। নিচে লেখা ছিল— "আই অ্যাম রিয়েলি সরি পাপা" (I am really sorry Papa)। তারা তাদের বাবার কাছে ক্ষমা চাইলেও ডায়েরির পাতায় লুকিয়ে থাকা অনেক যন্ত্রণার কথা উল্লেখ করেছে, যা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

​মনোবিদদের সতর্কতা ও পরামর্শ

​এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে মনোবিদরা জানিয়েছেন, শিশুদের মস্তিষ্কে অনলাইন গেমের প্রভাব মাদকের মতোই ভয়ংকর।

  • আবেগ নিয়ন্ত্রণ: ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সের কিশোর-কিশোরীদের মস্তিস্ক পুরোপুরি বিকশিত হয় না, ফলে তারা হুট করে চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।
  • বিকল্প ব্যস্ততা: সন্তানদের কেবল শাসন না করে তাদের খেলাধুলা, বাগান করা বা সৃজনশীল কাজের সাথে যুক্ত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
  • স্ক্রিন টাইম: হুট করে মোবাইল কেড়ে না নিয়ে ধীরে ধীরে ব্যবহারের সময় কমিয়ে আনা এবং সন্তানদের সাথে বন্ধুর মতো মিশে তাদের মানসিক অবস্থা বোঝার চেষ্টা করা জরুরি।

​গাজিয়াবাদের এই ঘটনা কেবল একটি পরিবারের শোক নয়, বরং আধুনিক যুগের প্রতিটি মা-বাবার জন্য একটি সতর্কবার্তা।

আন্তর্জাতিক সংবাদ পর্যালোচনা: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইন্দোনেশিয়ার হুঁশিয়ারি

February 04, 2026

ঢাকা, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সামরিক উত্তেজনার পারদ আরও চড়ছে। আরব সাগরে ইরানের ড্রোন ভূপাতিত করা থেকে শুরু করে ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইন্দোনেশিয়ার কঠোর অবস্থান—সব মিলিয়ে বিশ্ব রাজনীতি এখন উত্তাল। আজকের প্রধান সংবাদগুলোর বিস্তারিত প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো:

১. আরব সাগরে মার্কিন রণতরীর দিকে আসা ইরানি ড্রোন ভূপাতিত

​আরব সাগরে মোতায়েন করা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এর দিকে এগিয়ে আসা একটি ইরানি শাহেদ-১৩৯ ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানিয়েছেন, ড্রোনটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় রণতরীর ৫শ মাইলের মধ্যে চলে এসেছিল। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, আত্মরক্ষার্থে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখতেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশনায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

২. ফিলিস্তিন ইস্যুতে ‘বোর্ড অফ পিস’ ছাড়ার হুমকি ইন্দোনেশিয়ার

​ফিলিস্তিনের পূর্ণ স্বাধীনতা এবং গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা না হলে ট্রাম্প ঘোষিত ‘বোর্ড অফ পিস’ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাবউ সুবিয়ান্তো স্পষ্ট জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। জাকার্তায় এক বৈঠকে তিনি বলেন, যদি এই বোর্ডের কার্যক্রম ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রনীতির পরিপন্থী হয়, তবে তারা এই প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে আসতে দ্বিধা করবে না।

৩. ইরানে বিক্ষোভ ও ৩ হাজার মানুষের মৃত্যুর তালিকা প্রকাশ

​জানুয়ারি মাসে ইরানে হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হতাহতদের নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের অবসান ঘটাতে ৩,১০০ জন নিহতের নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তালিকা প্রকাশ করেছে তেহরান। ইরান সরকারের দাবি, পশ্চিমা গণমাধ্যম নিহতের সংখ্যা (৬ হাজার থেকে ৮০ হাজার) অতিরঞ্জিত করে প্রচার করছে। এদিকে, দেশটির সংস্কারপন্থী নেতা মীর হোসেন মুসাভি এই ঘটনাকে বড় ধরনের বিপর্যয় আখ্যা দিয়ে একটি অবাধ গণভোটের আহ্বান জানিয়েছেন, যা নিয়ে দেশটির কট্টরপন্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

৪. সাইফ আল ইসলাম গাদ্দাফিকে হত্যার দাবি: সত্য না গুজব?

​লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র সাইফ আল ইসলাম গাদ্দাফি নিহত হয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়েছে। দাবি করা হচ্ছে, ব্রিগেড-৪৪৪ নামের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী তাকে হত্যা করেছে। তবে লিবিয়ার সরকার বা কোনো আন্তর্জাতিক নির্ভরযোগ্য সংবাদ সংস্থা এখন পর্যন্ত এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেনি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি পরিকল্পিত একটি গুজব হতে পারে।

উপসংহার: মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন পরাশক্তির কৌশলগত অবস্থানের কারণে সামনের দিনগুলোতে বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

Advertisement

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে প্রদর্শন করুন (৭২৮x৯০)

Powered by Blogger.