আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী ঐক্য থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে গেছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচনী লড়াইয়ে দলগুলোর শক্তিমত্তা ও জোটের সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
ইসলামী আন্দোলনের জোট ত্যাগের নেপথ্যে
নির্বাচনী ময়দানে চরমোনাইয়ের দল বেরিয়ে যাওয়াকে বিশ্লেষকরা দেখছেন এক নতুন মোড় হিসেবে। মূলত জোটে এনসিপি (NCP)-র অন্তর্ভুক্তি নিয়ে শুরু থেকেই চরমোনাইয়ের দলের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। এছাড়া আসন বণ্টন নিয়েও দলটির প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় তারা জোট ত্যাগের পথ বেছে নেয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইসলামী আন্দোলনের রাজনৈতিক সক্রিয়তা এবং তাদের বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ দলটির ভাবমূর্তি নিয়ে কিছুটা সংশয় তৈরি করেছে।
বিএনপি জোটের সুসংহত অবস্থান
অন্যদিকে, তারেক রহমানের দেশে ফেরার পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট আগের চেয়ে অনেক বেশি গোছানো। বিদ্রোহী প্রার্থীদের সংখ্যা কমিয়ে এনে আসন বণ্টন প্রক্রিয়া তারা প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে। জোটে আসন পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছে জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম। বিএনপি এখন একটি সংহত শক্তি হিসেবে নির্বাচনের মাঠে নামছে।
এনসিপি ও জামায়াত: নতুন এক রাজনৈতিক শক্তি
এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো জামায়াতে ইসলামীর সাথে এনসিপি-র জোটবদ্ধ হওয়া। রাজনৈতিক বোদ্ধারা মনে করছেন, এনসিপি-কে জোটে আনা জামায়াতের জন্য একটি বড় কৌশলগত বিজয়। এনসিপি-র সাথে রয়েছে এক বিশাল তরুণ কর্মী বাহিনী এবং গণঅভ্যুত্থানের পরিচিত মুখগুলো, যারা ভোটারদের, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে দারুণভাবে প্রভাবিত করতে সক্ষম।
১০ দলীয় জোটের নতুন আসন বিন্যাস:
চরমোনাই বেরিয়ে যাওয়ার পর জোটের ভেতরে আসন বণ্টন নিয়ে জটিলতা কমেছে। বর্তমানে বণ্টনকৃত ২৫৩টি আসনের চিত্র অনেকটা এরকম:
- জামায়াতে ইসলামী: ১৭৯টি (যা বেড়ে ২১৫ পর্যন্ত হতে পারে)
- এনসিপি (NCP): ৩০টি
- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (মামুনুল হক): ২০টি
- খেলাফত মজলিস: ১০টি
- এছাড়া এলডিপি, এবি পার্টি ও বিডিপি-র মতো দলগুলোও নির্দিষ্ট আসন পেয়েছে।
ভোটের পরিসংখ্যানে জোটের প্রভাব
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর নিজস্ব ভোট ব্যাংক প্রায় ২৫-৩০ শতাংশ। এর সাথে এনসিপির ৬-৭ শতাংশ তরুণ ভোট যুক্ত হলে তা নির্বাচনী ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে এনসিপির ভোট সারা দেশে ছড়িয়ে থাকায় প্রতিটি আসনে তারা জামায়াতের জন্য সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে।
উপসংহার
চরমোনাইয়ের দল জোট ছাড়ায় জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট এখন অনেকটাই নির্ভার ও সংহত। মামুনুল হকের মতো আলেমদের উপস্থিতি এবং এনসিপির মতো প্রগতিশীল তরুণ শক্তির মিলন এই জোটকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। এই নতুন মেরুকরণ আসন্ন নির্বাচনে একটি তীব্র প্রতিদ্বন্দিতার আভাস দিচ্ছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎকে নতুন রূপ দিতে পারে।
তথ্যসূত্র: BD Views

No comments: