![]() |
| Ai image |
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকে বর্তমান সময়ের প্রযুক্তিগত সম্ভাবনা এবং তরুণদের ভূমিকা নিয়ে এক দূরদর্শী বার্তা প্রদান করা হয়েছে। সেই আলোচনার প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. তরুণ প্রজন্ম: প্রযুক্তির ‘আলাদিনের চেরাগ’
বর্তমান সময়ের তরুণরা পৃথিবীর ইতিহাসের সবচাইতে শক্তিশালী প্রজন্ম। ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে যে, এই তরুণরাই আগামীর বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। তাদের হাতে থাকা প্রযুক্তি যেন এক আধুনিক ‘আলাদিনের চেরাগ’, যা দিয়ে তারা পৃথিবীকে আমূল বদলে দিতে পারে।
২. উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান: চাকরি নয়, সৃজনশীলতা
বক্তব্যে গতানুগতিক ‘চাকরি’ করার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। মানুষের জন্ম হয়েছে সৃজনশীল জীব হিসেবে, কেবল নির্দেশ পালনকারী হিসেবে নয়।
- লক্ষ্য: তরুণদের জন্য এমন পরিবেশ তৈরি করা যেখানে তারা প্রত্যেকে একজন সফল উদ্যোক্তা হতে পারে।
- মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা: আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সার্থকতা কেবল অবকাঠামো নির্মাণে নয়, বরং কতজন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হলো তার ওপর নির্ভর করে।
৩. সরকারি ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও দুর্নীতি রোধ
প্রযুক্তির কাজ হলো পুরনো ও অকেজো নিয়মগুলোকে ছুড়ে ফেলে নতুনকে গ্রহণ করা। নাগরিক সেবা সম্পূর্ণভাবে ডিজিটালাইজড করা প্রয়োজন যেন মানুষকে সরকারি অফিসে যেতে না হয়।
"নাগরিককে যখন আর সরকারের কাছে আসতে হবে না, তখনই দুর্নীতি সমূলে বিনাশ হবে।"
৪. জালিয়াতির কলঙ্ক মুছে বিশ্বমঞ্চে পদার্পণ
বাংলাদেশকে ‘জালিয়াতির কারখানা’ হিসেবে নয়, বরং সৃজনশীলতার কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বে পরিচিত করতে হবে। জাল সার্টিফিকেট বা ভুয়া নথিপত্রের সংস্কৃতি আমাদের আন্তর্জাতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই মেধা ও বুদ্ধিকে ইতিবাচক ও উদ্ভাবনী কাজে লাগিয়ে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সময় এখনই।
৫. বিশ্ব নাগরিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ
তরুণদের কেবল বাংলাদেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, তাদের হতে হবে ‘বিশ্ব নাগরিক’। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশী মেধা ও সম্পদকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে তাদের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
আমাদের অঙ্গীকার
আগামী বিশ্ব সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং পরিবর্তনের গতি অত্যন্ত দ্রুত। এই গতির সাথে তাল মেলাতে না পারলে আমাদের ধ্বংস অনিবার্য। তাই প্রযুক্তিকে বিজয়ী করতে হবে এবং তরুণদের হাতে সেই ক্ষমতা তুলে দিতে হবে যেন তারা একটি বৈষম্যহীন, আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারে।

No comments: