তেহরানের মসনদে কাঁপন: ইরানে গণবিস্ফোরণ, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো সোলাইমানির ভাস্কর্য
নিউজ ডেস্ক | ১০ জানুয়ারি, ২০২৬
ইরানে চার দশকের লৌহকঠিন শাসনব্যবস্থা এখন এক চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে। ইরানি মুদ্রার ভয়াবহ অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে শুরু হওয়া সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ এখন এক অপ্রতিরোধ্য গণবিস্ফোরণে রূপ নিয়েছে। গত ১২ দিন ধরে চলা এই বিক্ষোভে উত্তাল দেশটির ৩১টি প্রদেশের শতাধিক শহর।
জ্বলছে তেহরান, অপসারিত হচ্ছে শাসকগোষ্ঠীর চিহ্ন
গত ৮ জানুয়ারি রাতে রাজধানী তেহরানসহ ইরানের প্রধান শহরগুলোতে বিক্ষোভকারীরা রাজপথ দখল করে নেয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্যমতে, উত্তেজিত জনতা পুলিশের মোটরসাইকেল, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ভবন এবং সরকারি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করে। অনেক জায়গায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে ফার্স প্রদেশে। সেখানে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের (IRGC) প্রভাবশালী সাবেক প্রধান কাসেম সোলাইমানির ভাস্কর্য ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা, যা দেশটির বর্তমান শাসনের জন্য একটি বড় প্রতীকী ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দমন-পীড়ন ও প্রাণহানি
বিক্ষোভ দমাতে ইরান সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে:
- ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট: নেটব্লকস-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রায় বিচ্ছিন্ন।
- হতাহতের পরিসংখ্যান: গত ১২ দিনে সহিংসতায় অন্তত ৪২ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ২,০০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
খামেনির পলায়ন পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক চাপ
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টাইমস দাবি করেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নিয়ে রাশিয়ায় আশ্রয় নেওয়ার একটি ‘প্ল্যান বি’ বা গোপন পরিকল্পনা করে রেখেছেন। ব্রিটিশ এমপি টম টুগেনহাট জানিয়েছেন, তেহরানে রাশিয়ার কার্গো বিমানের অস্বাভাবিক আনাগোনা নেতৃত্বের পতনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সরকার বিক্ষোভকারীদের ওপর গণহত্যা চালালে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করবে। অন্যদিকে, চাপের মুখে থাকা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে তারা ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনায় বসতে আগ্রহী।
পতনের মুখে কি ইরান সরকার?
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিক্ষোভের তীব্রতা এভাবে বাড়তে থাকলে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি অংশ সরকারের পক্ষ ত্যাগ করতে পারে। সাধারণ মানুষের এই ‘জনজোয়ার’ যদি থামানো না যায়, তবে খুব শীঘ্রই ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

No comments: