ADS

ব্রেকিং নিউজ: 🌍 আজকের সারা বিশ্বের খবরের শিরোনাম আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ABN Views বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংবাদ এক নজরে— 🔴 ইরানে সামরিক হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র, নভেম্বরের নির্বাচন পর্যন্ত হামলা স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের 🔴 যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত, হরমুজ প্রণালি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত 🔴 মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে, ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে 🔴 রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর, একটি যাত্রীবাহী বিমান ক্ষতিগ্রস্ত 🔴 ইউক্রেনের ক্রামাতোরস্কে রুশ হামলায় ৩০ বেসামরিক নাগরিক নিহতের দাবি 🔴 ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় হামলার পর বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন, শীতের আগে বাড়ছে উদ্বেগ 🔴 ইরানের তেল পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৭টি জাহাজ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা 🔴 মিয়ানমারকে আসিয়ানে পুনঃএকীভূত করার উদ্যোগের কথা জানাল মালয়েশিয়া 🔴 মিয়ানমার থেকে হাজারো নাগরিককে দেশে ফেরাতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা 🔴 ইতালিতে নির্বাচনী সংস্কার আইনে চূড়ান্ত অনুমোদন, রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ 🔴 ফ্রান্সে শিক্ষা খাতে বিক্ষোভ অব্যাহত, কয়েকটি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ 🔴 আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের উপযুক্ত সাবেক ফিলিপাইন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে 🔴 কানাডীয় কবি অ্যান কারসন সাহিত্যে ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার পেলেন 🔴 দক্ষিণ কোরিয়ায় মিসরের প্রেসিডেন্টের রাষ্ট্রীয় সফর, দুই দেশের শীর্ষ বৈঠক 🌐 আজকের প্রধান আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈশ্বিক তেলের বাজার, মিয়ানমারের সঙ্গে আসিয়ানের সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিভিন্ন পরিবর্তন আজকের বিশ্বসংবাদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ABN Views www.abnviews.com

উজ্জাইনে রাস্তা প্রশস্তকরণে শাহী মসজিদের অংশ অপসারণ

October 05, 2026

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ABN Views

প্রকাশিত: ৫ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জাইন শহরে রাস্তা প্রশস্তকরণকে কেন্দ্র করে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের একটি অংশ অপসারণের ঘটনায় স্থানীয় মুসলিমদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভমেলাকে সামনে রেখে শহরের সড়কব্যবস্থা উন্নত ও যানজট নিয়ন্ত্রণে রাস্তা প্রশস্ত করার কাজ চলছে।

রাস্তা প্রশস্তকরণের উদ্যোগ

উজ্জাইন ক্ষিপ্রা নদীর তীরে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় শহর। ২০২৮ সালে সেখানে সিংহস্থ কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা থাকায় শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই প্রকল্পের আওতায় শাহী মসজিদের যে অংশ রাস্তা সম্প্রসারণের পরিকল্পিত এলাকার মধ্যে পড়েছে, সেই নির্দিষ্ট অংশ অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে পুরো মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়নি।

মসজিদ রক্ষায় স্থানীয়দের প্রতিবাদ

মসজিদের অংশ অপসারণের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে স্থানীয় মুসলিমরা প্রশাসনের কাছে আপত্তি জানান এবং আইনি পদক্ষেপ নেন। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

এরপর কয়েক রাত স্থানীয় মুসলিমদের একটি অংশ মসজিদ পাহারা দেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, প্রশাসন যেকোনো সময় মসজিদের নির্ধারিত অংশ অপসারণের উদ্যোগ নিতে পারে।

উত্তেজনার মধ্যে অংশ অপসারণ

ঘটনাকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে। এ সময় কয়েকজন আহত ও আটক হওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়া ঠেকাতে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য নির্ধারিত অংশ নিজেদের উদ্যোগে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ওই অংশের কিছু স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও মসজিদের একটি মিনারের অংশ অপসারণ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঐতিহাসিক স্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ

ঘটনাটি ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনা সংরক্ষণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। স্থানীয় মুসলিমদের অভিযোগ, রাস্তা সম্প্রসারণের কারণে ঐতিহাসিক স্থাপনার অংশবিশেষ অপসারণ হলে শহরের পুরোনো স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের ক্ষতি হতে পারে।

অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, আসন্ন সিংহস্থ কুম্ভমেলাকে সামনে রেখে বিপুল জনসমাগম ও যানবাহনের চাপ সামাল দিতে সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রয়োজন।

তবে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিতর্ক ও উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। পুরো মসজিদ নয়, রাস্তা প্রশস্তকরণের জন্য নির্ধারিত অংশই অপসারণ করা হয়েছে

বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মিয়ানমারে ভয়াবহ বিমান হামলা, নিহত অন্তত ৫০

September 30, 2026


​নিজস্ব প্রতিবেদক | ABN Views

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা একটি এলাকায় বিমান বাহিনী কর্তৃক অত্যন্ত ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই বর্বরোচিত হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৫০ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন।

​মূল বিষয়সমূহ:

  • ​হতহতের সংখ্যা: হামলায় ঘটনাস্থলেই ৫০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ৫৮ জন, যাদের মধ্যে ২২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
  • ​হামলার ধরন: রাখাইন রাজ্যের একটি ব্যস্ত ও জনবহুল বাজারের ওপর অতর্কিত এই বিমান হামলা চালানো হয়, যেখানে অসংখ্য ক্রেতা-বিক্রেতা ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
  • ​চলমান সংঘাত: যে এলাকায় হামলাটি হয়েছে, তা বর্তমানে বিদ্রোহী গোষ্ঠী 'আকান আর্মি'-র নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেখানে জান্তা সরকারের সামরিক বাহিনীর সাথে তাদের তীব্র লড়াই চলছে। তবে সংঘাতের বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

​জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

​এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফলকার তুর্ক এবং মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিচ অবিলম্বে এই রক্তপাত বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে বেসামরিক নাগরিকদের জীবন সুরক্ষার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

​সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

​মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ এই সশস্ত্র সংঘর্ষ সরাসরি বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে। এর আগেও সীমান্ত এলাকায় মর্টার শেল পড়া ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। চলমান এই সংঘাতের ফলে নতুন করে সীমান্ত পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের বিষয়।




সন্ধ্যার বাংলাদেশ

September 26, 2026

 সন্ধ্যার বাংলাদেশ | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রধান সংবাদসমূহ

এবিএন ভিউজ ডেস্ক | www.Abnviews.com

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের রাজনীতি, আইনশৃঙ্খলা, স্বাস্থ্য ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আজ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা আলোচনায় এসেছে। দিনের উল্লেখযোগ্য খবরগুলো এক নজরে—

মিরপুরে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুর

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে রাতের বেলায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, স্থানীয় সংরক্ষিত আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ইন্ধনে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে অভিযোগটির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পরও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের বাইরে টিকাদান ও চিকিৎসাসেবা চালু রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ডিএমপি কমিশনার জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

গুলিস্তানে জাসদ কার্যালয় থেকে শতাধিক আটক

রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। সেখানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বৈঠক করছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানা গেছে।

অভিযানের সময় ভবনটি ঘিরে অবস্থান নেন স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। পরে সেখান থেকে শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশকে কঠোর বার্তা

রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পুলিশ পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা/মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে গোপনে সহায়তা করা এবং দায়িত্ব পালনে অপেশাদার আচরণের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশজুড়ে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি

দেশে হাম-রুবেলার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্বিতীয় ধাপে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

কর্মসূচিটি আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে বলে স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ট্যানারির বর্জ্য দিয়ে মাছ ও মুরগির খাদ্য তৈরির অভিযোগ

সাভার ও কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ট্যানারির বর্জ্য ব্যবহার করে মাছ ও মুরগির খাদ্য তৈরির অভিযোগ উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষতিকর বর্জ্য ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করলে জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে লিভার, কিডনি ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হরমুজ প্রণালী নিয়ে উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সাত দিনের একটি রোডম্যাপ দিয়েছে ইরান। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানা গেছে।

একইসঙ্গে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও হামলার বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে গোসলে নেমে যমজ ভাইসহ তিন স্কুলছাত্রের মৃত্যু

September 20, 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক | www.Abnviews.com

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে যমজ দুই ভাইসহ তিন স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ভাটিবন্দর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত কিশোররা হলো—আশিক, আরেফিন ও আবির। তারা সবাই সোনারগাঁ উপজেলার বাড়ি মজলিস এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরে কয়েকজন কিশোর ভাটিবন্দর এলাকায় মেঘনা নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে আশিক, আরেফিন ও আবির নদীর গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। পরে তারা নিখোঁজ হলে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে জানায়।

খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নিখোঁজ তিন কিশোরের মধ্যে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তৃতীয় কিশোরের সন্ধানেও উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স নারায়ণগঞ্জের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

মেঘনা নদীতে একই ঘটনায় তিন স্কুলছাত্রের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে দেখা দিয়েছে গভীর শোক।

অপ্রতিম হত্যা মামলায় চারজন আটক, তদন্তে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

September 20, 2026

 

অনলাইন ডেস্ক | www.Abnviews.com

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ১৩ বছর বয়সী ইশাদত শাহারিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্তে নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও জিজ্ঞাসাবাদের পর এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে তুহিন, আনাস, ফাহিমসহ চারজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আটক ব্যক্তিদের বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিরা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের একটি কিশোর অপরাধচক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথাও বলা হয়েছে। তবে মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান।

নিখোঁজ হওয়ার পর শুরু হয় খোঁজ

পারিবারিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপ্রতিম আর ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে অপ্রতিমকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের পেছনের সারন্দা এলাকায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে যাওয়ার পর তার সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা তদন্ত করে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজনকে দেখা যায়

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন জুমার নামাজের পর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে অপ্রতিম ও তুহিনকে একসঙ্গে দেখা যায়। পরে তাদের সারন্দা এলাকার দিকে যেতে দেখা যায় বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এর কিছুক্ষণ পর আনাস ও ফাহিমকেও ওই এলাকার দিকে যেতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সিসিটিভি ফুটেজ তদন্তের অংশ হিসেবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

আইফোন ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি তদন্তে

ঘটনার সঙ্গে একটি আইফোনের বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আলোচিত আইফোনটি উদ্ধার করেছে।

তদন্তে মাদক, জুয়া কিংবা আর্থিক লেনদেনের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, মোটরবাইক কেনা কিংবা বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেনকে কেন্দ্র করে কোনো বিরোধের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে। তবে এর কোনোটি এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত নয়।

তদন্ত অব্যাহত

নিহত অপ্রতিমের সঙ্গে আটক সন্দেহভাজনদের পূর্বপরিচয়, ঘটনার দিন তাদের গতিবিধি এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

নোট: এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত তথ্য আপনার দেওয়া ভিডিওর বর্ণনা ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে। তদন্তাধীন মামলায় আটক বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অপরাধ আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

রাজধানীর ৭ স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্ক ও উত্তেজনা

September 18, 2026

 অনলাইন ডেস্ক | ABN Views

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। যাত্রাবাড়ী, মগবাজার ও বাবুবাজারসহ অন্তত সাতটি স্থানে এসব বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

প্রাপ্ত ভিডিও প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের পর স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আশপাশের এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।

একাধিক স্থানে একই ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তবে এসব বিস্ফোরণের সঙ্গে কারা জড়িত, কী ধরনের ককটেল ব্যবহার করা হয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে ঘটনাগুলো ঘটানো হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন এলাকায় নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

রাজধানীর একাধিক স্থানে একই সময়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় আতঙ্কিত না হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: DBC News-এর ভিডিও প্রতিবেদন

প্রকাশ: ABN Views | www.Abnviews.com

ব্রয়লার মুরগির কোন অংশ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি? জেনে নিন

September 16, 2026

অনলাইন ডেস্ক | www.Abnviews.com

মুরগির মাংস বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় একটি প্রাণিজ প্রোটিনের উৎস। এতে প্রোটিনসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে এবং সঠিকভাবে রান্না করলে এটি নিরাপদে খাওয়া যায়।

তবে মুরগির কিছু অংশে তুলনামূলকভাবে বেশি চর্বি থাকতে পারে, আবার কিছু অংশে জীবাণু থাকার ঝুঁকি বেশি থাকে। বিশেষ করে কাঁচা মাংস ঠিকভাবে পরিষ্কার, সংরক্ষণ ও রান্না না করলে খাদ্যবাহিত অসুস্থতার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

১. মুরগির চামড়া

মুরগির চামড়ায় মাংসের তুলনায় বেশি চর্বি থাকে। তাই যারা অতিরিক্ত চর্বি ও ক্যালরি কম খেতে চান, তারা চামড়া বাদ দিয়ে মুরগির মাংস খেতে পারেন।

চামড়া খাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মুরগি যেন ভালোভাবে রান্না করা হয়। কাঁচা বা অপর্যাপ্ত রান্না করা মুরগিতে ক্ষতিকর জীবাণু থাকার ঝুঁকি থাকে।

২. মুরগির ফুসফুস

মুরগির অভ্যন্তরীণ অঙ্গ রান্নার আগে ভালোভাবে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ফুসফুসসহ ভেতরের অঙ্গগুলোতে জীবাণু থাকতে পারে।

তাই এগুলো খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা ও পর্যাপ্ত তাপে রান্নার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

৩. মুরগির মাথা

মুরগির মাথা অনেকেই বিভিন্ন রান্নায় ব্যবহার করেন। এটি খাওয়া নিজেই যে অবশ্যই মারাত্মক ক্ষতিকর—এমন সাধারণ দাবি করা ঠিক নয়।

তবে অন্যান্য মাংসের মতোই মুরগির মাথা ভালোভাবে পরিষ্কার ও রান্না করা জরুরি। খাবারে ক্ষতিকর রাসায়নিক বা ওষুধের অবশিষ্টাংশের বিষয়টি নির্ভর করে মুরগি কীভাবে উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে তার ওপর।

৪. নাড়িভুঁড়ি বা অন্ত্র

মুরগির অন্ত্রে জীবাণু থাকার সম্ভাবনা বেশি। তাই এটি পরিষ্কার করার সময় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

বিশেষ করে Salmonella ও Campylobacter-এর মতো খাদ্যবাহিত জীবাণু কাঁচা মুরগির মাংসে থাকতে পারে। সঠিকভাবে পরিষ্কার ও পর্যাপ্ত তাপে রান্না করলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।

৫. মুরগির পা

মুরগির পা অনেক দেশে জনপ্রিয় খাবার। এটি খাওয়া নিজে থেকেই ক্ষতিকর—এমন প্রমাণ নেই।

তবে পা ভালোভাবে পরিষ্কার করা এবং সম্পূর্ণ সিদ্ধ বা রান্না করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপর্যাপ্ত রান্না করা মুরগির যেকোনো অংশ থেকেই খাদ্যবাহিত অসুস্থতার ঝুঁকি থাকতে পারে।

৬. হৃদপিণ্ড, গিলা, গলা ও ডানা

হৃদপিণ্ড

মুরগির হৃদপিণ্ডে প্রোটিনসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। তবে অন্যান্য অঙ্গের মাংসের মতো এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।

গিলা ও গলা

গিলা ও গলার অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করে রান্না করা প্রয়োজন। কাঁচা মুরগির সংস্পর্শে আসা অন্যান্য খাবারে জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ডানা

মুরগির ডানায় মাংসের পাশাপাশি চামড়াও থাকে। ফলে যারা চর্বি কম খেতে চান, তারা চামড়া বাদ দিয়ে খেতে পারেন।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

মুরগির কোন অংশ খাবেন বা খাবেন না—তার পাশাপাশি মুরগি কীভাবে সংরক্ষণ ও রান্না করা হচ্ছে, সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নিরাপদে মুরগির মাংস খাওয়ার কয়েকটি নিয়ম:

  • কাঁচা মুরগি পরিষ্কার করার পর হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
  • কাঁচা মুরগির জন্য ব্যবহৃত ছুরি ও কাটিং বোর্ড অন্য খাবারের জন্য ব্যবহারের আগে ভালোভাবে পরিষ্কার করুন।
  • কাঁচা মাংস ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখুন।
  • মুরগির মাংস ভেতর পর্যন্ত ভালোভাবে রান্না করুন।
  • দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় কাঁচা মাংস ফেলে রাখবেন না।
  • দুর্গন্ধ, অস্বাভাবিক রং বা নষ্ট হওয়ার লক্ষণ দেখা গেলে মাংস না খাওয়াই নিরাপদ।

শেষ কথা

মুরগির সব অংশকেই এক কথায় ‘মারাত্মক ক্ষতিকর’ বলা ঠিক নয়। মুরগির মাংসের নিরাপত্তা অনেকাংশে নির্ভর করে উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সঠিকভাবে রান্না করার ওপর।

তাই স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে পরিষ্কারভাবে প্রস্তুত করা এবং পর্যাপ্ত তাপে ভালোভাবে রান্না করা মুরগির মাংস খাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

নোট: যাদের বিশেষ স্বাস্থ্যগত সমস্যা বা খাদ্যসংক্রান্ত চিকিৎসা-পরামর্শের প্রয়োজন, তারা চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করুন।

হাটহাজারী ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক অনুশীলনের সময় বিস্ফোরণ: ২ সেনাসদস্য নিহত, কর্মকর্তা গুরুতর আহত

September 09, 2026

অনলাইন ডেস্ক:(ABNVIEWS) 

চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সেনাবাহিনীর নিয়মিত ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে আকস্মিক এক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই সৈনিক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন।

​ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

​আইএসপিআর জানায়, অনুশীলনের অংশ হিসেবে ট্যাংক থেকে গোলা বর্ষণের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই সেনাসদস্য মর্মান্তিক প্রাণহানির শিকার হন। আহত সেনা কর্মকর্তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত উদ্ধারের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য সামরিক হেলিকপ্টারে করে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়েছে।

​এ দুর্ঘটনা কীভাবে ঘটেছে এবং এর পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণ কী—তা অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

হুতি ও সৌদি সমর্থিত বাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াই, উত্তপ্ত ইয়েমেনে নিহত বেড়ে ১২৯

September 05, 2026

 অনলাইন ডেস্ক (www.Abnviews.com):


দীর্ঘদিন শান্ত থাকার পর আবারও রক্তাক্ত সংঘাত ও গৃহযুদ্ধে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইয়েমেন। সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি ও সৌদি আরব সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি হামলায় প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সূত্রমতে, গত তিন দিনের তীব্র লড়াইয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৯ জনে।

​প্রতিবেদনে জানা যায়, লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ বাবেল মানদেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র করে গত জুলাই মাস থেকেই হামলা শুরু করে হুতি। তবে গত বৃহস্পতিবার থেকে লড়াই আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।

​বর্তমানে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলীয় প্রদেশ হুদেইদার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে হুতি বিদ্রোহীদের হাতে। অন্যদিকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ তাইজ নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী। গত তিন ধরে এই দুই অঞ্চলের সংঘাতপূর্ণ এলাকায় স্থলযুদ্ধের পাশাপাশি ভারী রকেট ও ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে।

​কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাবেল মানদেব প্রণালীতে সৌদি আরব সংশ্লিষ্ট জাহাজের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হুতি। কিন্তু এককভাবে এই প্রণালীর পুরো নিয়ন্ত্রণ নিতে হলে মোখা বন্দরের দখল জরুরি, যা হুতিদের নিয়ন্ত্রণে নেই। ফলে মোখা বন্দরসহ আশপাশের অঞ্চল নিজেদের আয়ত্তে নিতে সর্বাত্মক আক্রমণ চালাচ্ছে হুতি গোষ্ঠী। জবাবে সরকারি বাহিনীও হুতিদের প্রধান ঘাঁটি ও বন্দরনগরী হুদেইদাতে পাল্টা জোরালো হামলা অব্যাহত রেখেছে।

​দুই পক্ষের এই অব্যাহত সহিংসতায় বিপাকে পড়েছে সাধারণ বেসামরিক নাগরিকরা। হতাহতদের মধ্যে অনেক বেসামরিক মানুষও রয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে হুদেইদা ও তাইজ শহরের হাজার হাজার বাসিন্দা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পালাচ্ছে।

​উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর থেকে দেশটিতে বিধ্বংসী গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। জাতিসংঘের তথ্যমতে, সংঘাত, ক্ষুধা ও নানা ব্যাধিতে ইয়েমেনে এ পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘদিনের অস্থিতিশীলতার পর সাময়িক বিরতি থাকলেও, বর্তমান সংঘাত ইয়েমেনকে আবারও এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

​আন্তর্জাতিক সমাচার: মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি, হিমালয়ে প্রাণহানি ১২শ ছাড়াল

September 03, 2026

​এবিএন ভিউজ ডেস্ক (www.abnviews.com) | ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আজ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সামরিক সংঘাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বেশ কিছু বড় ধরনের ঘটনাবলী ঘটেছে। নিচে আজকের দিনের প্রধান বৈশ্বিক সংবাদগুলো তুলে ধরা হলো:

​১. মধ্যপ্রাচ্য ও হরমুজ প্রণালী: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের জোরালো সামরিক পদক্ষেপ

​মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সাথে ইরানের সরাসরি সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে।

​হরমুজ প্রণালী ও মার্কিন হামলা: যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) থেকে নতুন করে হামলা চালানের জবাবে ইরান দাবি করেছে যে তারা হরমুজ প্রণালীতে অতিরিক্ত নৌ-মাইনিং করেছে।

​আঞ্চলিক ঘাঁটিতে হামলা: কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। এদিকে মার্কিন প্রশাসন যুদ্ধের পরিধি সীমিত রাখার বার্তা দিলেও পরিস্থিতি বেশ থমথমে।

​২. দক্ষিণ এশিয়া: নেপাল-তিব্বতে বন্যায় প্রাণহানি ১২শ ছাড়াল

​হিমালয় অঞ্চলে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া মারাত্মক আকস্মিক বন্যা ও ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,২৫২ জনে।

​নিখোঁজদের খোঁজে উদ্ধারকাজ এখনও অব্যাহত রয়েছে, তবে জীবিত উদ্ধারের আশা কমে আসছে।

​বন্যার কারণে সড়ক ও স্থানীয় বিদ্যুৎ অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

​৩. ইউরোপ রাজনীতি: ইউক্রেন সংঘাত ও রাশিয়ার সাংস্কৃতিক সিদ্ধান্ত

​ওডেসা ও কিয়েভে হামলা: ইউক্রেনের ওডেসা এবং কিয়েভে এক সপ্তাহ ধরে টানা ড্রোন ও আকাশপথে হামলায় একাধিক বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত ও অনেকেই আহত হয়েছেন।

​জার্মানি-রাশিয়া কূটনৈতিক টানাপোড়েন: জার্মানির সাথে কূটনৈতিক উত্তেজনার জের ধরে রাশিয়ায় অবস্থানরত জার্মানির 'গ্যোটে ইনস্টিটিউট' বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ।

​৪. অর্থনীতি ও প্রযুক্তি: জি-২০ সামিট ও ই-কমার্স উদ্যোগ

​এআই নীতিতে বিশ্ব একমত: উদীয়মান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে শিথিল ও সহজ নীতিমালা প্রণয়নের মার্কিন প্রস্তাবে একমত পোষণ করেছে জি-২০ অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো।

​জ্বালানি তেলের বাজার: মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও উর্ধ্বমুখী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

​সারসংক্ষেপ

​আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একদিকে সামরিক পরাশক্তিগুলোর মুখোমুখি অবস্থান এবং অন্যদিকে এশিয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আজ বিশ্ব জুড়ে এক থমথমে ও চরম উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

মৃত্যুর স্রোত থেকে ১৬৪৩ শিশুর প্রাণ রক্ষা: নেপালের এক বীর প্রধান শিক্ষকের অলৌকিক উপাখ্যান

September 01, 2026

অনলাইন ডেস্ক (ABN Views): নেপালের ত্রিশুলি উপত্যকার ত্রিভুবন ত্রিশুলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সাধারণ আর দশটা দিনের মতোই ক্লাসে বসে পড়াশোনা করছিল শিক্ষার্থীরা। কেউ শিক্ষককে মনোযোগ দিয়ে শুনছিল, আবার কেউ ছুটির ঘণ্টার অপেক্ষা করছিল। কিন্তু কেউই জানত না, কয়েক মিনিটের মধ্যেই এক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা পিষে দিয়ে যাবে তাদের প্রিয় বিদ্যাপীঠকে।

​ঠিক সেই মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি-র হাতে সময় ছিল মাত্র কয়েক মিনিট। তিনি যদি একটু দ্বিধা করতেন বা স্কুল ভবনটিকে নিরাপদ মনে করে ভেতরে অবস্থান করতেন, তবে ১,৬৪৩ জন শিশুর প্রাণ কেড়ে নিত সেই ভয়াল স্রোত। কিন্তু নিজের প্রখর উপস্থিত বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতা দিয়ে তিনি এক অলৌকিক ইতিহাস গড়ে তুলেছেন।

​যেভাবে শুরু হয়েছিল সেই আতঙ্কজনক মুহূর্ত

​গত ২৬ আগস্ট সকাল ৯টা ২০ মিনিট। প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদির ফোনে এক বন্ধুর কল আসে। নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে ওঠার খবর দিয়ে তাকে দ্রুত উঁচু স্থানে সরে যেতে বলা হয়। প্রথমে স্কুলটি তিনতলা কংক্রিটের ভবন এবং নদী থেকে প্রায় ৬০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত হওয়ায় সেটিকে নিরাপদ মনে করেছিলেন দাওয়াদি।

​কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই এক স্থানীয় অভিভাবক এসে জানান, নদীর পানি ভয়ংকর গতিতে বাড়ছে। পরিস্থিতি যে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক—তা বুঝতে আর এক মুহূর্তও নষ্ট করেননি তিনি।

​একটি জরুরি ঘণ্টা ও ১৬৪৩টি প্রাণের মুক্তি

​বিপদ উপলব্ধি করার সাথে সাথে তিনি স্কুলের জরুরি ঘণ্টা বাজিয়ে দেন। সমস্ত শিক্ষকদের দ্রুত নির্দেশ দেন সব শ্রেণিকক্ষ খালি করে শিশুদের নিরাপদে বের করে নিয়ে যাওয়ার জন্য। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও শিক্ষকরা দ্রুত সবাইকে পরিচালনা করে নিকটস্থ একটি উঁচু স্থানের ‘বোধি বৃক্ষ’-এর নিচে নিয়ে আশ্রয় দেন।

​শিক্ষার্থীরা নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর ঠিক কয়েক মিনিটের মধ্যেই পাহাড়ি ঢলের প্রচণ্ড স্রোত এসে আছড়ে পড়ে স্কুলে। মুহূর্তের মধ্যেই ভেসে যায় তিনতলা শক্তপোক্ত ভবনসহ আশেপাশের বহু স্থাপনা। প্রধান শিক্ষকের দ্রুততম ও সঠিক সিদ্ধান্তের কারণে স্কুলের ১,৬৪৩ জন শিশুর প্রতিটি শিশুই অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যায়।

​স্বস্তির মাঝেও সহকর্মীদের হারানোর করুণ ট্র্যাজেডি

​১,৬৪৩ জন শিশুর প্রাণ বেঁচে গেলেও এই ঘটনায় ছড়িয়ে আছে এক করুণ সুর। স্কুলের দুইজন প্রিয় সদস্যকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি:

  • ​সন্তোষ পাড়িয়া (৩২): সমাজবিজ্ঞানের এই তরুণ শিক্ষক নাস্তা করার জন্য নদীর পাশের নিজ বাসায় গিয়েছিলেন, সেখান থেকেই পাহাড়ি পানির তোড়ে ভেসে যান তিনি।
  • ​সুলতান লামা: স্কুলের এই দায়িত্বশীল পরিচ্ছন্নতাকর্মী ক্লাসরুমের দরজাপালা বন্ধ করতে ফিরে গিয়ে আর বের হতে পারেননি, সেখানেই প্রাণ হারান।

​স্থানীয় মানুষ এবং পুরো দেশ প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদিকে বীর ও নায়কের মর্যাদায় বসালেও তিনি বিনীতভাবে বলেন, "আমি আর কী-ই বা করতে পারতাম? আমি কোনো নায়ক হতে চাইনি, কেবল একজন শিক্ষক হিসেবে নিজের দায়িত্বটুকু পালন করেছি।"

​এত বড় বিপর্যয় কীভাবে ঘটল?

​বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, তিব্বত সীমান্তের কাছে লাংটাং লিরুং পর্বতশৃঙ্গের বিশাল একটি অংশের বরফ ও পাথর (প্রায় ৫০ একর জায়গা জুড়ে) ধসে পড়ে 'লেনদেখোলা' নদীর গিরিখাতে। হিমবাহ ধসের ফলে জমা হওয়া বিপুল পরিমাণ পানি ও পাথরের মিশ্রণ নদীর গতিপথ রুদ্ধ করে এই ধ্বংসাত্মক আকস্মিক বন্যা বা 'ফ্ল্যাশ ফ্লাড' (Flash Flood)-এর সৃষ্টি করে।

​একটি দেশের দুর্যোগ মোকাবিলায় সামান্য একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত যে কত বড় পরিবর্তন এনে দিতে পারে—নেপালের এই শিক্ষকের জরুরি ঘণ্টা বাজানোর সিদ্ধান্তটি ইতিহাসের পাতায় এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

শূন্য খরচে সরকারিভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ: আবেদন প্রক্রিয়া ও বিস্তারিত তথ্য

August 29, 2026


​বিদেশে গিয়ে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন অনেক বাংলাদেশির। কিন্তু এই স্বপ্নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় মোটা অঙ্কের টাকা ও দালালদের দৌরাত্ম্য। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় একটি সুখবর। সম্পূর্ণ সরকারি প্রক্রিয়ায় ও বিনামূল্যে মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য।

​প্রথম ধাপে ১০,০০০ কর্মীর নিয়োগ

​মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা দীর্ঘদিনের। বন্ধ থাকা শ্রমবাজার চালুর উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে ১০,০০০ জন কর্মী নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই কার্যক্রমের মূল বৈশিষ্ট্য হলো ‘জিরো কস্ট’ (Zero Cost), অর্থাৎ কর্মীদের কোনো টাকা খরচ করতে হবে না।

​বোয়েসলের (BOESL) মাধ্যমে স্বচ্ছ নিয়োগ

​পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত রাখতে সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘বোয়েসল’ (BOESL)-এর মাধ্যমে কর্মী পাঠাবে সরকার। এর ফলে দালালদের কোনো সুযোগ থাকবে না এবং আগ্রহী প্রার্থীরা সরাসরি সরকারি ব্যবস্থার সুবিধা পাবেন।

​প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও যোগ্যতা

​অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর নির্দিষ্ট নিয়মে আবেদন করতে হবে। আবেদনের জন্য আগে থেকেই যে কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে পারেন:

  • ​বৈধ পাসপোর্ট
  • ​শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ
  • ​কাজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সনদ
  • ​স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ (Medical Fitness)

​প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা

​মালয়েশিয়া গিয়ে কর্মীরা যেন কোনো সমস্যায় না পড়েন, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে:

  • ​নিয়মিত বেতন-ভাতা, আবাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে।
  • ​বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
  • ​যেকোনো জরুরি সাহায্য ও অভিযোগ জানাতে চালু হচ্ছে ২৪ ঘণ্টার হেল্পডেস্ক ও মনিটরিং সেল।

​⚠️ বিশেষ সতর্কবার্তা: দালালদের টাকা দেবেন না

​১. সরকারি প্রাক-বিজ্ঞপ্তি বা চূড়ান্ত নোটিশ প্রকাশের আগে কাউকে কোনো টাকা দেবেন না।

২. বোয়েসল বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কেউ বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দিলে সেটি প্রতারণা হতে পারে।

৩. শুধু সরকারি অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি ও নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

​উপসংহার:

স্বপ্নের মালয়েশিয়া যাত্রায় প্রতারণা এড়াতে সরকারি ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করুন। দালালদের হাতে বিভ্রান্ত না হয়ে সঠিক নিয়মে ও সম্পূর্ণ বিনা খরচে নিরাপদে বিদেশ যান।

নেপালে বন্যায় মানবিকতার চরম অবক্ষয়: মরদেহের গহনা লুট, গ্রেপ্তার ২

August 28, 2026

 এবিএন ভিউজ ডেস্ক | ২৮ আগস্ট, ২০২৬



​প্রকৃতির রুদ্ররূপ আর স্বজন হারানোর আর্তনাদের মাঝেই নেপালে ভেসে উঠলো মানুষের লোভ ও নৈতিকতার এক লজ্জাজনক ছবি। আকস্মিক বন্যায় শত শত মানুষের প্রাণহানির এই চরম ট্রাজেডির মধ্যে এক মর্মান্তিক ঘটনা বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
​সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বন্যায় কাদা থেকে উদ্ধার হওয়া এক নারীর নিথর মরদেহ থেকে নির্দয়ভাবে কানের সোনার দুল খুলে নিচ্ছে দুই ব্যক্তি। হৃদয়বিদারক এই দৃশ্য প্রকাশের পর পরই সর্বস্তরে নিন্দার ঝড় ওঠে।
​পুলিশি পদক্ষেপ ও গ্রেপ্তার
​ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর দ্রুত অভিযানে নামে নেপাল পুলিশ। নদীতে ভেসে আসা ওই নারীর মরদেহ থেকে স্বর্ণালঙ্কার চুরির অভিযোগে ভরতপুর এলাকা থেকে ২৫ ও ৩৮ বছর বয়সী দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে । স্থানীয় প্রশাসন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে এমন অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
​সুযোগসন্ধানী লুটপাট নাকি বেঁচে থাকার আকুতি?
​এর পাশাপাশি বন্যা দুর্গত এলাকাগুলো থেকে আরও কিছু ভিডিও পোস্ট সামনে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, কোমর সমান কাদা ও ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারসহ বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন ।
​নেটিজেনদের একাংশ এটিকে সুযোগসন্ধানী লুটপাট হিসেবে আখ্যা দিলেও, অনেকের মতে— ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া মানুষের বেঁচে থাকার কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস বাঁচানোর এটি এক আকুল চেষ্টা।
​প্রকৃতির এই মরণকামড়ের সামনে সমাজ ও মানুষের নৈতিক ভিত্তি এখন এক বড় প্রশ্নের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।

আজকের আন্তর্জাতিক সমাচার: বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া শীর্ষ খবরসমূহ (২৭ আগস্ট ২০২৬)

August 27, 2026

​আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬

বিশ্বরাজনীতি, মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা এবং ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে প্রতিদিন আসছে নতুন মোড়। ইরান পরিস্থিতি, কাতারের মধ্যস্থতা থেকে শুরু করে এশিয়ার সীমান্ত সংকট—বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া আজকের প্রধান খবরগুলোর বিস্তারিত নিয়ে ABN Views-এর বিশেষ প্রতিবেদন।

​১. মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা: ইরান ও কাতারের ভূমিকা

​ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা ও সংকট নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়েছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল-ছানি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ও উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছেন।

​২. হিমালয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ: নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস

​হিমালয় অঞ্চলে আকস্মিক বরফ ধস ও ভারী বৃষ্টির কারণে নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ বন্যা। নদীগুলোর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে।

​৩. চীন-ভারত সীমান্ত আলোচনা: ৮টি বিষয়ে ঐকমত্য

​বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত চীন-ভারত বিশেষ  ২৫তম উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দুটি দেশ ৮টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে উভয় পক্ষ।

​৪. যুক্তরাষ্ট্রে খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিচার প্রক্রিয়ার তারিখ নির্ধারণ

​২০০১ সালের ৯/১১ হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী খালিদ শেখ মোহাম্মদের সামরিক আদালতে বিচার শুরুর তারিখ ঘোষণা করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। আইনি জটিলতা নিরসন ও বিচার প্রক্রিয়া শুরুর সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

​৫. ইউকে 'গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা': আন্তর্জাতিক গবেষকদের জন্য নতুন সুযোগ

​যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের 'গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা' নীতিমালায় বড় পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়মে আন্তর্জাতিক গবেষক ও দক্ষ পেশাজীবীরা নির্দিষ্ট স্পন্সরশিপ ছাড়াই সরাসরি কাজ করার সুযোগ পাবেন।


মার্কিন-ইসরায়েল-ইরান সংঘাত: সর্বশেষ আন্তর্জাতিক সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি

August 26, 2026

 ​ঢাকা | ২৬ আগস্ট, ২০২৬


​মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল আকার ধারণ করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনা বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ত্রিমুখী দ্বন্দ্বে যেকোনো মুহূর্তেই বড় ধরনের সামরিক পরিবর্তনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

​১. ইসরায়েল ও ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক অবস্থান

​ইরানের বর্ধিত সামরিক সক্ষমতা এবং ড্রোন ও মিসাইল প্রযুক্তির উন্নয়ন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে। জবাবে ইসরায়েলও তাদের প্রতিরক্ষা ও বিমান হামলা জোরদার করেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে দু'পক্ষই তাদের চূড়ান্ত সামরিক প্রস্তুতি বজায় রেখেছে।

​২. যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ভূমিকা ও পদক্ষেপ

​মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের অবস্থান বজায় রাখতে এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তায় পাশে দাঁড়াতে নতুন সামরিক কৌশল গ্রহণ করেছে। তবে আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলোর অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতির কারণে এই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে—তা নিয়ে গভীর আলোচনা চলছে।

​৩. বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা

​ইরান ও ইসরায়েলের এই সরাসরি মুখোমুখি অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা এশীয় ও ইউরোপীয় বাজারগুলোতে প্রভাব ফেলতে পারে।

​উপসংহার

​মধ্যপ্রাচ্যের এই পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার চলমান সংঘাত কোন দিকে মোড় নেবে, তা নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোতে তাদের কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের ওপর। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং জাতিসংঘ অবিলম্বে সংঘাত প্রশমনের আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি এখনো বেশ উদ্বেগজনক।

বাংলাদেশ কি মক্কা প্যাক্টে যুক্ত হতে যাচ্ছে? নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে আলোচনা

August 25, 2026

 বাংলাদেশ কি 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে' যোগ দিচ্ছে? ভূ-রাজনীতি ও কৌশলগত সমীকরণ



​ঢাকা, ২৫ আগস্ট ২০২৬: এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনীতিতে নতুন এক সমীকরণের বার্তা দিচ্ছে ২০২৬ সালের ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় স্বাক্ষরিত 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' (Mecca Joint Defence Agreement)। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যবর্তী এই ঐতিহাসিক ত্রিদেশীয় ত্রিপক্ষীয় সামরিক সমঝোতা ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

​তবে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—বাংলাদেশ কি এই সামরিক জোটে যোগ দিতে যাচ্ছে?

​১. মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল ভিত্তি

​২০২৬ সালের ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মূল নীতিটি ন্যাটোর (NATO) ৫ম ধারার আদলে তৈরি।

​যৌথ নিরাপত্তা: চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো—তিনটি দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে, তা বাকি দুই দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।

​কৌশলগত শক্তিগুলোর ঐক্য:

​সৌদি আরব: মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ অর্থনৈতিক ও জ্বালানি শক্তি।

​তুরস্ক: ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি এবং আধুনিক সামরিক প্রযুক্তিতে উন্নত।

​পাকিস্তান: মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র এবং দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের শক্তিশালী সামরিক অবস্থান রয়েছে।

​তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, এই চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়; বরং এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং শান্তি ও সমৃদ্ধিতে আগ্রহী অন্যান্য মুসলিম দেশের জন্য উন্মুক্ত।

​২. বাংলাদেশের আগ্রহ ও অবস্থান

​শুরুতে কেবল এনডিটিভির মতো কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে আলোচনা থাকলেও, সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে বড় তথ্য সামনে এসেছে।

​পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির নিশ্চিত করেছেন যে, বাংলাদেশ 'মক্কা ডিফেন্স প্যাক্ট' বা এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি বেশ ইতিবাচক ও আগ্রহের সঙ্গে মূল্যায়ন করছে।

​চুক্তিতে যুক্ত হলে বাংলাদেশের সম্ভাব্য সুবিধা:

​১. আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্ব বৃদ্ধি: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দেশ হিসেবে এই জোটে যুক্ত হওয়া কূটনৈতিক স্তরে প্রভাব বাড়াবে।

২. অর্থনৈতিক ও শ্রমবাজারের সুরক্ষা: সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বৈদেশিক শ্রমবাজার ও অর্থনৈতিক অংশীদার। মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিগুলোর সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা সংযোগ থাকলে বাংলাদেশের বিশাল প্রবাসী জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার হতে পারে।

৩. প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত মানোন্নয়ন: তুরস্কের আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও পাকিস্তানের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা খাত আরও সুসংগঠিত হতে পারে।

​৩. ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকির দিকসমূহ

​সুযোগের পাশাপাশি একটি চুক্তিভিত্তিক সামরিক জোটে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

​ঐতিহাসিক পররাষ্ট্রনীতিতে টানাপোড়েন: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান কথা হলো "সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়"। সরাসরি সামরিক জোটে গেলে এই নিরপেক্ষ অবস্থান রক্ষা করা কঠিন হতে পারে।

​ভারত ও চীন সমীকরণ:

​ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক, অর্থনৈতিক ও সীমানা নিরাপত্তা সম্পর্কিত গভীর সম্পর্ক রয়েছে। নয়া দিল্লি দক্ষিণ এশীয় রাজনীতিতে পাকিস্তান অন্তর্ভুক্ত সামরিক জোটকে কীভাবে মূল্যায়ন করছে, সেটি বাংলাদেশের জন্য বড় বিবেচনার বিষয়।

​পাশাপাশি, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বড় অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন অংশীদার।

​যৌথ বাধ্যবাধকতার চাপ: 'একজনের ওপর হামলা সবার ওপর হামলা' নীতি থাকায় ভবিষ্যতে যদি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাত তীব্র হয়, তবে বাংলাদেশকেও কূটনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার বাধ্যবাধকতায় পড়তে হতে পারে।

​৪. উপসংহার ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা

​বাংলাদেশ সরকারের জন্য সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হতে পারে—জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

বাংলাদেশ সরাসরি পূর্ণ সামরিক সদস্য হিসেবে যোগ না দিয়ে 'পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র' (Observer State) বা 'কৌশলগত সহযোগী অংশীদার' হিসেবে যুক্ত থেকে এই প্ল্যাটফর্মটির সুযোগ নিতে পারে। এতে একদিকে যেমন সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গভীর করা যাবে, অন্যদিকে ভারত, চীন ও অন্যান্য বিশ্বশক্তির সাথে বিদ্যমান ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে।

বঙ্গোপসাগর ঘিরে ভারতের চরম উদ্বেগ: তারেক রহমানকে যেকোনো মূল্যে পাশে চায় নয়াদিল্লি!

August 24, 2026

 

​ 


বঙ্গোপসাগর অঞ্চল এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে দ্রুত পরিবর্তিত সমীকরণের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে ভারতের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে। ভৌগোলিক অবস্থান ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ দিক বিবেচনা করে বঙ্গোপসাগরে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে এখন বাংলাদেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা শক্তিগুলোর সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক ও জোরদার করাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে নয়াদিল্লি। এই পরিবর্তিত আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ নেতৃত্ব বিশেষ করে তারেক রহমানকে যেকোনো উপায়ে পাশে পাওয়ার কৌশলগত তাগিদ অনুভব করছে ভারত।

​বঙ্গোপসাগর ও নিরাপত্তা উদ্বেগ

​দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বঙ্গোপসাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা ভারতের জন্য এক বড় ধরণের কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মোংলা বন্দর, তিস্তা নদী প্রকল্প এবং আঞ্চলিক করিডোরগুলোকে কেন্দ্র করে বিদেশি শক্তির প্রবেশ ভারতের 'চিকেনস নেক' বা শিলিগুড়ি করিডোরের সুরক্ষায় নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এ অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার স্বার্থে বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী নিকটতম প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের সহযোগিতা ভারতের জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

​কূটনৈতিক কৌশলে পরিবর্তন ও বিএনপি সমীকরণ

​দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রক্ষা ও বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানামুখী কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে দিল্লি। রাজনৈতিক পরিবর্তন ও নতুন বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভারত বুঝতে পারছে—বাংলাদেশকে কোনো নির্দিষ্ট একটি বলয়ে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়। ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে নিজেদের কৌশলগত স্বার্থ অক্ষুণ্ন রাখতে ও সীমান্ত নিরাপত্তার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে বিএনপি ও তারেক রহমানের সাথে গঠনমূলক কূটনৈতিক যোগাযোগ রক্ষা করা ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

​দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন দিগন্ত

​সম্প্রতি ভারতীয় কূটনৈতিক মহল থেকেও বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে তারা আগ্রহী। সার্বিক বিবেচনায়, বঙ্গোপসাগরে শক্তির ভারসাম্য রক্ষা এবং নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে রাজনৈতিক সমীকরণে তারেক রহমানের অবস্থানকে নতুন দিল্লি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

​মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে ইরানের যোগদানের গুঞ্জন: মধ্যপ্রাচ্যে কি বদলাচ্ছে বিশ্ব ভূ-রাজনীতির সমীকরণ?

August 24, 2026

​আন্তর্জাতিক ডেস্ক, Abnviews




​মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' (যাকে বিশ্লেষকরা 'ইসলামিক ন্যাটো' নামে অভিহিত করছেন)—সেই শক্তিশালী জোটেই এবার যোগ দিতে যাচ্ছে ইরান।

​দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করা হচ্ছিল, আঞ্চলিক বৈরিতার কারণে ইরান এই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরে থাকবে। তবে সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর তথ্যে উঠে এসেছে, শক্তিশালী এই সামরিক জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে তেহরান।

​তেহরানের প্রতিক্রিয়া ও ঐতিহাসিক অবস্থান

​ইরানের পার্লামেন্টের সংবাদ সংস্থার প্রধান মেহেদী রহিমী এক সাক্ষাৎকারে জানান, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার জন্য ইরান অফিসিয়াল প্রস্তাব বা আমন্ত্রণ লাভ করেছে। তেহরান এই প্রস্তাবটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।

​মেহেদী রহিমীর মতে, এটি ইরানের বহুল প্রতীক্ষিত নৈতিক ও কূটনৈতিক জয়। কারণ দীর্ঘদিন ধরে ইরান দাবি জানিয়ে আসছিল যে, মধ্যপ্রাচ্যের সুরক্ষার জন্য বাইরের কোনো পরাশক্তির উপর নির্ভরশীল না হয়ে আঞ্চলিক দেশগুলোর সমন্বয়ে একটি স্বতন্ত্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা প্রয়োজন।

​জোটের প্রধান শর্ত ও পটভূমি

​উল্লেখ্য, গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ মক্কায় এক যৌথ বৈঠকে এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

​ন্যাটোর (NATO) বিখ্যাত ‘আর্টিকেল ৫’-এর আদলে তৈরি এই চুক্তির মূল শর্ত হলো—চুক্তিবদ্ধ তিন দেশের যেকোনো একটি আক্রান্ত হলে তা অন্য দেশগুলোর ওপরও আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং যৌথভাবে প্রতিহত করা হবে। মার্কিন নিরাপত্তার ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই স্বতন্ত্র ঘাঁটি গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

​প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ

​যদিও ইরানকে আমন্ত্রণের বিষয়ে সৌদি আরব, তুরস্ক বা পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি, তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে আমেরিকার সামরিক শক্তির শতভাগ কার্যকারিতা নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

​যদি ইরান চূড়ান্তভাবে এই জোটে যুক্ত হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার দীর্ঘদিনের সামরিক আধিপত্য চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। পাশাপাশি আমেরিকা ও ইসরায়েলের ভূ-রাজনৈতিক ছক উপেক্ষা করে এই ইসলামিক প্রতিরক্ষা বলয় যে বিশ্ব রাজনীতির ক্ষমতার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, আন্তর্জাতিক মহলে তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।

যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত, গালিবাফের বক্তব্যে বাড়ছে আলোচনা

August 20, 2026



আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ABN Views



মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।


গালিবাফের বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক এখনো উত্তেজনাপূর্ণ এবং অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। ১৯ আগস্ট ইরাকি রাজধানী বাগদাদ সফরের সময় গালিবাফ আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো এবং বাইরের হস্তক্ষেপ ছাড়া আঞ্চলিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার কথা বলেন।


ইরান-ইরাক সম্পর্কেও জোর


বাগদাদ সফরে গালিবাফ ইরান ও ইরাকের রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। ইরানি পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে তিনি ইরাকি পার্লামেন্টের স্পিকারসহ দেশটির আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়।


গালিবাফের সফর এমন সময় হয়েছে, যখন ইরাকের ভেতরে ইরান-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা এবং তাদের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ রয়েছে। ফলে ইরান-ইরাক সম্পর্কের পাশাপাশি বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধের মূল জায়গা কোথায়?


ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতবিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি। গালিবাফ সম্প্রতি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো সমঝোতার ক্ষেত্রে ইরানের দাবিগুলো বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ওপর চলমান বিরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।


এর আগে আগস্টের শুরুতেও গালিবাফ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন। তিনি ওয়াশিংটনের সামরিক চাপ ও আলোচনার প্রস্তাব—দুই ধরনের পদক্ষেপের সমালোচনা করেন।


মধ্যপ্রাচ্যে কি নতুন জোট তৈরি হচ্ছে?


গালিবাফের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন আঞ্চলিক সমীকরণের আলোচনা জোরালো হলেও, এই মুহূর্তে কোনো আনুষ্ঠানিক নতুন জোট গঠিত হয়েছে—এমন নিশ্চিত তথ্য নেই।


বরং সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো থেকে দেখা যাচ্ছে, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ইরাক সফরও সেই বৃহত্তর আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


সামনে কী হতে পারে?


মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো দ্রুত পরিবর্তনশীল। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা—এই তিনটি বিষয় আগামী দিনগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


তবে গালিবাফের বক্তব্যকে সরাসরি কোনো নতুন সামরিক জোট বা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী আনুষ্ঠানিক জোটের ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি ইরানের আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করাই বেশি যুক্তিসঙ্গত।


ABN Views-এর বিশ্লেষণ: মধ্যপ্রাচ্যে পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের অবস্থান দ্রুত বদলাতে পারে। তাই কোনো বক্তব্য বা রাজনৈতিক ইঙ্গিতকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার আগে পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।


তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদন।

সৌদি আরবকে ঘিরে বাড়ছে সামরিক চাপ, ইরান–সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলায় নতুন উদ্বেগ

August 18, 2026

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৯ আগস্ট ২০২৬



মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব নতুন করে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আলোচনায় এনেছে। ইরান ও দেশটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ঘিরে সৌদি আরবের ওপর সামরিক চাপ বাড়ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনাও বেড়েছে। সৌদি সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে হুথিদের হামলায় বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন। একই সময়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ উত্তর ও দক্ষিণ—দুই দিক থেকেই সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জানিয়েছে।

ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী নিয়ে উদ্বেগ

সৌদি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ইরান-সমর্থিত কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, জ্বালানি স্থাপনা, বন্দর ও অন্যান্য কৌশলগত স্থাপনায় হামলার চেষ্টা করতে পারে। এ ধরনের আশঙ্কার কারণে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে সৌদি আরবের সামরিক বাহিনী ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলার জবাবে ইরাকে কিছু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছিল। রিয়াদের বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি ভূখণ্ডের জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলার চেষ্টার পর ওই অভিযান চালানো হয়।

লোহিত সাগরেও বাড়ছে উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে লোহিত সাগর। হুথিদের সামরিক তৎপরতা শুধু স্থলভাগে সীমাবদ্ধ নেই; সমুদ্রপথেও হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

১৭ আগস্ট সৌদি সামরিক নৌযানকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে হুথিরা। এই দাবির ফলে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্কের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত নিরাপত্তা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সমীকরণ আরও পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে লোহিত সাগর, ইয়েমেন ও উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে এর প্রভাব জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও পড়তে পারে।

পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে?

সৌদি আরব ও ইরান সরাসরি বড় ধরনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে কি না, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা, ইয়েমেনে নতুন সংঘাত এবং লোহিত সাগরে সামুদ্রিক হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। ১৮ আগস্ট ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯১ ডলারের ওপরে উঠে তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে শুধু সৌদি আরব বা ইরান নয়, পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।


Advertisement

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে প্রদর্শন করুন (৭২৮x৯০)

Powered by Blogger.