নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ১১ দলীয় জোট। আজ এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জোটের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ২৫০টি আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। জোটের নেতারা একে 'নতুন বাংলাদেশ গড়ার লড়াই' এবং 'অস্তিত্ব রক্ষার নির্বাচন' হিসেবে অভিহিত করেছেন।
নির্বাচনী কৌশল: 'ওয়ান বক্স পলিসি'
জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা 'ওয়ান বক্স পলিসি' বা এক নির্বাচনী এলাকায় একজন প্রার্থী নীতিতে নির্বাচন করবে। অর্থাৎ, জোটভুক্ত দলগুলোর মধ্যে প্রতিটি আসনে কেবল একজন অভিন্ন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, যা ভোট বিভাজন রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
দলভিত্তিক আসন বণ্টনের পরিসংখ্যান
সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত তথ্য অনুযায়ী, কোন দল কতটি আসনে লড়ছে তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
|
রাজনৈতিক দলের নাম |
নির্ধারিত আসন সংখ্যা |
|---|---|
|
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী |
১৭৯ |
|
জাতীয় নাগরিক পার্টি |
৩০ |
|
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস |
২০ |
|
খেলাফত মজলিস |
১০ |
|
ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) |
০৭ |
|
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি |
০৩ |
|
নেজামে ইসলাম পার্টি |
০২ |
|
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) |
০২ |
|
মোট ঘোষিত আসন |
২৫০ |
এছাড়াও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং জোটের অন্যান্য শরিকদের জন্য অবশিষ্ট আসনগুলোর বণ্টন প্রক্রিয়া দ্রুতই সম্পন্ন হবে বলে জানানো হয়েছে।
জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও সংস্কারের অঙ্গীকার
সংবাদ সম্মেলনে জোটের নেতৃবৃন্দ বলেন, এই নির্বাচনটি অতীতের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে আলাদা। এটি কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ছাত্র-জনতা যে সংস্কার ও পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছে, তা বাস্তবায়ন করাই এই ঐক্যের মূল লক্ষ্য। তাঁরা আরও যোগ করেন, ভিন্ন ভিন্ন দর্শনের দল হওয়া সত্ত্বেও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে তারা এক টেবিল থেকে কাজ করার যে মডেল তৈরি করেছেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়।
বাকি ৫০টি আসনের ব্যাপারেও আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমার আগেই পূর্ণাঙ্গ ৩০০ আসনের রূপরেখা ঘোষণা করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জোট নেতারা।

No comments: