নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে আসন ভাগাভাগি নিয়ে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এর ফলে জোট ভেঙে যাওয়া এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নতুন কোনো রাজনৈতিক মেরুকরণ বা জোট গঠনের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সমঝোতা কেন ভেস্তে গেল?
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আাতাউর রহমান বর্তমান পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দেন। জানা গেছে:
- আসন নিয়ে দর কষাকষি: ইসলামী আন্দোলন শুরুতে ১০০টি আসন দাবি করলেও পরে তা কমিয়ে ৫০টিতে আনে। কিন্তু জামায়াত ৪০টির বেশি আসন ছাড়তে নারাজ।
- একক সিদ্ধান্তের অভিযোগ: জোটের শরিকদের অভিযোগ, জামায়াত অন্যান্য দলগুলোর (যেমন: এবি পার্টি, এলডিপি) সাথে আলাদাভাবে বৈঠক করে এককভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা জোটের ঐক্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
- স্থগিত সংবাদ সম্মেলন: আজ জোটের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণার কথা থাকলেও আসন নিয়ে মতানৈক্যের কারণে শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়।
"সমঝোতা মানে হলো কেউ কারো ওপর ডমিনেট করবে না। কিন্তু সেই পরিবেশ যদি না থাকে, তবে আসন সংখ্যা বড় কোনো বিষয় নয়।" > — গাজী আতাউর রহমান, মুখপাত্র, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
নতুন মেরুকরণের সম্ভাবনা
পীর সাহেব চরমোনাইয়ের 'ওয়ান বক্স পলিসি' বা ইসলামী ঐক্যের নীতির কথা উল্লেখ করে দলটির নেতারা জানান, তারা এখনো আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময়ের আগে যেকোনো বড় পরিবর্তন আসতে পারে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
অন্যান্য দলের অবস্থান
শুধু ইসলামী আন্দোলন নয়, মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও আসন নিয়ে অসন্তুষ্ট। তারা ২৫-৩০টি আসন দাবি করলেও জামায়াত ২০টির বেশি দিতে রাজি নয়। সমঝোতা না হলে অনেক আসনে প্রার্থী 'উন্মুক্ত' রাখা হতে পারে, যার ফলে জোটের অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে।
সারসংক্ষেপ: নির্বাচনের আগমুহূর্তে আসন ভাগাভাগির এই দ্বন্দ্ব ইসলামী দলগুলোর ঐক্যে বড় ফাটল ধরাতে পারে, যার সুবিধা নিতে পারে অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তিগুলো।

No comments: