ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনৈতিক মনস্তত্ত্বে এক বিশাল পরিবর্তন দৃশ্যমান হচ্ছে। বিশেষ করে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনুষ্ঠিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোর ফলাফল আগামীর জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তরুণদের পছন্দে বড় পরিবর্তন
দীর্ঘ দেড় দশক ধরে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যে রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করা হয়েছিল, বর্তমান ছাত্ররা তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পর সর্বশেষ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জকসু) নির্বাচনেও ইসলামী ছাত্রশিবিরের জয়জয়কার দেখা গেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তরুণ ভোটাররা এখন 'সেক্যুলার' বা 'বাম' রাজনীতির চেয়ে ইসলামপন্থী এবং শিক্ষার্থীবান্ধব নেতৃত্বকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিএনপি ও ছাত্রদলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ
দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি এবং তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা উদ্বেগজনক। মাঠপর্যায়ের বিশ্লেষণে কয়েকটি প্রধান কারণ উঠে এসেছে:
- আস্থার সংকট: সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করছে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের রাজনৈতিক কৌশলের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নেই।
- নেতৃত্বের দুর্বলতা: ছাত্রদলে এখনো অছাত্রদের প্রাধান্য এবং সময়োপযোগী কর্মসূচির অভাব লক্ষ্য করা গেছে।
- আদর্শিক দূরত্ব: বিএনপির কিছু সাম্প্রতিক অবস্থান এবং তরুণদের আকাঙ্ক্ষার মধ্যে যে ফারাক তৈরি হয়েছে, তা ভোটের ফলাফলে প্রতিফলিত হচ্ছে।
জাতীয় নির্বাচনে এর প্রভাব কতটুকু?
বর্তমানে দেশে প্রায় ৪ কোটির মতো তরুণ ভোটার রয়েছে। ছাত্র সংসদ নির্বাচনে শিবিরের এই উত্থান প্রমাণ করে যে, তরুণদের মধ্যে ইসলামপন্থী রাজনীতির প্রতি অতীতের অনীহা কেটে গেছে। যদিও ছাত্র সংসদ আর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ভিন্ন, তবুও শিক্ষিত তরুণদের এই সমর্থন আগামী নির্বাচনে বড় ধরনের ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে।
"তরুণরা এখন কেবল স্লোগান নয়, রাষ্ট্র পরিচালনায় নিজেদের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব এবং গুণগত পরিবর্তন দেখতে চায়।"
তারেক রহমানের নতুন কৌশল
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যে ছাত্রনেতাদের সাথে একাধিক বৈঠক করেছেন। তিনি বুঝতে পারছেন যে, ক্ষমতায় যেতে হলে বা সরকার গঠন করতে হলে এই বিশাল ছাত্র-তরুণ শক্তিকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।
উপসংহার
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিবিরের একচ্ছত্র আধিপত্য এবং বিএনপির প্রতি শিক্ষিত তরুণদের অনীহা ভবিষ্যতে দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের মেরুকরণ ঘটাতে পারে। বৈরিতার বদলে সুসম্পর্কের রাজনীতিই এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

No comments: