চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক হাওয়া বইছে। দেশের প্রধান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের অভাবনীয় সাফল্য রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় কেবল ক্যাম্পাসভিত্তিক নয়, বরং আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এর গভীর প্রভাব পড়তে পারে।
গণঅভ্যুত্থানে শিবিরের ভূমিকা ও সাধারণ ছাত্রদের দৃষ্টিভঙ্গি
জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ছাত্রশিবিরের সম্পৃক্ততা ছিল কৌশলগত এবং শক্তিশালী। হাসিনা সরকারের সময় প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তারা যেভাবে সাংগঠনিক সক্ষমতা বজায় রেখে আন্দোলনের পেছনের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে, তা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ছাত্রদল ও বাম সংগঠনগুলো শিবিরের পরিচয় গোপন করে রাজনীতি করার সমালোচনা করলেও, সাধারণ ছাত্ররা একে জীবন বাঁচানোর কৌশল এবং সাহসিকতা হিসেবে দেখছে।
জনকল্যাণমূলক রাজনীতি বা 'ওয়েলফেয়ার পলিটিক্স'
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিবিরের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হলো শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানে তাদের সক্রিয়তা। ক্যাম্পাসে পানির ফিল্টার স্থাপন, নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেন্ডিং মেশিন বসানো, বৃত্তি প্রদান এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষার মতো কর্মসূচিগুলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিবিরের প্রতি আগ্রহী করে তুলেছে। একে অনেকেই আগামী দিনের ছাত্র রাজনীতির একটি নতুন 'মডেল' হিসেবে দেখছেন।
বিএনপি ও ছাত্রদলের চ্যালেঞ্জ
বিএনপি নেতারা দাবি করছেন যে ছাত্র রাজনীতির প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়বে না। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। ১৯৫২, ১৯৬৯ এবং ১৯৯০ সালের ইতিহাস বলে যে ছাত্র আন্দোলনের গণজোয়ার সবসময়ই জাতীয় নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ভিডিওর তথ্যমতে, ছাত্রদল তাদের রিক্রুটমেন্ট প্রক্রিয়ার ত্রুটি এবং সাধারণ ছাত্রদের সাথে সংযোগহীনতার কারণে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে, যা বিএনপির জন্য একটি বড় দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে।
ভোটের মাঠে তরুণ ও নারী ভোটার
আগামী নির্বাচনে প্রায় ৪ কোটি তরুণ ভোটার একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই মেধাবী ছাত্ররা যখন নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাবে, তখন তারা তাদের পরিবার এবং প্রতিবেশীদের রাজনৈতিক মতাদর্শকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখবে। বিশেষ করে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নারী শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ শিবিরের প্রতি সমর্থন জানানোয় আগামী নির্বাচনে নারী ভোটারদের ভোটপ্রাপ্তির দৌড়ে জামায়াতে ইসলামী সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
উপসংহার
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রসারের ফলে মূলধারার গণমাধ্যমের একতরফা প্রচারণা এখন আর সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করতে পারছে না। তারা বাস্তব কাজের ভিত্তিতে নেতৃত্ব বেছে নিচ্ছে। এই পরিবর্তনের ঢেউ যদি জাতীয় নির্বাচনে আছড়ে পড়ে, তবে বাংলাদেশের ভোটের প্রচলিত হিসেব-নিকেশ সম্পূর্ণ পাল্টে যেতে পারে।
তথ্যসূত্র: বিডি ভিউজ (BD Views)

No comments: