অনলাইন ডেস্ক | ঢাকা
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ক্ষমতার লড়াইয়ে অন্যতম শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে নামছে বিএনপি। তবে প্রচারণার এই ডামাডোলে দলটির জন্য নতুন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে 'বিদ্রোহী প্রার্থী' ইস্যু।
বিদ্রোহীদের দাপট ও বর্তমান চিত্র
দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় শুরুতে বিএনপির মধ্যে অস্থিরতা দেখা দেয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী:
- প্রাথমিকভাবে ৫২টি আসনে ৯১ জন নেতা মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন।
- দলের হাই কমান্ডের চাপে এবং তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপে অনেকেই সরে দাঁড়িয়েছেন।
- তবে এখনও ৪০টি আসনে অর্ধশতাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী ভোটের মাঠে অনড় রয়েছেন, যার মধ্যে রুমিন ফারহানা ও হাসান মামুনের মতো পরিচিত মুখও রয়েছেন।
কঠোর অবস্থানে বিএনপি হাই কমান্ড
বিদ্রোহী দমনে বিএনপি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। গত ৩০ ডিসেম্বর দলের সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীর দিনই ১০ জন প্রভাবশালী নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরে দাঁড়াবেন না, তাদের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রার্থিতা বাতিল ও আইনি লড়াই
বিদ্রোহী প্রার্থীদের পাশাপাশি আইনি জটিলতায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসন (কুমিল্লা-৪, কুমিল্লা-১০ এবং চট্টগ্রাম-২) নিয়ে বিপাকে রয়েছে দলটি। ঋণ খেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এসব আসনের প্রার্থীদের অযোগ্য ঘোষণা করেছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন, উচ্চ আদালতে রিটের মাধ্যমে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
শেষ মুহূর্তের চ্যালেঞ্জ
২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। ফলে বিদ্রোহীদের মানিয়ে ভোটের মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য দলটির হাতে সময় মাত্র কয়েক ঘণ্টা। একাধিকবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা এই দলটি শেষ পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ এই কোন্দল মিটিয়ে কতটা সংহত হয়ে নির্বাচনে লড়তে পারে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

No comments: