নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
ঢাকা আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের জট খুলেছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের মাত্র ২৫ দিনের মাথায় তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার এক ভয়াবহ চিত্র এবং নতুন এক মাস্টারমাইন্ডের নাম।
হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা কে?
ডিবির তদন্ত অনুযায়ী, হাদি হত্যার প্রধান নির্দেশদাতা ও মাস্টারমাইন্ড হলেন তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর। ডিবি জানিয়েছে, বাপ্পি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
দ্রুততম সময়ে তদন্ত ও চার্জশিট
১২ ডিসেম্বর পল্টনে হাদিকে গুলি করার পর সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু হয়। মাত্র ২৫ দিনের মধ্যে ডিবি ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। এর মধ্যে ১১ জন গ্রেফতার থাকলেও মূল ৩ জন (বাপ্পি, শুটার ফয়সাল ও চালক আলমগীর) বর্তমানে ভারতে পলাতক রয়েছেন।
কার কী ভূমিকা ছিল? (তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য)
তদন্তে উঠে এসেছে এই হত্যাকাণ্ডে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করেছে:
- শুটার ফয়সাল ও আলমগীর: সরাসরি গুলি ও মোটরসাইকেল চালানোর কাজ করেছেন।
- পরিবারের সহায়তা: শুটার ফয়সালের বাবা, মা, বোন ও ভগ্নিপতি অস্ত্র লুকানো এবং আসামিদের পালিয়ে যেতে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেছেন।
- বান্ধবী ও স্ত্রী: ফয়সালের বান্ধবী লিমা হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা জানলেও তা গোপন রাখেন। অন্যদিকে, ফয়সালের স্ত্রী সামিয়া আসামিদের পালানোর জন্য গাড়ির ভাড়া পরিশোধ করেন।
- সীমান্ত পারাপার: বাপ্পির ভগ্নিপতি রাজু ও মানবপাচারকারী ফিলিপের মাধ্যমে আসামিরা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসাই মূল কারণ
ডিবি প্রধানের মতে, ভিকটিম শরীফ ওসমান হাদির বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য এবং ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। আসামিদের জবানবন্দিতেও এই পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে।
ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
যদিও ১৭ জনের নামে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে, তবে ডিবি জানিয়েছে তদন্ত এখানেই শেষ নয়। এই ঘটনার পেছনে আরও বড় কোনো রাজনৈতিক নেতার অর্থায়ন বা ইন্ধন আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তীতে আদালতে সম্পূরক চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।
এক নজরে মামলার তথ্য:
- হত্যাকাণ্ডের তারিখ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
- মোট আসামি: ১৭ জন (গ্রেফতার ১১, পলাতক ৬)
- প্রধান চার্জ: দণ্ডবিধির ১২০-বি, ৩০২, ২০১ ও ১০৯ ধারা।
- তদন্ত সংস্থা: ডিবি (ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ)

No comments: