![]() |
| Ai image |
সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রনেতা সাদ্দামের জীবনের ট্র্যাজেডি আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক অন্ধকার দিককে উন্মোচিত করেছে। গত এক বছর ধরে তিনি কারাগারে। কিন্তু এই এক বছরে শুধু সাদ্দামের কারাবাসই হয়নি, ধবংস হয়ে গেছে একটি সাজানো পরিবার। অভাব, অনাহার আর চরম মানসিক যন্ত্রণায় পিষ্ট হয়ে তার স্ত্রী নিজের সন্তানকে হত্যা করে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন।
এটি কেবল একটি মৃত্যু নয়, বরং আমাদের মানবিকতা ও রাজনৈতিক কাঠামোর চরম ব্যর্থতার দলিল।
নির্মমতার শেষ কোথায়?
একটি রাষ্ট্রের মৌলিক ভিত্তি হওয়া উচিত মানবিকতা। কিন্তু সাদ্দামের ক্ষেত্রে যা ঘটেছে, তা যেকোনো বিবেকবান মানুষকে স্তম্ভিত করে দেয়। নিজের স্ত্রী ও সন্তানের নিথর দেহগুলো শেষবারের মতো দেখার সুযোগটুকুও তাকে দেওয়া হয়নি। প্যারোলে মুক্তির আবেদন প্রত্যাখ্যান করা কি একটি গণতান্ত্রিক বা মানবিক রাষ্ট্রের পরিচয়? দাফনে অংশ নিতে না পারা সেই বাবার আর্তনাদ কি আমাদের বিচারব্যবস্থা বা প্রশাসনের কানে পৌঁছায় না?
মাঠের কর্মী বনাম নিরাপদ নেতৃত্ব
আমাদের দেশের রাজনীতির এক অদ্ভুত ও নিষ্ঠুর বাস্তবতা হলো— যারা মাঠ পর্যায়ে রাজনীতি করে, জীবন দেয় কিংবা জেল খাটে, তারা দিনশেষে 'দাবার ঘুঁটি' ছাড়া আর কিছুই নয়।
- নেতৃত্ব যখন নিরাপদ: রাজনীতির নামে যারা ক্ষমতার ছক কষেন, যারা কর্মীদের মাঠ গরম করার নির্দেশ দেন, তাদের বড় অংশই আজ বিদেশে বা নিরাপদ আশ্রয়ে আয়েশ করছেন।
- কর্মী যখন নিঃস্ব: অন্যদিকে, সাধারণ কর্মীরা মামলার বোঝা কাঁধে নিয়ে পরিবারসহ নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছেন। সাদ্দামের পরিবারের এই পরিণতি প্রমাণ করে যে, রাজনীতির এই নোংরা খেলায় সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় সাধারণ পরিবারগুলোকে।
এই কি সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ?
আমরা কি এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম যেখানে রাজনীতির কারণে একটি শিশুকে তার মায়ের হাতেই প্রাণ দিতে হবে? যেখানে অভাব আর একাকীত্ব একটি পরিবারকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেবে?
যে রাজনীতি মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারে না, যে রাজনীতি পরিবার ভেঙে দেয় এবং সন্তানদের এতিম (বা প্রাণ কেড়ে নেয়) করে— সেই রাজনীতিকে আজ কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর সময় এসেছে। সাধারণ কর্মীদের অন্ধ আনুগত্যের আগে ভাবা উচিত, বিপদের দিনে তাদের পাশে দল বা নেতা থাকে কি না।
আমাদের দাবি ও প্রশ্ন
সাদ্দামের পরিবারের এই করুণ পরিণতি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, বিচারহীনতা এবং অমানবিকতা কত গভীরে শিকড় গেড়েছে। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের জীবনের মূল্য দেওয়া শিখতে হবে।
আসুন আমরা প্রশ্ন তুলি:
১. কেন একজন বন্দিকে মানবিক কারণে শেষ বিদায় জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে না?
২. রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি কেন হবে সাধারণ পরিবারের নারী ও শিশুরা?
৩. নেপথ্যের কারিগররা কেন নিরাপদ, আর কর্মীরা কেন ধ্বংসের মুখে?
এই শোক কেবল সাদ্দামের পরিবারের নয়, এই শোক গোটা জাতির বিবেকের। রাজনীতির এই বিষচক্র বন্ধ হোক, আর কোনো পরিবার যেন এভাবে ধবংস না হয়।
#Humanity #PoliticalReality #JusticeForFamilies #Bangladesh #মানবিকতা #রাজনীতি

No comments: