ADS

ব্রেকিং নিউজ: ​১. ইরানের কূটনীতি ও সামরিক শক্তি ‘একই মুদ্রার দুই পিঠ’ ​ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান আলোচনা নিয়ে তেহরানে এক গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আব্দুর রাহিম মুসাফি সংসদ সদস্যদের ব্রিফ করেন। ​কঠোর অবস্থান: ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার থেকে তারা এক চুলও সরবে না। ​ওমান সংলাপ: ওমানের মাসকাটে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে তিনি শর্ত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের গ্যারান্টি দিতে হবে। ​২. মহাকাশ প্রযুক্তিতে ইরানের নতুন দিগন্ত: রাডার স্যাটেলাইট 'রাদ' ​ইরান স্পেস এজেন্সি তাদের প্রথম অত্যাধুনিক রাডার স্যাটেলাইট ‘রাদ-১’ এবং ‘রাদ-২’ উন্মোচন করতে যাচ্ছে। ​বিশেষত্ব: এই স্যাটেলাইটগুলো মেঘ, কুয়াশা বা ধুলোবালির মধ্যেও নিখুঁত ছবি তুলতে সক্ষম (SAR প্রযুক্তি)। ​সাফল্য: বছরের শুরুতেই কক্ষপথে পাঠানো জাফার, পায়া এবং কাউসার স্যাটেলাইটগুলো সফলভাবে কাজ শুরু করেছে বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি। ​৩. কানাডায় স্কুলে ভয়াবহ বন্দুক হামলা: ৯ জন নিহত ​কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার টাম্বলডার রিজ শহরের একটি স্কুলে মর্মান্তিক বন্দুক হামলায় অন্তত ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২৭ জন। ​হামলাকারী: পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী একজন নারী ছিলেন, যিনি হামলার পর নিজেই প্রাণ হারিয়েছেন। ​শোক: শান্ত এই পাহাড়ি শহরে এমন ঘটনায় পুরো দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ​৪. ফিলিস্তিন ইস্যুতে জাতিসংঘে সরব আরব ও মুসলিম দেশগুলো ​ইসরাইল কর্তৃক পশ্চিম তীর দখলের চেষ্টার বিরুদ্ধে জাতিসংঘে সোচ্চার হয়েছে আরব লীগ ও ওআইসি (OIC)। দুই ডজনেরও বেশি দেশের রাষ্ট্রদূত এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন: ​ইসরাইলের বসতি সম্প্রসারণ আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। ​একতরফা ভূমি দখল বন্ধ না করলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা অসম্ভব। ​বিবৃতিতে অবিলম্বে ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

নতুন বাংলাদেশ ও 'গুপ্ত-সুপ্ত' রাজনীতির সমীকরণ: একটি বিশ্লেষণ



​জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে, তাকে কেবল ক্ষমতার রদবদল হিসেবে দেখলে ভুল হবে। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের পর এটি ছিল জনগণের মনস্তাত্ত্বিক মুক্তি। কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলোর কিছু কর্মকাণ্ড ও বক্তব্য জনমনে প্রশ্ন তুলছে—আমরা কি তবে সেই পুরনো পথেই ফিরে যাচ্ছি?

১. আন্দোলনের যৌথ মালিকানা বনাম একক দাবি

​জুলাইয়ের আন্দোলনটি কোনো নির্দিষ্ট দল বা নেতার একক কৃতিত্বে সফল হয়নি। এতে ছাত্র-জনতা, সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের মতো দলগুলো, যারা রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের কারণে প্রকাশ্যে আসতে পারছিল না, তারা আড়ালে থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছে। এই বাস্তবতাকে পাশ কাটিয়ে যখন কোনো দল আন্দোলনের পুরো কৃতিত্ব এককভাবে নিতে চায়, তখন তা বিভাজন তৈরি করে।

২. তারেক রহমানের বক্তব্য ও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

​বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সাম্প্রতিক 'গুপ্ত ও সুপ্ত' রাজনীতি বিষয়ক মন্তব্যটি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে একটি সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ। বিগত সরকার যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নিজেদের দলীয় সম্পত্তিতে রূপান্তর করেছিল, এখন যদি বিএনপি জুলাই বিপ্লবের ইতিহাসকে একইভাবে দলীয়করণের চেষ্টা করে, তবে ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মাই আবার ফিরে আসবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

৩. কৃতজ্ঞতার রাজনীতি ও পরিপক্কতা

​রাজনীতিতে কেবল ক্ষমতা নয়, কৃতজ্ঞতাবোধও থাকা জরুরি। বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলো যে মুক্ত পরিবেশে কথা বলছে বা তারেক রহমান যেভাবে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত হচ্ছেন, তার পেছনে রয়েছে সাধারণ মানুষের রক্ত ও ত্যাগ। এই কৃতজ্ঞতা স্বীকার না করে অন্য শরিকদের কটাক্ষ করা বা ছোট করা ক্ষমতার দম্ভেরই প্রতিফলন।

৪. তরুণ প্রজন্মের সচেতনতা

​আজকের তরুণ সমাজ রাজনীতি নিয়ে অনেক বেশি সচেতন। তারা চায় এমন এক বাংলাদেশ যেখানে অবদান অনুযায়ী মর্যাদা দেওয়া হবে। বিভিন্ন ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের পরাজয় প্রমাণ করে যে, তরুণরা কোনো একক দলের আধিপত্য মেনে নিতে রাজি নয়। তারা জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন দেখতে চায়, যেখানে রাষ্ট্র হবে নাগরিকের আর রাজনীতি হবে সেবার মাধ্যম।

৫. আগামীর পথ: কোন দিকে বাংলাদেশ?

​বাংলাদেশ আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে পুরনো লুটতরাজ ও দমনের রাজনীতি, অন্যদিকে জুলাইয়ের ত্যাগের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ। রাজনৈতিক দলগুলো যদি আত্মশুদ্ধি না করে এবং পুরনো দম্ভ বজায় রাখে, তবে ইতিহাসের এই বিশাল সুযোগটি হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।

উপসংহার:

জুলাইয়ের শিক্ষা ছিল ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। রাজনৈতিক ভিন্নতা থাকলেও একে অপরের প্রতি ন্যূনতম সম্মান ও শ্রদ্ধা বজায় রাখাই হোক নতুন বাংলাদেশের রাজনীতির মূল ভিত্তি। ইতিহাস বারবার সুযোগ দেয় না; তাই এই সুযোগটি দলীয় স্বার্থে নষ্ট করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।

No comments:

Advertisement

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে প্রদর্শন করুন (৭২৮x৯০)

Powered by Blogger.