নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন এক নির্বাচনী কৌশলে এগোচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। জোট শরিকদের সাথে আসন সমঝোতা এবং প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলটি এবার আবেগ নয়, বরং গাণিতিক ও সাংগঠনিক শক্তিকে প্রাধান্য দিচ্ছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ ও খুলনা বিভাগকে নিজেদের প্রধান দুর্গ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে দলটি।
১. আঞ্চলিক কৌশলে চমক: উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে একক প্রাধান্য
নির্বাচনী বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, জামায়াত তাদের শক্ত ঘাঁটিগুলোতে শরিকদের জন্য খুব কম আসন ছেড়েছে।
- খুলনা বিভাগ: এই বিভাগের ৩৬টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতেই জামায়াত নিজস্ব প্রার্থী দিচ্ছে। অর্থাৎ প্রায় পুরো বিভাগেই তারা এককভাবে লড়তে চায়।
- রংপুর ও রাজশাহী: রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে মাত্র ৪টি এবং রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনের মধ্যে মাত্র ৩টি আসন শরিকদের জন্য রাখা হয়েছে।
- সীমান্তবর্তী এলাকা: ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সীমান্তবর্তী আসনগুলোতে জামায়াতের প্রার্থীরা বেশি শক্তিশালী। তাই এবার এসব এলাকার প্রায় সব আসনেই প্রার্থী দিচ্ছে তারা।
২. জোটের রাজনীতি: বড় ছাড় মধ্যাঞ্চলে
নিজেদের শক্ত ঘাঁটিতে অনড় থাকলেও রাজধানী ঢাকা এবং মধ্যাঞ্চলে শরিকদের প্রতি যথেষ্ট উদারতা দেখিয়েছে জামায়াত।
- ঢাকা ও ময়মনসিংহ: এই দুই বিভাগে নিজেদের প্রার্থীর চেয়ে জোট শরিক এনসিপি (NCP) এবং তরুণ নেতৃত্বের জন্য আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
- হাইপ্রোফাইল সমর্থন: ঢাকায় নাহিদ ইসলাম ও নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারি এবং কুমিল্লায় হাসনাত আব্দুল্লাহর মতো আলোচিত প্রার্থীদের বিজয়ী করতে জামাত-শিবিরের নেতাকর্মীরা মাঠপর্যায়ে ব্যাপকভাবে সক্রিয় রয়েছেন।
৩. জামায়াতের নিজস্ব জরিপ ও লক্ষ্য
দলটির অভ্যন্তরীণ তিনটি জরিপের তথ্যানুযায়ী, এবার তারা ঐতিহাসিক সাফল্যের প্রত্যাশা করছে:
- রংপুর বিভাগে অন্তত ২৫টি এবং খুলনা বিভাগে ২৪টি আসনে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে দলটি।
- বর্তমানে বিভিন্ন স্বতন্ত্র ও অভ্যন্তরীণ জরিপ মতে, জামায়াতের ভোট ব্যাংক প্রায় ৩০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
- শহরভিত্তিক রাজনীতির চেয়ে এবার গ্রাম ও সীমান্তবর্তী জনপদগুলোতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে তারা।
৪. জোটের বর্তমান অবস্থা
নির্বাচনী ঐক্য অনুযায়ী প্রথমে ১১টি দলের সাথে জোট থাকলেও, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট ত্যাগ করায় জামায়াতের প্রার্থীর সংখ্যা আরও বাড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে, দলটি শেষ পর্যন্ত ২২০টিরও বেশি আসনে নিজেদের প্রার্থী রাখবে। বাকি আসনগুলো এনসিপি ও খেলাফত আন্দোলনের মতো শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষক মত: জামায়াত এবার এমন সব আসনে প্রার্থী দিয়েছে যেখানে অতীতে তারা জয়ী হয়েছিল অথবা খুব সামান্য ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল। তাদের এই 'উইনেবল সিট' (Winnable Seats) পলিসি আগামী নির্বাচনে ভোটের সমীকরণে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে।

No comments: