নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
সারাদেশের মতো সিলেটেও জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে ঠান্ডাজনিত নানা রোগ। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, জ্বর ও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
শিশুর ও বৃদ্ধরাই বেশি ঝুঁকিতে
চিকিৎসকদের মতে, বর্তমান আবহাওয়া শিশু এবং বয়স্কদের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইএমসি কর্নারে আসা রোগীদের বড় একটি অংশই শিশু। মূলত শ্বাসকষ্ট, তীব্র কাশি এবং ভেরি সিভিয়ার নিউমোনিয়া নিয়ে তারা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।
বিভাগীয় পরিসংখ্যান
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী:
- আক্রান্তের সময়কাল: ৫ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ১০ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত।
- মোট আক্রান্ত: সিলেট বিভাগে প্রায় ৩,৮৮৫ জন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
- শীর্ষ জেলা: সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলায় রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শীতকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন।
- আইএমসি কর্নার (IMCI Corner): নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুদের বিশেষ সেবা নিশ্চিত করতে এই কর্নারকে সার্বক্ষণিক সতর্ক রাখা হয়েছে।
- ওষুধের সরবরাহ: জরুরি সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টের ওষুধের পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে।
- ভর্তি প্রক্রিয়া: গুরুতর রোগীদের বিলম্ব না করে দ্রুত ভর্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- কুয়াশা থেকে দূরে থাকুন: বিশেষ করে সকালে ও রাতে শিশু ও বৃদ্ধরা যেন সরাসরি কুয়াশা বা ঠান্ডা বাতাসের সংস্পর্শে না আসে।
- গরম পোশাক: বাইরে বের হওয়ার সময় কানটুপি, মাফলার এবং পর্যাপ্ত গরম কাপড় ব্যবহার করুন।
- দ্রুত চিকিৎসা: শ্বাসকষ্ট বা তীব্র জ্বর দেখা দিলে ঘরে বসে না থেকে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
"শিশুরা সাধারণত শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া নিয়ে বেশি আসছে। আমরা আইএমসি কর্নারকে এলার্ট রেখেছি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করেছি।"
— ডিউটি ডাক্তার, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
সতর্কতা ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
তীব্র এই শীতে সুস্থ থাকতে চিকিৎসকরা কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন:
সিলেটের কুয়াশাচ্ছন্ন এই পরিস্থিতি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই সাধারণ মানুষকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

No comments: