![]() |
| Ai image |
মহাকাশ প্রযুক্তির দুনিয়ায় এক অবিশ্বাস্য কিন্তু বাস্তব এক ধারণা নিয়ে এসেছেন বিজ্ঞানীরা। আমরা জানি, রকেট বা মহাকাশযান মহাকাশে পাঠানোর পর তার জ্বালানি ফুরিয়ে গেলে বিশাল বিশাল খালি ট্যাংকগুলো মহাকাশে আবর্জনা হিসেবে থেকে যায়। কিন্তু এবার এমন এক মহাকাশযান আবিষ্কৃত হতে যাচ্ছে, যা চলার পথে নিজের শরীরকেই জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করবে।
বিজ্ঞানীরা এই বিশেষ প্রযুক্তির নাম দিয়েছেন 'সেলফ-ইটিং স্পেসক্রাফট' (Self-eating Spacecraft) বা 'ইকোনোমিক্যাল ট্রান্সফার ভেহিকেল' (ETV)।
এটি কীভাবে কাজ করে?
এই মহাকাশযানটির গঠনশৈলী সাধারণ রকেটের চেয়ে আলাদা। এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
- বিশেষ জ্বালানি ট্যাংক: এর জ্বালানি ট্যাংকটি তৈরি করা হয়েছে নাইলন-সিক্স (Nylon 6) নামক এক বিশেষ পলিমার দিয়ে।
- রাসায়নিক বিক্রিয়া: যখন মহাকাশযানটি চলে, তখন হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডকে সুপারহিটিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাইলন ট্যাংকের সংস্পর্শে আনা হয়। এতে একটি দহন ঘটে যা যানটিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় গতিশক্তি বা ‘থ্রাস্ট’ তৈরি করে।
- অদৃশ্য হয়ে যাওয়া কাঠামো: থ্রাস্ট তৈরির সাথে সাথে নাইলনের তৈরি ট্যাংকটি ধীরে ধীরে পুড়তে থাকে এবং জ্বালানিতে পরিণত হয়। মিশন শেষে প্রচলিত মহাকাশযানের মতো কোনো খালি ট্যাংক অবশিষ্ট থাকে না।
কেন এই আবিষ্কারটি বৈপ্লবিক?
১. কম খরচ: বড় বড় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার পাশাপাশি এখন ছোট স্টার্টআপ বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও এই প্রযুক্তির সাহায্যে কম খরচে মহাকাশ অভিযান চালাতে পারবে।
২. বেশি ওজন বহনের ক্ষমতা: নিজের কাঠামো নিজেই খেয়ে ফেলে ওজন কমিয়ে ফেলে বলে, এটি অনেক বেশি বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম বা পেলোড বহন করতে পারে।
৩. পরিবেশবান্ধব: এটি মহাকাশে কোনো ধাতব বর্জ্য ফেলে রাখে না, ফলে মহাকাশ দূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
৪. দূরবর্তী কক্ষপথ: এই প্রযুক্তির ফলে এমন সব কক্ষপথে পৌঁছানো সম্ভব হবে যা আগে বিজ্ঞানীদের নাগালের বাইরে ছিল।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বর্তমানে এই প্রকল্পটি প্রাথমিক নকশা পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং এতে অর্থায়ন করছে যুক্তরাজ্যের স্পেস এজেন্সি। ভারতের 'স্পেস ক্রিস্ট' এবং যুক্তরাজ্যের 'ইএলএফইএন' (ELFEN)-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আগামী মিশনগুলোতে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের আগ্রহ দেখিয়েছে।
মহাকাশ গবেষণার খরচ কমিয়ে সাধারণের হাতের নাগালে নিয়ে আসতে এই 'নিজেকে খেয়ে ফেলা' মহাকাশযানটি হবে এক নতুন মাইলফলক।

No comments: