অনলাইন ডেস্ক | ১ জানুয়ারি, ২০২৬
২০২৬ সালের শুরুতেই বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ এবং মানবিক সংকটের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের সংকট নিরসন, সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয় নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বইছে উদ্বেগের ঝড়। আজকের প্রধান সংবাদগুলোর বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ইয়েমেন সংকট: সংলাপই একমাত্র পথ বলছে ইরান
ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংকট নিরসনে সব পক্ষের মধ্যে 'অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপ' আয়োজনের ওপর জোর দিয়েছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরকচি বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে এক ফোনালাপে জানান, বিদেশি হস্তক্ষেপ বা সামরিক চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ইয়েমেনের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় তিনি আঞ্চলিক দেশগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন।
এদিকে, এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণায় সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইয়েমেন থেকে তাদের অবশিষ্ট সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছে।
২. সিরিয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি: সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো আপস নয়
সিরিয়ার বিচার মন্ত্রণালয় এক বিশেষ বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশের জাতীয় ঐক্য ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা রাষ্ট্রের জন্য একটি ‘রেডলাইন’। এই নীতি লঙ্ঘন করে এমন যেকোনো বক্তব্য বা কার্যক্রমকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে সরকার জনস্বার্থ রক্ষা করে এবং আইনের সীমার মধ্যে থেকে বাক-স্বাধীনতার চর্চাকে স্বাগত জানাবে বলে উল্লেখ করেছে।
৩. ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ও ট্রাম্পের হুমকি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন সামরিক হুমকির কঠোর সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি এক চিঠিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের পূর্ণ দায় যুক্তরাষ্ট্রকে বহন করতে হবে। ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগে বদ্ধপরিকর। তেহরানের দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উস্কানিমূলক আচরণ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করছে।
৪. গাজার আর্তনাদ: নতুন বছরেও কাটেনি মৃত্যুর আতঙ্ক
পুরো বিশ্ব যখন উৎসবের আমেজে নতুন বছরকে বরণ করছে, গাজার মানুষ তখন কাটাচ্ছে চরম আতঙ্কে। গত এক বছরের নিরবচ্ছিন্ন হামলা, খাদ্য সংকট এবং উচ্ছেদ অভিযানের পর এখন যোগ হয়েছে তীব্র শীত। ডিসেম্বরের প্রচণ্ড ঠান্ডায় হাইপোথার্মিয়ায় শিশুদের মৃত্যুর খবর আসছে। গাজার অধিবাসীদের কাছে নতুন বছরের কোনো পরিকল্পনা নেই; আছে শুধু বেঁচে থাকার আকুতি। তাদের জীবন এখন ইসরায়েলের সামরিক অভিযান আর বিশ্ববাসীর উদাসীনতার মাঝে আটকা পড়ে আছে।

No comments: