আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায় সর্বোচ্চ কত টাকা ব্যয় করতে পারবেন, তা পুনর্নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৪৪ খ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ব্যয়ের এই সীমা এবং আইন অমান্যকারীর শাস্তির বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ব্যয় নির্ধারণের মূল সূত্র
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, একজন প্রার্থী তার নির্বাচনী এলাকায় ভোটারপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা হারে খরচ করতে পারবেন। তবে কোনো আসনে ভোটারের সংখ্যা কম হলেও প্রার্থী ন্যূনতম ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ের সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ, ভোটার সংখ্যা যাই হোক না কেন, কোনো প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়সীমা ২৫ লাখ টাকার নিচে হবে না।
আসনভেদে ব্যয়ের চিত্র
ভোটার সংখ্যার তারতম্য অনুযায়ী বিভিন্ন আসনে ব্যয়ের পরিমাণ ভিন্ন হবে:
- সর্বোচ্চ ব্যয়ের আসন: দেশের সবচেয়ে বেশি ভোটার বিশিষ্ট গাজীপুর-২ আসনে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ৮৪ লাখ ৩ হাজার ৩৩০ টাকা ব্যয় করতে পারবেন।
- বড় আসনগুলো: ঢাকা-১৯ আসনে ৭৪ লাখ এবং গাজীপুর-১ আসনে ৭২ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করা যাবে।
- সাধারণ হিসাব: দেশের অধিকাংশ আসনে ভোটার সংখ্যা অনুযায়ী এই ব্যয়ের সীমা ২৫ লাখ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৮৪ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।
ব্যয়সীমার পরিসংখ্যান একনজরে:
|
ভোটারের সংখ্যা |
আসনের সংখ্যা |
সম্ভাব্য ব্যয়সীমা |
|---|---|---|
|
৬ লাখের বেশি |
৭টি আসন |
৬০ লাখ - ৬৯ লাখ টাকা |
|
৫ লাখের বেশি |
৫২টি আসন |
৫০ লাখ - ৫৯ লাখ টাকা |
|
৪ লাখের বেশি |
১১৩টি আসন |
৪০ লাখ - ৪৯ লাখ টাকা |
|
৩ লাখের বেশি |
১০৪টি আসন |
৩০ লাখ - ৩৯ লাখ টাকা |
|
২ লাখের বেশি |
২০টি আসন |
২২ লাখ - ২৯ লাখ টাকা |
আইন লঙ্ঘনের শাস্তি
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, নির্ধারিত এই ব্যয়সীমা কোনো প্রার্থী অতিক্রম করলে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, এই অপরাধের দায়ে একজন প্রার্থীর সর্বোচ্চ ৭ বছরের জেল এবং অর্থদণ্ড হতে পারে।

No comments: