সাভার প্রতিনিধি | ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
সাভার মডেল থানার ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে একটি পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারে গত সাত মাস ধরে চলছিল এক নারকীয় উৎসব। ভবঘুরের ছদ্মবেশ ধারণ করে পুলিশের নাকের ডগায় বসেই একে একে ৬টি খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে এক দুর্ধর্ষ সিরিয়াল কিলার।
যেভাবে সামনে এলো সত্য
গত ১৮ জানুয়ারি (রবিবার) ওই পরিত্যক্ত ভবন থেকে আগুনে পোড়া দুটি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপরই বেরিয়ে আসে গা শিউরে ওঠা সব তথ্য। স্থানীয়দের কাছে 'ভবঘুরে' হিসেবে পরিচিত মশিউর রহমান খান সম্রাট (ওরফে সাইকো সম্রাট) দিনের বেলা ব্যাংক কলোনি বা লালটেক এলাকায় বিড়বিড় করে কথা বলে ঘুরে বেড়াত। কিন্তু রাতের আঁধারে সে হয়ে উঠত এক খুনি।
সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল খুনি
লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। সেখানে দেখা যায়, সম্রাট কাঁধে করে ভারী কিছু (মরদেহ) বহন করে নিয়ে যাচ্ছে। এই শক্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে আটক করে সাভার মডেল থানা পুলিশ।
জনমনে আতঙ্ক ও প্রশ্ন
সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, যেখানে অপরাধগুলো ঘটেছে তার পাশেই রয়েছে:
- সাভার মডেল থানা (কয়েক কদম দূরত্বে)
- সেনাবাহিনীর টহল জোন
- সাভার প্রেস ক্লাব
এত প্রশাসনিক নজরদারির মধ্যেও কীভাবে সাত মাসে ছয়টি খুনের ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
পুলিশের পদক্ষেপ
সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরমান আলী জানিয়েছেন, আটককৃত সম্রাট প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং মৃতদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি বর্তমানে অধিকতর তদন্তাধীন রয়েছে।
সংক্ষেপে মূল তথ্য:
- আটককৃত ব্যক্তি: মশিউর রহমান খান সম্রাট (সাইকো সম্রাট)।
- স্থান: পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টার, সাভার।
- অপরাধ: গত ৭ মাসে ৬টি হত্যাকাণ্ড।
- চিহ্নিতকরণ: সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে।

No comments: