উজ্জাইনে রাস্তা প্রশস্তকরণে শাহী মসজিদের অংশ অপসারণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ABN Views
প্রকাশিত: ৫ অক্টোবর ২০২৬
ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জাইন শহরে রাস্তা প্রশস্তকরণকে কেন্দ্র করে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের একটি অংশ অপসারণের ঘটনায় স্থানীয় মুসলিমদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভমেলাকে সামনে রেখে শহরের সড়কব্যবস্থা উন্নত ও যানজট নিয়ন্ত্রণে রাস্তা প্রশস্ত করার কাজ চলছে।রাস্তা প্রশস্তকরণের উদ্যোগ
উজ্জাইন ক্ষিপ্রা নদীর তীরে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় শহর। ২০২৮ সালে সেখানে সিংহস্থ কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা থাকায় শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই প্রকল্পের আওতায় শাহী মসজিদের যে অংশ রাস্তা সম্প্রসারণের পরিকল্পিত এলাকার মধ্যে পড়েছে, সেই নির্দিষ্ট অংশ অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে পুরো মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়নি।
মসজিদ রক্ষায় স্থানীয়দের প্রতিবাদ
মসজিদের অংশ অপসারণের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে স্থানীয় মুসলিমরা প্রশাসনের কাছে আপত্তি জানান এবং আইনি পদক্ষেপ নেন। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
এরপর কয়েক রাত স্থানীয় মুসলিমদের একটি অংশ মসজিদ পাহারা দেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, প্রশাসন যেকোনো সময় মসজিদের নির্ধারিত অংশ অপসারণের উদ্যোগ নিতে পারে।
উত্তেজনার মধ্যে অংশ অপসারণ
ঘটনাকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে। এ সময় কয়েকজন আহত ও আটক হওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়া ঠেকাতে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য নির্ধারিত অংশ নিজেদের উদ্যোগে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ওই অংশের কিছু স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও মসজিদের একটি মিনারের অংশ অপসারণ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঐতিহাসিক স্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ
ঘটনাটি ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনা সংরক্ষণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। স্থানীয় মুসলিমদের অভিযোগ, রাস্তা সম্প্রসারণের কারণে ঐতিহাসিক স্থাপনার অংশবিশেষ অপসারণ হলে শহরের পুরোনো স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের ক্ষতি হতে পারে।
অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, আসন্ন সিংহস্থ কুম্ভমেলাকে সামনে রেখে বিপুল জনসমাগম ও যানবাহনের চাপ সামাল দিতে সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রয়োজন।
তবে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিতর্ক ও উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। পুরো মসজিদ নয়, রাস্তা প্রশস্তকরণের জন্য নির্ধারিত অংশই অপসারণ করা হয়েছে











