ADS

ব্রেকিং নিউজ: সৌদি আরবকে ঘিরে বাড়ছে সামরিক চাপ, ইরান–সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলায় নতুন উদ্বেগ আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৯ আগস্ট ২০২৬ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব নতুন করে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আলোচনায় এনেছে। ইরান ও দেশটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ঘিরে সৌদি আরবের ওপর সামরিক চাপ বাড়ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনাও বেড়েছে। সৌদি সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে হুথিদের হামলায় বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন। একই সময়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ উত্তর ও দক্ষিণ—দুই দিক থেকেই সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জানিয়েছে। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী নিয়ে উদ্বেগ সৌদি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ইরান-সমর্থিত কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, জ্বালানি স্থাপনা, বন্দর ও অন্যান্য কৌশলগত স্থাপনায় হামলার চেষ্টা করতে পারে। এ ধরনের আশঙ্কার কারণে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে সৌদি আরবের সামরিক বাহিনী ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলার জবাবে ইরাকে কিছু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছিল। রিয়াদের বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি ভূখণ্ডের জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলার চেষ্টার পর ওই অভিযান চালানো হয়। লোহিত সাগরেও বাড়ছে উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে লোহিত সাগর। হুথিদের সামরিক তৎপরতা শুধু স্থলভাগে সীমাবদ্ধ নেই; সমুদ্রপথেও হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ১৭ আগস্ট সৌদি সামরিক নৌযানকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে হুথিরা। এই দাবির ফলে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্কের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত নিরাপত্তা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সমীকরণ আরও পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে লোহিত সাগর, ইয়েমেন ও উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে এর প্রভাব জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও পড়তে পারে। পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে? সৌদি আরব ও ইরান সরাসরি বড় ধরনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে কি না, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা, ইয়েমেনে নতুন সংঘাত এবং লোহিত সাগরে সামুদ্রিক হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। ১৮ আগস্ট ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯১ ডলারের ওপরে উঠে তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় বলে রয়টার্স জানিয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে শুধু সৌদি আরব বা ইরান নয়, পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সর্বশেষ ঘটনাগুলো নিয়ে আমাদের নিয়মিত আপডেট পেতে চোখ রাখুন www.abnviews.com

আন্তর্জাতিক সংবাদ পর্যালোচনা: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইন্দোনেশিয়ার হুঁশিয়ারি

ঢাকা, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সামরিক উত্তেজনার পারদ আরও চড়ছে। আরব সাগরে ইরানের ড্রোন ভূপাতিত করা থেকে শুরু করে ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইন্দোনেশিয়ার কঠোর অবস্থান—সব মিলিয়ে বিশ্ব রাজনীতি এখন উত্তাল। আজকের প্রধান সংবাদগুলোর বিস্তারিত প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো:

১. আরব সাগরে মার্কিন রণতরীর দিকে আসা ইরানি ড্রোন ভূপাতিত

​আরব সাগরে মোতায়েন করা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এর দিকে এগিয়ে আসা একটি ইরানি শাহেদ-১৩৯ ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানিয়েছেন, ড্রোনটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় রণতরীর ৫শ মাইলের মধ্যে চলে এসেছিল। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, আত্মরক্ষার্থে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখতেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশনায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

২. ফিলিস্তিন ইস্যুতে ‘বোর্ড অফ পিস’ ছাড়ার হুমকি ইন্দোনেশিয়ার

​ফিলিস্তিনের পূর্ণ স্বাধীনতা এবং গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা না হলে ট্রাম্প ঘোষিত ‘বোর্ড অফ পিস’ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাবউ সুবিয়ান্তো স্পষ্ট জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। জাকার্তায় এক বৈঠকে তিনি বলেন, যদি এই বোর্ডের কার্যক্রম ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রনীতির পরিপন্থী হয়, তবে তারা এই প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে আসতে দ্বিধা করবে না।

৩. ইরানে বিক্ষোভ ও ৩ হাজার মানুষের মৃত্যুর তালিকা প্রকাশ

​জানুয়ারি মাসে ইরানে হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হতাহতদের নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের অবসান ঘটাতে ৩,১০০ জন নিহতের নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তালিকা প্রকাশ করেছে তেহরান। ইরান সরকারের দাবি, পশ্চিমা গণমাধ্যম নিহতের সংখ্যা (৬ হাজার থেকে ৮০ হাজার) অতিরঞ্জিত করে প্রচার করছে। এদিকে, দেশটির সংস্কারপন্থী নেতা মীর হোসেন মুসাভি এই ঘটনাকে বড় ধরনের বিপর্যয় আখ্যা দিয়ে একটি অবাধ গণভোটের আহ্বান জানিয়েছেন, যা নিয়ে দেশটির কট্টরপন্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

৪. সাইফ আল ইসলাম গাদ্দাফিকে হত্যার দাবি: সত্য না গুজব?

​লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র সাইফ আল ইসলাম গাদ্দাফি নিহত হয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়েছে। দাবি করা হচ্ছে, ব্রিগেড-৪৪৪ নামের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী তাকে হত্যা করেছে। তবে লিবিয়ার সরকার বা কোনো আন্তর্জাতিক নির্ভরযোগ্য সংবাদ সংস্থা এখন পর্যন্ত এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেনি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি পরিকল্পিত একটি গুজব হতে পারে।

উপসংহার: মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন পরাশক্তির কৌশলগত অবস্থানের কারণে সামনের দিনগুলোতে বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

No comments:

Advertisement

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে প্রদর্শন করুন (৭২৮x৯০)

Powered by Blogger.