আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের প্রত্যাশীদের জন্য বড় ধরনের দুঃসংবাদ নিয়ে এসেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে দেশটি। মূলত মার্কিন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং 'পাবলিক চার্জ' সংক্রান্ত আইন কঠোর করার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থগিতাদেশের মূল কারণ
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বরাত দিয়ে ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আবেদনকারীরা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর (পাবলিক চার্জ) নির্ভর করতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকেই এই পদক্ষেপ। বর্তমান নিরাপত্তা প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য নতুন কোনো ভিসা ইস্যু করা হবে না।
কারা এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত?
দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ৭৫টি দেশ এই স্থগিতাদেশের আওতায় পড়েছে। উল্লেখযোগ্য কিছু দেশ হলো:
- দক্ষিণ এশিয়া: বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমার।
- অন্যান্য দেশ: রাশিয়া, ইরান, ইরাক, ব্রাজিল, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড ও সোমালিয়া।
ভিসা যাচাইয়ের নতুন ও কঠোর শর্তাবলি
২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া 'পাবলিক চার্জ' বিধানের আওতায় এখন থেকে আবেদনকারীদের অত্যন্ত কড়া স্ক্রিনিংয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। কন্সুলার অফিসাররা ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে নিচের বিষয়গুলো কঠোরভাবে মূল্যায়ন করবেন:
১. আর্থিক সক্ষমতা: আবেদনকারীর পর্যাপ্ত ব্যক্তিগত অর্থিক সামর্থ্য আছে কি না।
২. স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা: আবেদনকারীর বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ার সম্ভাবনা।
৩. দক্ষতা ও শিক্ষা: ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানের যোগ্যতা।
৪. অতীতের রেকর্ড: অতীতে কোনো দেশে সরকারি সহায়তা গ্রহণ বা দাতব্য প্রতিষ্ঠানে থাকার ইতিহাস থাকলে ভিসা সরাসরি নাকচ হতে পারে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগরস স্পষ্ট জানিয়েছেন, সম্ভাব্য 'পাবলিক চার্জ' বা সরকারি বোঝা হতে পারে এমন ব্যক্তিদের অযোগ্য ঘোষণা করার পূর্ণ ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করবে। বর্তমান স্থগিতাদেশে ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে ভিসা পাওয়ার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত রাখা হয়েছে।

No comments: