নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দীর্ঘ আলোচনার পর আসন ভাগাভাগির বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। নানা সমীকরণ ও হিসাব-নিকাশ শেষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে (চরমোনাই) বড় ছাড় দিয়ে এই নির্বাচনী সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে।
আসন বণ্টনের মূল চিত্র:
জোটের দায়িত্বশীল সূত্র অনুযায়ী, শরিক দলগুলোর মধ্যে আসন বণ্টন যেভাবে সাজানো হয়েছে:
- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: জোটের প্রধান শক্তি হিসেবে জামায়াত ১৯০টি আসনে 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবে।
- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ: দীর্ঘ দরকষাকষির পর চরমোনাই পীরের দলটিকে ৪৫টি আসন দেওয়া হয়েছে। তারা তাদের নিজস্ব প্রতীক 'হাতপাখা' নিয়ে মাঠে থাকবে।
- জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি): তারা 'শাপলাকলি' প্রতীকে ২৫ থেকে ৩০টি আসনে প্রার্থী দেবে।
- বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিস: এই দলটিকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৫টি আসন।
- অন্যান্য শরিক দল: খেলাফত মজলিস ও এলডিপি ৬টি করে, এবি পার্টি ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ২টি করে এবং খেলাফতে আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি ও জাকপা ১টি করে আসন পাচ্ছে।
জটিলতা ও উন্মুক্ত আসন:
আসন বণ্টন নিয়ে শুরুতে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছিল, বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলনের আসন সংখ্যা বাড়ানোর দাবি নিয়ে। জোটের নীতি নির্ধারকরা জানিয়েছেন, বৃহত্তর স্বার্থে এই সংকট এখন অনেকটাই কেটে গেছে। তবে এখনও ৮ থেকে ১০টি আসনে একাধিক দলের শীর্ষ নেতারা প্রার্থী হতে আগ্রহী হওয়ায় সেখানে সমঝোতা বাকি। যদি শেষ পর্যন্ত সমাধান না হয়, তবে অন্তত ১০ থেকে ২০টি আসন 'উন্মুক্ত' রাখা হতে পারে, যেখানে জোটের শরিকরা একে অপরের বিরুদ্ধে লড়তে পারবেন।
শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য:
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, বুধবার আসন বিন্যাস ও প্রার্থী তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।
এদিকে জামায়াতের আমির ডক্টর শফিকুর রহমান সোমবার এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, "আপনারা আগামীকালের ভেতরে দাওয়াত পাবেন, না হলে পরশু সবার সামনে আমরা একসঙ্গে আসবো"। এতে স্পষ্ট যে, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই জোটের চূড়ান্ত নির্বাচনী রূপরেখা সবার সামনে আসবে।
তথ্যসূত্র: কালবেলা নিউজ

No comments: