নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
রাজধানীর নিউমার্কেট ও নীলক্ষেত এলাকায় আন্দোলনকারীদের আকস্মিক অবরোধে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পূর্বঘোষিত সময়ের অন্তত আধা ঘণ্টা আগেই রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় কয়েকশ যানবাহন আটকা পড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট।
সময়ের আগেই বন্ধ রাস্তা
আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দুপুর ১টায় অবরোধের কথা জানানো হলেও, বাস্তবে দুপুর ১২:৩০টার পর থেকেই যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী এক বাস চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ওনারা বলেছিলেন ১টা থেকে রাস্তা বন্ধ করবেন, কিন্তু ১২:৩০ বাজতেই আমাদের আটকে দিয়েছেন। এই আধা ঘণ্টা সময় পেলে আমরা অন্তত গাবতলী পার হয়ে যেতে পারতাম।"
বিকল্প পথের অভাব ও বৈষম্যের অভিযোগ
অবরোধে আটকে পড়া সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গাড়িগুলো পার করে দেওয়ার পরপরই সাধারণ মানুষের জন্য রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। নীলক্ষেত বা ঢাকা কলেজের সামনের ইউটার্নগুলো ব্যবহারের সুযোগ না দিয়েই মাঝপথে গাড়ি আটকে দেওয়ায় কোনো বিকল্প পথে যাওয়ার উপায় ছিল না।
আটকে পড়া এক অভিভাবক জানান, স্কুলে বাচ্চা আনতে যাওয়ার পথে তিনি আটকা পড়েছেন। দীর্ঘক্ষণ অনুরোধ করলেও আন্দোলনকারীরা তাকে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি।
আন্দোলনকারীদের অবস্থান
রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হলে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে সোজাসাপ্টা জানানো হয়— কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। দায়িত্বরত এক আন্দোলনকারী বলেন, "সবাইকে যদি ছেড়ে দিই, তাহলে আমাদের কর্মসূচির গুরুত্ব থাকল কই? ছাড়ার কোনো অপশন নেই, প্রশাসনের সাথে কথা বলেন।"
জনসাধারণের ক্ষোভ
সাধারণ মানুষ এই অব্যবস্থাপনাকে 'সুস্থ আন্দোলন' হিসেবে দেখছেন না। তাদের মতে, আন্দোলনের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হওয়াটা দুঃখজনক। বিশেষ করে বৃহস্পতিবারের মতো ব্যস্ত দিনে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না রেখে এভাবে জনজীবন স্থবির করে দেওয়া সাধারণ মানুষের মাঝে হতাশা তৈরি করছে।
একনজরে মূল পয়েন্টগুলো:
- ১টার বদলে ১২:৩০টা থেকে অবরোধ শুরু।
- বিকল্প রাস্তা না থাকায় কয়েকশ যাত্রীবাহী বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি আটকা।
- স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তি।
- ঘোষিত সময়ের আগে রাস্তা বন্ধ করা নিয়ে চালকদের তীব্র অসন্তোষ।

No comments: