ব্রয়লার মুরগির কোন অংশ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি? জেনে নিন
অনলাইন ডেস্ক | www.Abnviews.com
মুরগির মাংস বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় একটি প্রাণিজ প্রোটিনের উৎস। এতে প্রোটিনসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে এবং সঠিকভাবে রান্না করলে এটি নিরাপদে খাওয়া যায়।তবে মুরগির কিছু অংশে তুলনামূলকভাবে বেশি চর্বি থাকতে পারে, আবার কিছু অংশে জীবাণু থাকার ঝুঁকি বেশি থাকে। বিশেষ করে কাঁচা মাংস ঠিকভাবে পরিষ্কার, সংরক্ষণ ও রান্না না করলে খাদ্যবাহিত অসুস্থতার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
১. মুরগির চামড়া
মুরগির চামড়ায় মাংসের তুলনায় বেশি চর্বি থাকে। তাই যারা অতিরিক্ত চর্বি ও ক্যালরি কম খেতে চান, তারা চামড়া বাদ দিয়ে মুরগির মাংস খেতে পারেন।
চামড়া খাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মুরগি যেন ভালোভাবে রান্না করা হয়। কাঁচা বা অপর্যাপ্ত রান্না করা মুরগিতে ক্ষতিকর জীবাণু থাকার ঝুঁকি থাকে।
২. মুরগির ফুসফুস
মুরগির অভ্যন্তরীণ অঙ্গ রান্নার আগে ভালোভাবে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ফুসফুসসহ ভেতরের অঙ্গগুলোতে জীবাণু থাকতে পারে।
তাই এগুলো খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা ও পর্যাপ্ত তাপে রান্নার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
৩. মুরগির মাথা
মুরগির মাথা অনেকেই বিভিন্ন রান্নায় ব্যবহার করেন। এটি খাওয়া নিজেই যে অবশ্যই মারাত্মক ক্ষতিকর—এমন সাধারণ দাবি করা ঠিক নয়।
তবে অন্যান্য মাংসের মতোই মুরগির মাথা ভালোভাবে পরিষ্কার ও রান্না করা জরুরি। খাবারে ক্ষতিকর রাসায়নিক বা ওষুধের অবশিষ্টাংশের বিষয়টি নির্ভর করে মুরগি কীভাবে উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে তার ওপর।
৪. নাড়িভুঁড়ি বা অন্ত্র
মুরগির অন্ত্রে জীবাণু থাকার সম্ভাবনা বেশি। তাই এটি পরিষ্কার করার সময় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
বিশেষ করে Salmonella ও Campylobacter-এর মতো খাদ্যবাহিত জীবাণু কাঁচা মুরগির মাংসে থাকতে পারে। সঠিকভাবে পরিষ্কার ও পর্যাপ্ত তাপে রান্না করলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।
৫. মুরগির পা
মুরগির পা অনেক দেশে জনপ্রিয় খাবার। এটি খাওয়া নিজে থেকেই ক্ষতিকর—এমন প্রমাণ নেই।
তবে পা ভালোভাবে পরিষ্কার করা এবং সম্পূর্ণ সিদ্ধ বা রান্না করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপর্যাপ্ত রান্না করা মুরগির যেকোনো অংশ থেকেই খাদ্যবাহিত অসুস্থতার ঝুঁকি থাকতে পারে।
৬. হৃদপিণ্ড, গিলা, গলা ও ডানা
হৃদপিণ্ড
মুরগির হৃদপিণ্ডে প্রোটিনসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। তবে অন্যান্য অঙ্গের মাংসের মতো এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।
গিলা ও গলা
গিলা ও গলার অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করে রান্না করা প্রয়োজন। কাঁচা মুরগির সংস্পর্শে আসা অন্যান্য খাবারে জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ডানা
মুরগির ডানায় মাংসের পাশাপাশি চামড়াও থাকে। ফলে যারা চর্বি কম খেতে চান, তারা চামড়া বাদ দিয়ে খেতে পারেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
মুরগির কোন অংশ খাবেন বা খাবেন না—তার পাশাপাশি মুরগি কীভাবে সংরক্ষণ ও রান্না করা হচ্ছে, সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিরাপদে মুরগির মাংস খাওয়ার কয়েকটি নিয়ম:
- কাঁচা মুরগি পরিষ্কার করার পর হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
- কাঁচা মুরগির জন্য ব্যবহৃত ছুরি ও কাটিং বোর্ড অন্য খাবারের জন্য ব্যবহারের আগে ভালোভাবে পরিষ্কার করুন।
- কাঁচা মাংস ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখুন।
- মুরগির মাংস ভেতর পর্যন্ত ভালোভাবে রান্না করুন।
- দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় কাঁচা মাংস ফেলে রাখবেন না।
- দুর্গন্ধ, অস্বাভাবিক রং বা নষ্ট হওয়ার লক্ষণ দেখা গেলে মাংস না খাওয়াই নিরাপদ।
শেষ কথা
মুরগির সব অংশকেই এক কথায় ‘মারাত্মক ক্ষতিকর’ বলা ঠিক নয়। মুরগির মাংসের নিরাপত্তা অনেকাংশে নির্ভর করে উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সঠিকভাবে রান্না করার ওপর।
তাই স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে পরিষ্কারভাবে প্রস্তুত করা এবং পর্যাপ্ত তাপে ভালোভাবে রান্না করা মুরগির মাংস খাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
নোট: যাদের বিশেষ স্বাস্থ্যগত সমস্যা বা খাদ্যসংক্রান্ত চিকিৎসা-পরামর্শের প্রয়োজন, তারা চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করুন।




