![]() |
| Ai image |
বিলাসবহুল জীবনের আড়ালে বন্দিশালা
১৯৯৮ সালে মার্কিন ধনকুবের জেফ্রি এপস্টেইন ৭২ একরের এই দ্বীপটি কিনেছিলেন। সেখানে ছিল বিশাল ভিলা, সুইমিং পুল, দামি আসবাবপত্র এবং ব্যক্তিগত হেলিকপ্টারের আনাগোনা। তবে তদন্তকারীদের মতে, পৃথিবীতে যদি কোথাও নরক থেকে থাকে, তবে সেটি ছিল এই দ্বীপ।
অভিযোগ রয়েছে, ১২ থেকে ১৭ বছর (এমনকি ১১ বছরেরও কম) বয়সী তরুণীদের প্রলোভন দেখিয়ে ব্যক্তিগত জেটে করে এখানে আনা হতো। একবার এই দ্বীপে পা রাখলে তাদের বের হওয়ার আর কোনো অনুমতি ছিল না। এপস্টেইনের সহযো
গী গিলেন ম্যাক্সওয়েলের বর্ণনা অনুযায়ী, দ্বীপটি ছিল মেয়েদের জন্য একটি ‘খাঁচার’ মতো, যেখানে তাদের ওপর চলত দিনের পর দিন অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
প্রভাবশালীদের দীর্ঘ তালিকা: নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য
২০২৬ সালের ৩০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (DOJ) এই মামলা সংক্রান্ত প্রায় ৩০ লাখ নথি, ২ হাজার ভিডিও এবং ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি প্রকাশ করে। এই নথিপত্র বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে, কারণ এখানে নাম এসেছে বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের।
তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য নামসমূহ:
- রাজনীতিবিদ: দুই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প।
- রাজপরিবার: ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু।
- উদ্যোক্তা ও বিজ্ঞানী: বিল গেটস এবং প্রখ্যাত পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং।
- বিনোদন জগৎ: মাইকেল জ্যাকসন, লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, কেভিন স্পেসি এবং ব্রুস উইলিসের মতো তারকারা।
যদিও এই তালিকায় নাম থাকা মানেই তারা অপরাধী নন, তবে এই দ্বীপে তাদের যাতায়াত এবং সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
মৃত্যু এবং অমীমাংসিত রহস্য
কমপক্ষে ৪০ জন নারী জেফ্রি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে সরাসরি যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনেন। ২০১৯ সালে ৬৬ বছর বয়সে জেলে থাকাকালীন রহস্যজনকভাবে এপস্টেইনের মৃত্যু হয়। সরকারিভাবে একে ‘আত্মহত্যা’ বলা হলেও, আজও তার মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। অনেকের ধারণা, প্রভাবশালী কাউকেও আড়াল করতেই কি এই মৃত্যু?
উপসংহার
২০০১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ দুই দশক ধরে চলা এই শিশু পাচার ও নির্যাতন চক্রটি আধুনিক ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। জেফ্রি এপস্টেইনের মৃত্যু হলেও, একের পর এক প্রকাশ হওয়া নথিগুলো প্রমাণ দিচ্ছে যে, এই অন্ধকার নেটওয়ার্কটি কত গভীরে প্রোথিত ছিল।

No comments: