আসন্ন রমজানে খেজুরের দাম বাড়ার শঙ্কা নেই: স্বস্তিতে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে খেজুরের বাজার নিয়ে সুখবর দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারে খেজুরের পর্যাপ্ত সরবরাহ এবং সরকারি শুল্ক ছাড়ের ফলে এবার রমজানে খেজুরের দাম বাড়ার কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীর বাদামতলীসহ পাইকারি বাজারগুলোতে বর্তমানে আজোয়া, দাবাস, মরিয়ম, মিশরী ও মেজুলসহ বিভিন্ন জাতের খেজুরের সমারোহ দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় এবার বাজারে নতুন খেজুরের মান বেশ ভালো এবং যোগানও পর্যাপ্ত।
দাম কমার কারণ:
সংবাদ অনুযায়ী, রমজানকে সামনে রেখে খেজুর আমদানিতে বড় ধরনের নমনীয়তা দেখিয়েছে সরকার।
- শুল্ক হ্রাস: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) খেজুর আমদানিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করেছে।
- এলসি সুবিধা: বাংলাদেশ ব্যাংক এলসি (LC) খোলার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে নমনীয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত বছর ডলার সংকটের কারণে শতভাগ মার্জিনে এলসি খুলতে হলেও এবার সেই কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল করা হয়েছে
বর্তমান বাজার দর:
বাজারে বর্তমানে জাতভেদে খেজুরের দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা স্থিতিশীল। পাইকারি বাজারে বিভিন্ন জাতের খেজুরের দাম:
- চুক্কারি: ৮০০ টাকা
- তিন খেজুর: ৬০০ টাকা
- ফরিদা: ৬০০ টাকা
- মরিয়ম: ১২০০ টাকা
- মেজুল: ১৬০০ টাকা
চাহিদা ও যোগান:
বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টন খেজুরের চাহিদা থাকে, যার মধ্যে প্রায় ৭০ হাজার টনই ব্যবহৃত হয় রমজান মাসে। চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশই মেটানো হয় আমদানির মাধ্যমে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, যদি কোনো কৃত্রিম সিন্ডিকেট তৈরি না হয়, তবে এই রমজানে সাধারণ মানুষ সহনীয় দামেই খেজুর কিনতে পারবেন।
উল্লেখ্য যে, বিশ্বের প্রায় ২০টি দেশ থেকে বাংলাদেশে ৩০ ধরনের খেজুর আমদানি করা হয়। পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় বাজার পরিস্থিতি শান্ত থাকবে বলে আশা করছেন আমদানিকারকরা।

No comments: