নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। গত দেড় দশকের ভারত-নির্ভর কূটনীতি থেকে বেরিয়ে এসে অন্তর্বর্তী সরকার এখন মুসলিম দেশগুলোর পাশাপাশি পাকিস্তান ও চীনের সাথে সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সাথে সরাসরি বিমান ও নৌ যোগাযোগ পুনরায় স্থাপন এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়টি এখন টক অফ দ্য কান্ট্রি।
বাণিজ্যিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার পুনরুজ্জীবন
দীর্ঘদিন শীতল সম্পর্কের পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার:
- সরাসরি বিমান চলাচল: হাসিনা সরকারের আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া ঢাকা-করাচি সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- নৌ-যোগাযোগ ও বন্দর ব্যবহার: করাচি ও চট্টগ্রাম বন্দরের মধ্যে সরাসরি জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। এর ফলে পাকিস্তান থেকে টেক্সটাইল ও সুতা আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে ওষুধ ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে।
প্রতিরক্ষায় নতুন মাইলফলক: জেএফ-১৭ থান্ডার
বাংলাদেশ এখন তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে পাকিস্তান থেকে জেএফ-১৭ থান্ডার (JF-17 Thunder) যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করছে।
- উচ্চপর্যায়ের বৈঠক: বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান সম্প্রতি ইসলামাবাদ সফর করেন। সেখানে পাকিস্তান বিমান বাহিনী প্রধানের সাথে জেএফ-১৭ বিক্রি ও প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
- প্রশিক্ষণ সহায়তা: পাকিস্তান কেবল যুদ্ধবিমানই নয়, বরং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে উন্নত উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ এবং 'সুপার মুশাক' প্রশিক্ষণ বিমান দ্রুত সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে।
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভারতের অবস্থান
বাংলাদেশের এই স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি প্রতিবেশী দেশ ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিল্লির থিংক ট্যাঙ্কগুলো একে তাদের আঞ্চলিক প্রভাবের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মতো দেশগুলোর সাথে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন নিজের সার্বভৌমত্ব ও আকাশসীমা রক্ষায় আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চাইছে।
উপসংহার
ভারত-নির্ভরতা কাটিয়ে নিজস্ব স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশের এই নতুন কূটনৈতিক অগ্রযাত্রা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন ভারসাম্য তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাকিস্তান ও তুরস্কের সাথে প্রতিরক্ষা এবং বাণিজ্যে এই ঘনিষ্ঠতা বাংলাদেশের আগামীর পররাষ্ট্রনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

No comments: